ডাচদের হার, সেমির আশায় নিউজিল্যান্ড

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৪, ২২:০৫
টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার আগ মুহূর্তে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে সুপারটেনে স্থান করে নিয়েছিল ডাচরা। কিন্তু শ্রীলংকার কাছে বড় পরাজয়ে সুপারটেনের শুরুটা মোটেই ভালো ছিল না। এরপরও দমে যায়নি ডাচরা। পরের ম্যাচেই ছিল চমক। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনায় ভরা ম্যাচে জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও শেষ মুহূর্তে হার মানে পিটার বোরেনরা। এমন নানা চমকের কারণে দুই ম্যাচ হেরেও টুর্নামেন্টের আনপ্রেডিক্টেবল দল হিসেবে পরিচিতি পেয়ে গিয়েছিল ডাচরা। তাদের এই খেতাবটা আরো পোক্ত হতে পারতো। আরো একটি চমক দেখাতে পারতো টি-২০ বিশ্বকাপে নবাগত এই দলটি। তবে গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সেই সুযোগ তাদের দেয়নি নিউজিল্যান্ড। ডেথ ওভারে ডাচ ব্যাটসম্যানদের অনুজ্জ্বল ব্যাটিং এবং প্রতিপক্ষের অধিনায়ক ম্যাককালামের ৪৫ বলে ৬৫ রানের ঝড়ো ইনিংসের সুবাদে ৬ বল হাতে রেখেই নেদারল্যান্ডসকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে ব্ল্যাকক্যাপসরা। এই জয়ের সুবাদে টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যাওয়ার রেসেও টিকে থাকলো নিউজিল্যান্ড। টসে জিতে নেদারল্যান্ডসকে ব্যাটিংয়ে পাঠান কিউই অধিনায়ক। তবে অধিনায়ক পিটার বোরেন এবং টম কুপার ছাড়া আর কেউ ভালো রান পাননি। পিটার করেন ৩৫ বলে ৪৯ এবং টম কুপার ৩১ বলে ৪০। আয়ারল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চমক দেখানো স্টিফেন মাইবার্গকে গতকাল আগের চেহারায় পাওয়া যায়নি। মাত্র ১৬ রানেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। এছাড়া মাইকেল সোয়ার্ট ২৬ ও বেন কুপার ১৫ রান করেন। ২০ ওভারে ডাচদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৫১ রান। কাইলি মিলস, ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাক কালাম ও ম্যাক ক্লিনাগান একটি করে উইকেট লাভ করেন। জয়ের জন্য ১৫২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে কিছুটা ধীরেসুস্থে ইনিংসের সূচনা করেন নিউজিল্যান্ডের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিল ও কেন উইলিয়ামসন। তবে চতুর্থ ওভারে দলীয় ১৪ রানে গাপটিল আউট হয়ে যাওয়ায় কিছুটা চাপের মধ্যে পড়ে ব্ল্যাকক্যাপসরা। ফন ডার গুগটেনের ওভারের দ্বিতীয় বলে উইকেট কিপার ব্যারেসির হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন গাপটিল। নবম ওভারে দলীয় ৫৬ রানের মাথায় অপর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কেন উইলিয়ামসনও লগান ফন বিকের বলে একইভাবে উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। তার সংগ্রহ ছিল ২৯ রান। দ্বাদশ ওভারে দলীয় ৮৮ রানে রস টেলরও আউট হন উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে। এবারও বোলার ছিলেন ফন ডার গুগটেন। ১৭ তম ওভারে দলের ইনিংসের সাথে ৬৫ রান যোগ করে ম্যাককুলাম যখন আউট হন তখন জয় থেকে কিউইদের দূরত্ব ছিল মাত্র ১৮ রান। এই সহজ দূরত্ব অতিক্রম করতে কোরি অ্যান্ডারসন এবং জিমি নিশামের খুব একটা কষ্ট হয়নি। গুগটেন ৩টি এবং বিক একটি উইকেট লাভ করেন। ম্যাচ শেষে ডাচ অধিনায়ক পিটার বোরেন বলেন, নিউজিল্যান্ড খুব সহজেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে। তবে আরো কমপক্ষে ১৫টি রান বেশি পাওয়া উচিত ছিল আমাদের। কিন্তু ডেড ওভারে কিউই বোলাররা বেশ চাপের মধ্যে রেখেছিল আমাদের। দুই ওভারে মাত্র ১০ রান পেয়েছি আমরা। আর তাছাড়া ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে আরো আগে আউট করতে পারলে ম্যাচের ফলাফলটা অন্যরকম হতে পারতো। ম্যাচে জেতার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান কেন উইলিয়ামসন সাংবাদিকদের বলেন, নেদারল্যান্ডস দল ইদানিং খুব ভালো করছে। তাদের দলে অনেক ভালো ক্রিকেটার রয়েছে। বিশেষ করে গত ম্যাচে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে যে খেলা উপহার দিয়েছিল, তাতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও ক্লোজ ম্যাচ হবে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু আমরা খুব সহজ পেয়েছি। তাই খুব ভালো লাগছে।