প্রজন্ম আয়োজন

নীলের রাজ্যে বসবাস

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২১:২৪
নীলের রাজ্যে রয়েছে হাজার অনুভূতির প্রকাশ। নীলের মাঝেই ফুটে হাসি আনন্দের প্রতিচ্ছবি। আর তাই করে দেখিয়েছেন এই প্রজন্মের মেধাবী চিত্রকর মাহবুবুল হক। রাজধানীর গুলশানে ব্রোনিয়া ক্যাফে অ্যান্ড গ্যালারিতে শুরু হয়েছে তার একক চিত্র প্রদর্শনী নীল মেঘের কাব্য। নীলের প্রাধান্যে শিল্পী মাহবুবুলের আঁকা ২৫টি চিত্রকর্ম নিয়ে টানা তিন সপ্তাহব্যাপী শুরু হয়েছে এই চিত্র প্রদর্শনী। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ভাস্কর্য, চিত্রকলা ও নিউ মিডিয়াভিত্তিক চারু ও কারুশিল্পে শিল্পী মাহবুবুল হক পরিচিত নাম। এর আগে বিভিন্ন সময় তার বানানো ভাস্কর্য বেশ ক’টি যৌথ প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হলেও, চিত্রকর্ম নিয়ে এটিই প্রথম একক প্রদর্শনী তার। নীল রঙের প্রাধান্য রয়েছে তার আঁকা এমন ২৫টি চিত্রকর্ম নিয়ে এ প্রদর্শনী চলছে। ছবিগুলো ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে আঁকা। নিজের প্রদর্শনীর নাম নিয়ে শিল্পী মাহবুবুল হকের বক্তব্য, ‘নীল বহুমাত্রিক রং। আকাশের বিশালতা, সাগরের গভীরতার প্রতীক নীল। বলা হয়, বেদনার রংও নীল। ভালোবাসায়ও নীলের প্রভাব।’ বেশ ক’টি মাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও মূলত ভাস্কর্য নিমাণেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এ শিল্পী। চিত্রশিল্পী মাহবুবুল হকের একক চিত্র প্রদর্শনী রাজধানীর গুলশানে ব্রোনিয়া ক্যাফে অ্যান্ড গ্যালারিতে শুরু হয়েছে । গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন আবুল বারক আলভী, দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর এডিটর ইন চিফ আলমগীর হোসেন, ডেপার্ট আর্ট ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোস্তফা জামান মিঠু ও ব্রোনিয়া ক্যাফে অ্যান্ড গ্যালারির কর্ণধার তুশিষ ঘোষের উপস্থিতিতে এই প্রদর্শনী শুরু হয়। প্রথমেই আবুল বারক আলভী বলেন, ‘ছাত্র হিসেবে অনেক আগে থেকেই মাহবুবকে দেখতাম। অনেক ভালো কাজ করত। পড়ালেখা শেষ করার পরে পত্রিকা জগতে পা রাখলেও ছবি আঁকা ছেড়ে দেয়নি। এখানে দেখলাম শুধু নীল নয়, মাহবুবের আকাশও রয়েছে এবং আকাশে বিচরণও রয়েছে।’ ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘মাহবুব তার পছন্দের জায়গায় খুবেই দৃঢ়। প্রকৃত শিল্পীরই এই গুণ থাকে। নীলের প্রতি তার এই মমত্ববোধ হয়তো তার মনের রং খুঁজতেই। প্রত্যেক শিল্পীই চিত্রকর্ম, গান, কবিতার মধ্য দিয়ে তার মনের রং খোঁজার চেষ্টা করেন।’ মাহবুবুল হকের জন্ম ১৯৭৪ সালে ১ জানুয়ারি, মাদারীপুরে। ১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে ফাইন আর্টসে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ঢাবির চারুকলা অনুষদ, জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি ও দলীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনীতে একাধিকবার অংশ নেওয়া ছাড়াও দেশের বাইরে জাপানের টোকিও এবং ইবারাকাসহ ভারতের কারাতানকায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতেও অংশগ্রহণ করেন এ শিল্পী। পাপেট মেকিংয়ের ওয়ার্কশপ করাতে স্কটল্যান্ডের এডিনবরাতেও ছিলেন বেশ কিছুদিন। ১৯৯১ সালে রাজশাহী আর্টস কলেজের ক্লাস বেস্ট অ্যাওয়ার্ডসহ ’৯৭ ও ’৯৮ সালে পরপর দুইবার চারুকলার বার্ষিক প্রদর্শনীতে বিশেষভাবে চিহ্নিত হয় তার শিল্পকর্ম। তবে, শেষ পর্যন্ত নীলই তার আশ্রয় ও ফিরবার জায়গা। এর বিশালতার সামনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবার এক অনন্য মুক্তিই তাকে আঁকতে ও গড়তে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যায়।