ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘট স্থগিত

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৫
অবশেষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শনিবার দিনভর ছাত্রদল ও বিএনপিপন্থী শিক্ষক নেতাদের সাথে দফায় দফায় মিটিং করে বিকাল ৫টার সময় সিদ্ধান্তে আসে যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ছাত্রদলের আটককৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও ক্যাম্পাসে সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে। এই আশ্বাসে ছাত্রদল সাময়িকভাবে ধর্মঘট স্থগিত করে। আজ রবিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে। ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের আটককৃত সকল নেতা-কর্মীর মুক্তি এবং আগামীকাল সোমবারের মধ্যে ক্যাম্পাসে সকল রাজনৈতিক সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা দিলে সাময়িকভাবে আমরা ধর্মঘট স্থগিত করেছি। এই শর্ত বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হলে আবারো আমাদের লাগাতার ধর্মঘট চলবে। আটককৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে ছাত্রদলের ডাকা ছাত্র ধর্মঘটে আবারও অচল হয়ে পড়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। লাগাতার ছাত্র ধর্মঘটের প্রথমদিনে গতকাল শনিবার ৭টি গাড়ি ভাংচুর করে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এতে গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবল তিনটি বিভাগে পরীক্ষা হয়। আর কোন বিভাগে কোন ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিগত ৫ জানুয়ারির ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ করে সারাদেশে বিএনপি ও জামায়াতের অবরোধ চলাকালে ছাত্রদল ইবি শাখার নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একটি বাস পুড়িয়ে দেয়। সেই গাড়ি পোড়ানোর মামলায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মুক্তাকিনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল ২৯ জানুয়ারি। এরপর তাদের মুক্তি দাবিতে ইবি শাখা ছাত্রদল এ নিয়ে চারবার ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিল। এরমধ্যে প্রথম দুইবার প্রশাসনের আশ্বাসে তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছিল এবং তৃতীয়বার তারা দুইদিন ধর্মঘট পালন করেছিল। গতকাল শনিবার আবার চতুর্থ দফা লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয়। গতকাল ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বেসরকারি দুইটি বাস ঝিনাইদহ শহরে যাওয়ার পথে গাড়াগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ছাত্রদলের কর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বাস দুইটির সামনের ও পিছনের গ্লাস ভেঙ্গে যায়। এছাড়া ঝিনাইদহ শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসার পথে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের নিকটে আরও তিনটি বাসে ভাঙচুর চালায় কর্মীরা। এর আগে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া শহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব দুটি বাসে ভাঙচুর চালায় কর্মীরা।