নতুনকে গড়ার চেষ্টায়

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২১:২৫
পৃথিবীর আরম্ভ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত জ্ঞান দান করা একটি অত্যন্ত সম্মানীয় পেশা। এই পেশাজীবীরা প্রতি প্রজন্মকে গড়ে তোলেন তাদের মতাদর্শ অনুসারে। তাই প্রতি প্রজন্মের কাছেই শিক্ষক-শিক্ষিকারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। আর সেই মানুষটি যদি হয় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তাহলে তো কথাই নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহানা মাহবুব লিসা এই প্রজন্মের এক সফল মুখ। তাকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন আহসান রনি ১৯৯৯ সালের ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিষয়ে চান্স পেলেও বাংলা বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন শুধুমাত্র সাহিত্যের প্রতি ভালোলাগা থেকেই। তার বাবা ও মা দুজনেই সাহিত্য-ঘরানার মানুষ। কাজেই সাহিত্য আছে তার রক্তে। বাংলা পড়তে পড়তে একে ভালোবাসেননি, বরং ভালোবাসতে বাসতে পড়েছেন এবং শেষপর্যন্ত মনে হয়েছে সাহিত্যের প্রতি আত্মার এই ভালোবাসাটুকু ছড়িয়ে দিতে হবে অনুজদের মধ্যেও। এই ভাবনা থেকেই বাংলা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়া এবং সাহিত্যকে সারাজীবনের জন্য আঁকড়ে ধরা। কেননা সাহিত্য মানুষকে মানবিক করে তোলে প্রগাঢ়ভাবে। তিনি কথাসাহিত্যের নানা ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করেছেন। কী কী কাজ করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ছোটগল্প আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেওয়ায় আমার প্রথম কাজগুলো তার রচনাকর্ম নিয়েই। নজরুলের প্রবন্ধ নিয়েও কাজ করেছি। এছাড়াও অমিয়ভূষণ মজুমদারের উপন্যাস নিয়ে এখন পিএইচডি করছি। তবে কবিতার প্রতি আমার ভালোলাগা কথাসাহিত্যের চাইতেও প্রবল। বিশেষ করে জীবনানন্দ দাশ আমাকে প্রগাঢ়ভাবে আকর্ষণ করে। তাই জীবনানন্দ দাশের কবিতা নিয়েও কাজ করতে চেষ্টা করেছি।’ লিসার মতে, তিনি পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন শিক্ষকতা করতে। ভালোবেসে পড়ান ছাত্রদের। আর বাংলা বিভাগে কাজের পরিসর অসাধারণ। তার শিক্ষকেরা, যারা এখন তার সহকর্মী, তার এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রজীবনে যেমন ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি শিক্ষকতা জীবনেও তারাই লিসার পাথেয়। তাদের পরামর্শ, সহযোগিতা আর উত্সাহ তার এই চাকরিজীবনকে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলেছে। পেশা হিসেবে শিক্ষকতা শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো পৃথিবীতেই সকলের পছন্দের একটি পেশা। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষকতায় গবেষণাকর্মের পরিসর এবং সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন ঢাবির বাংলা বিভাগের এই শিক্ষিকা। নতুনদের কাজের সম্পর্কে মূল্যায়ণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একালের তরুণ গবেষকেরা যারা কাজ করছেন, তারা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তাদের লেখায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে উঠে এসেছে সমকালীন রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা। এছাড়া কাঠামোগত দিক থেকে তারা শুধুমাত্র আর পাশ্চাত্য সাহিত্যের অনুসরণ করছেন না। নতুন কিছু সৃষ্টি করতে সচেষ্ট তারা। তাদের এই চেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই।’ তরুণ প্রজন্মের প্রতি পরামর্শ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘পাঠের বিকল্প নেই। কাজেই আনন্দ নিয়ে যে কোনো বিষয় পড়তে হবে।’ লিসার শৈশব-কৈশোর কেটেছে ঢাকায়। তিনি যখন কিশোরী তখনও ঢাকায় অবারিত সবুজ আর খোলা প্রান্তর ছিল। কাজেই খেলাধুলার সুযোগ পেয়েছেন প্রচুর। আর ছুটি পেলেই চলে যেতেন টাঙ্গাইল শহরে, যেখানে তিনি জন্মেছেন। অসাধারণ একটা শান্ত-সহজ মফস্বল শহর ছিল একসময়; যদিও এখন নেই-তবু নাড়ীর টানে সময় পেলে এখনও বছর-দু’বছরে ছুটে যান সেখানে। লিসার স্বামী একজন শিক্ষক। তাদের দু’বছরের ছোট্ট একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। এদের নিয়েই তিনি ‘লিসা’। তার বেঁচে থাকার বড় উত্স এই দুজন। দুর্নীতিমুক্ত, সুশিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল একটি বাংলাদেশ দেখার স্বপ্ন দেখেন তিনি। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার কাজে নিজেকে উত্সর্গ করতে পারাই তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন বলে জানালের প্রজন্মের সফল এই শিক্ষিকা। সোহানা মাহবুব ডাকনাম :লিসা জন্ম তারিখ ও স্থান :২৫ অক্টোবর, টাঙ্গাইল মায়ের নাম :শাহানা মাহবুব বাবার নাম :ড. মাহবুব সাদিক প্রথম স্কুল :ভিকারুননিসা নূন স্কুল প্রিয় মানুষ :বাবা ও মা প্রিয় উক্তি :A man can be destroyed but not defeated– Ernest Hemingway (The Old Man and The Sea). প্রিয় পোশাক :শাড়ি অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে, গান শুনে, পরিবারের সাথে সময় কাটিয়ে। সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম, সাধনা, সততা আর নিষ্ঠার মিথস্ক্রিয়ায় আসে সাফল্য।