ল্যানিংয়ের এগিয়ে চলা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২১:১৬
তরুণ ক্রিকেটার ল্যানিং। খুব ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখেছেন ক্রিকেটেই ক্যারিয়ার গড়বেন। করেছেনও তাই। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। তার সেই পথচলা এখন অনুকরণীয় হয়ে ওঠেছে। দুর্বার গতিতে ছুটে চলা এই নারী ক্রিকেটারকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার সামনে। নিয়মিত অধিনায়ক জোডি ফিল্ডস চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ায় নেতৃত্ব চলে এল তরুণ ল্যানিংয়ের কাঁধে। তবে এখানেই তার শুরু নয়। তার বিশ্বকাপ-যাত্রার শুরু নিউজিল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে। যদিও সেবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় তুলে অবশ্য ল্যানিং শিরোপা লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনলেন অস্ট্রেলিয়াকে। সেই সাথে আত্মবিশ্বাসের বেড়ে গিয়েছিল অনেকটাই। সেটারই প্রকাশ ঘটেছিল আইসিসির টুর্নামেন্টে। তরুণ এই ক্রিকেটার বাংলাদেশে খেলতে এসেছিলেন। খেলা পড়েছিল সিলেটে। সিলেটে এসে সবকিছুই ভালো লেগেছে তার। সেই সাথে মাঠ, পিচ সবকিছুরই প্রশংসা করেছিলেন দরাজ কণ্ঠে। তবে মনের মধ্যে ছিল টি-টোয়েন্টির হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন। তিনি জানান, ‘আমরা আগের দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন। আশা করছি, বাংলাদেশ থেকে শিরোপাটা নিয়ে যেতে পারব। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে মেয়েরা সবাই উজ্জীবিত। এটা ধরে রাখাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।’ তিনি তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছিলেন শেষ পর্যন্ত। লক্ষ্যের দিকে হাঁটতে হাঁটতেই পৌঁছে গেলেন রেকর্ডে। সেই সাথে সাফল্যের চূড়ায়। সাফল্যগাথা সেই ম্যাচে ব্যাট হাতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ল্যানিং। আগের দুই ম্যাচে ২ আর ৬ রান করেছিলেন। তবে সেরাটা হয়তো তুলে রেখেছিলেন সামনের ম্যাচগুলোর জন্য। আর ঠিক এই মুহূর্তে তার ঝুলিতে আছে বেশ কিছু রেকর্ড। তার মধ্যে একটি তো আলোড়ন তোলা। নারী ক্রিকেটার বলে প্রচার পান না সেভাবে, তবে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে ইতিহাসে পুরুষ-মহিলা দুই বিভাগেই সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিয়ান (১৮ বছর ২৮৮ দিন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪৮ বলে অপরাজিত ১০৩) এই ল্যানিংই! রিকি পন্টিং ২১ বছর ২১ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে (১৯৯৬ মেলবোর্ন, ১২৩), যেটি ছিল অস্ট্রেলীয় রেকর্ড। তবে খেলাটাই তার কাছে অনেক বড়। রেকর্ড নিয়ে কখনই ভাবেন না ল্যানিং। টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা পাঁচ ইনিংসে ৩০-এর বেশি রান করেছেন, টি-টোয়েন্টির প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার হয়েছেন। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা এই খেলোয়ারের মতে, ‘এটা আমার কাছে বড় কোনো বিষয় নয়। আমি শুধুই খেলায় মনোযোগ রাখছি এবং দলকে চ্যাম্পিয়ন করাই আমার মূল লক্ষ্য।’ শুরুর কথা ও ক্যারিয়ার বাবা-মা অস্ট্রেলিয়ান। তাদের চাকরির সুবাদে মেগ ল্যানিংয়ের জন্ম সিঙ্গাপুরে। সেখানেই বেড়ে ওঠা। মা-বাবার সঙ্গে একসময় চলে আসেন মেলবোর্ন। একটু বড় হতেই ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা শুরু মেলবোর্নের বাড়ির পাশে। ১৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক অভিষেক। আর ২২ বছর বয়সেই চলে আসেন তিনি অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেটে খ্যাতির চূড়ায়। জিতেছেন বেলিন্ডা ক্লার্ক পুরস্কার। জন্ম সিঙ্গাপুরে বলেই হয়তো সিঙ্গাপুর নিয়ে একটু আপ্লুত হয়ে যান অস্ট্রেলিয়ান এই অধিনায়ক, ‘সিঙ্গাপুরে আমার জন্ম। তাই আমি সিঙ্গাপুরের কথা কখনও ভুলি না। তবে একজন গর্বিত অস্ট্রেলিয়ান হয়েই খেলে যেতে চাই ক্রিকেট। অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যই আমার সাফল্য।’