দেশে গণমাধ্যমের ব্যাপ্তি বাড়ছে ক্রমশ। গড়ে উঠছে নতুন নতুন চ্যানেল, প্রোডাকশন হাউস। আর দর্শকদের চাহিদার কথা মাথাই রেখে শিল্পী এবং প্রযোজকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন মানসম্মত কাজের প্রতি। এমনই একটি কাজ মিউজিক ভিডিও নির্মাণ। বর্তমানে পেশা হিসেবে এ ক্ষেত্রটি দারুণ সম্ভাবনাময়। এই পেশায় কীভাবে সম্পৃক্ত হওয়া যায়, ভালো কাজ করা যায় ও সফলতা পাওয়া যায় ইত্যাদি নানা বিষয়ে প্রজন্মকে পরামর্শ দিলেন ব্ল্যাক ক্যাট স্টুডিওর সিইও ও স্বনামধন্য মিউজিক ভিডিও নির্মাতা চন্দন রয় চৌধুরী
মিউজিক ভিডিও নির্মাণের কাজটিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কল্পনাশক্তি। কল্পনাকে বাস্তবতার মিশেলে পর্দায় দৃষ্টিনন্দন করে ফুটিয়ে তোলাই মিউজিক ভিডিও নির্মাতাদের কাজ। আর এই কাজে নির্মাতার সাথে থাকেন ক্যামেরা অপারেটর, লাইটগ্রাফার, মেকআপ আর্টিস্ট, অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ আরও অনেকেই। নাটক, চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র নির্মাণের চেয়ে মিউজিক ভিডিও নির্মাণে ভিন্নমাত্রার সৃষ্টিশীলতা কাজ করে। কারণ মিউজিক ভিডিওগুলো অনেক রঙিন হয়। একটা ৩-৪ মিনিটের মিউজিক ভিডিওতে একটি গল্পের পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপন চাই। কাজেই সেখানে সৃজনশীলতার চ্যালেঞ্জও থাকে বেশি। তাই যারা রঙিন এই মিডিয়া জগতে নিজের ক্রিয়েটিভিটি দেখাতে চান, তাদেরকে এই পেশায় আসার আমন্ত্রণ জানাই। তবে এই পেশার প্রতি শুধু ইচ্ছা ও আগ্রহ থাকলেই চলবে না থাকতে হবে প্যাশন। ভালোবাসা থাকতে হবে কাজের প্রতি। শুধু মিউজিক ভিডিও নির্মাণ বিষয়ক কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম আসলে নেই। তবে দেশে এখন বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিষয়ে ২-৪ বছরের কোর্স রয়েছে। যা আসলে শিক্ষার্থীকে ভিডিও নির্মাণ বিষয়ক জ্ঞানার্জনে সহায়তা করে। তবে ইন্টারনেট থেকে মিউজিক ভিডিও নির্মাণ বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। এছাড়া ভিডিও নির্মাণ বিষয়ক জ্ঞান বাড়াতে প্রচুর ভালো চলচ্চিত্র দেখা জরুরি। এই পেশায় জ্ঞান বাড়ানোর মূলমন্ত্র হচ্ছে—যত দেখবে, তত শিখবে। যেকোনো পেশার মতোই এই পেশায়ও ভালো করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো পরিশ্রম, ডেডিকেশন ও ধৈর্য। আর একজন নির্মাতার দৃষ্টিভঙ্গির স্বকীয়তা থাকা চাই। এরজন্য প্রয়োজন চর্চা। আর মনে রাখতে হবে শুরুতেই অনেক ভালো কাজ করা বা চূড়ান্ত সফলতার আশা না করে নিয়মিত কাজ করে যেতে হবে।
