কপিরাইটার

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২১:২৫
বিজ্ঞাপন এই মহূর্তে একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এই ক্ষেত্রটির পেশাজীবন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। যত দিন যাবে এই পেশাদারদের সম্ভাবনা ও চাহিদার পরিধি আরও বাড়বে। প্রতিদিন নিজেকে প্রমাণ করে টিকে থাকতে হয় এই পেশায়। ভালো করতে পারলে সামনে যাওয়ার সুযোগ অনেক। তরুণ প্রজন্ম, সরকার ও অন্যান্য সেক্টরের কাছে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানালেন এই প্রজন্মের কয়েকজন সফল আর্ট ডিরেক্টর। তাদের কথা অনুলিখন করেছেন আহসান রনি আজহারুল আমিন রাসেল আর্ট ডিরেক্টর, বিটপি লিও বার্নেট আর্ট ডিরেক্টর পেশার সবচেয়ে ভালো বিষয়টি হলো নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ। অফিসের পরিবেশটাই থাকে এমন যেখানে কাজের চেয়ে মজাটাই বেশি। তাই ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণাটাও অনেক বেশি থাকে। যারা গত্বাধা কিছু না করে সৃজনশীল কিছু করতে চায় তাদের জন্য এই পেশা। তাই যারা স্বাধীনভাবে নতুন কিছু করতে চায় তারা এই পেশায় যুক্ত হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। বিদেশে শুধুমাত্র অ্যাডভার্টাইজিং নিয়ে স্নাতক করার জন্য বা বিশেষ পড়াশোনার জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। আমাদের দেশে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। সরকারি উদ্যোগে কিছু প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এদেশে দক্ষ লোকজন তৈরি করা হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। এর ফলে এই পেশার মান আরও বাড়বে। কর্পোরেট পর্যায়ে এবং ইউনিভার্সিটিগুলোতে মার্কেটিং আর অ্যাডভার্টাইজিংয়ের আরও অনেক বেশি সেমিনার ও ওয়ার্কশপ হলে স্কিল ডেভেলপমেন্ট হবে বলে প্রত্যাশা তার। গত ১০ বছর আগেও এই পেশার গ্রহণযোগ্যতা খুব বেশি ছিল না। কিন্তু আগামী ১০ বছর পর এই সেক্টর অনেক বড় হবে, অনেক অসাধারণ কাজ হবে, এদেশের আর্ট ডিরেক্টরদের কাজ অনেক বড় ফোরামে অ্যাওয়ার্ড পাবে বলে আশা রাসেলের। শুধু এই পেশার নয়, আমাদের দেশের ব্র্যান্ডগুলোরও চেহারা বদলে যাবে যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের পরিচিতি আরও ইতিবাচক করবে—এই প্রত্যাশা করেন তিনি। নতুন যারা আসে এই পেশায় তাদের সমসাময়িক আর্ট ও ট্রেন্ড সম্পর্কে ধারণা অনেক ভালো। এই পেশায় শেখার গুরুত্ব অনেক বেশি। সবকিছুর সম্পর্কে আপডেট থাকার পাশাপাশি কাজে মনোযোগী ও ক্যারিয়ার সচেতন হয়ে তরুণরাই আমাদের দেশের কমিউনিকেশনের ধারণা বদলে দেবে বলে প্রত্যাশা করেন রাসেল। নাফিস আহমেদ আর্ট ডিরেক্টর, ওগিলভি পণ্য সম্পর্কে সচেতনতা ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কারণে এই পেশার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তিনি এই পেশে থেকে ব্যক্তিগতভাবে সমাজের মানুষের উন্নয়ন ও সচেতনতা আশা করেন। এই পেশায় যারা সফল তাদের সফলতার গল্পগুলো তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়ে, পেশাটিকে অনেক বেশি জনপ্রিয়ও করে তোলা হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। মার্কেটিং ও সৃজনশীলতার সমন্বয়সাধন এই পেশাটির সবচেয়ে ভাল দিক। তাই তরুণদের নিজেকে বিকশিত করার সুযোগটাও অনেক বেশি। তাই তিনি চান আরও বেশি তরুণরা এই পেশায় আগ্রহী হবে। তিনি প্রত্যাশা করেন, শিল্প নির্দেশনাকে সৃজনশীল শিক্ষা প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সর্ব ক্ষেত্রে সৃজনশীলতাকে উত্সাহিত করা হবে। দশ বছর পরে এই পেশাকে আন্তর্জাতিক মানের পেশা হিসেবে দেখতে পাবেন বলে আশা করে নাফিস। ভবিষ্যতের তরুণরা এই পেশাকে তাদের দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাবে ও এই মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পুরস্কার নিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করেন প্রজন্মের সফল এই আর্ট ডিরেক্টর।