এমন আন্দোলন হবে যা গিনেজ বুকে উঠবে

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৪, ২২:৫১
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া উপজেলা নির্বাচন শেষে আন্দোলনের জন্য জনগণকে প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এমন গণআন্দোলন হবে যেটা গিনেজ বুকে উঠবে। শত কোটি টাকা খরচ করে, ভাড়া করা লোক এনে জাতীয় সংগীত গেয়ে নয়; গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে গিনেজ বুকে নাম লেখানো হবে। সেটাই হবে প্রকৃত রেকর্ড। তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। উপজেলা নির্বাচনের পরই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে। তবে এবার আন্দোলন দিন-তারিখ নির্ধারণ করে হবে না। আমরা আন্দোলনে আছি, আন্দোলন চলবে। আন্দোলনের মাধ্যমেই গণবিরোধী ও গণধিকৃত সরকারের পতন হবে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশের) ‘দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন-২০১৪’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত জাতীয়তাবাদী ঘরানার সাংবাদিক প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের ধারণা বিএনপি নাকি আন্দোলন করতে পারে না। হ্যাঁ, বিএনপি তাদের মতো জ্বালাও-পোড়াওয়ের আন্দোলন করতে পারে না। আওয়ামী লীগের মতো গান পাউডার দিয়ে বাসে আগুন লাগিয়ে মানুষ হত্যা করতে পারে না, লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার আন্দোলন করতে পারে না। বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দল। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই এই সরকারের পতন নিশ্চিত করা হবে। খালেদা জিয়া বলেন, দেশ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে অন্য কোনো খান থেকে। দেশের মানুষ আজ কাজ পায় না। অথচ একটি দেশের হাজার হাজার মানুষ বিনা অনুমতিতে অবৈধভাবে আমাদের দেশে কাজ করছে। প্রতিটি সেক্টরে বড় বড় পদে তাদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো ওয়ার্ক পারমিটও তারা নেয়নি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গলার জোরে সবকিছুতে জিততে চায়। কিন্তু গলার জোর চিরদিন থাকবে না। একদিন জনগণ গলা চেপে ধরবে। কারণ, আল্লাহ অন্যায় সহ্য করেন না। বেগম জিয়া পার্লামেন্টকে ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে বলেন, অবৈধ পার্লামেন্টের পেছনে এত টাকা খরচ করে চালানোর প্রয়োজন নেই। অবশ্য সংসদ বলতে আজকে কিছুই নেই। সেখানে নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। নেই কোনো বিরোধী দল। যা আছে সেটা হচ্ছে অনুগত ও গৃহপালিত বিরোধী দল। অতি দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে আরেকটি নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, নির্বাচন দিতে যত দেরি হবে দেশের ততো বেশি ক্ষতি হবে। আন্দোলন আরও তীব্র হবে। খালেদা জিয়া বলেন, যদি সাহস থাকে তাহলে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবিলম্বে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। এটাই হলো গণতন্ত্রের পথ। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় চার্জ গঠনের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, আমাকে তিন ঘণ্টা বসিয়ে রেখে আরেক জন এসে শুনিয়ে গেলো, আমার নামে নাকি চার্জ গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিচারকরা আজ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। তারা বিচার কাজ রেখে এজলাসের বাইরে গিয়ে টেলিফোনে কথা বলে চার্জ গঠন করে। তিনি বলেন, সরকার সীমাহীন দুর্নীতি করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের কোন উন্নতি হয় না। উন্নতি হয় আওয়ামী লীগ পরিবারের। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে বাড়ি দখল করে, জমি দখল করে। দেশ স্বাধীনের পর পাকিস্তানিদের সম্পত্তি দখলে নিয়েছে। হিন্দুদের বাড়িঘর দখল করেছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, কুইক রেন্টাল প্ল্যান্টের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত। তাদের পকেট ভারি করতেই বিদ্যুতেরে দাম বাড়ানো হয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদকে ইঙ্গিত করে বলেন, এই লোক স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশে ছুটিতে এসে আবার পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন। তাকে করেছেন উপদেষ্টা। আপনার মুখে রাজাকারের কথা শোভা পায় না। জনগণের কাছে ক্ষমা চান। কারণ চোর, বেঈমান ও বাটপারদের দিয়ে ভাল কিছু হবে না। এর আগে বেলা ১১টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ এবং সমাপনী বক্তব্য দেন বিএফইউজের মহাসচিব শওকত মাহমুদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, আবদুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ইলিয়াস খান প্রমুখ। প্রসঙ্গত, আজ রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশের) দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বর্তমান মহাসচিব শওকত মাহমুদ সভাপতি পদে ও মহাসচিব পদে এমএ আজিজ এবং অপর প্যানেলে গোলাম মহিউদ্দিন খান সভাপতি ও মহাসচিব পদে ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহি নেওয়াজ খান সাজু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।