সফলতার পথে

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২১:২৫
কথায় আছে, শিক্ষার জন্য এসে সেবার জন্য বেরিয়ে যাও। কিন্তু যেখানে শিক্ষিত একজন বেকার নিজের জন্য বোঝা হয়ে রয়েছে, তিনি কীভাবে অন্যের সেবা করবেন। শিক্ষা পরবর্তী সময় এদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়—চাকরির বয়স পেরিয়ে যায়, তবু না পাওয়া যায় চাকরি, না হওয়া যায় স্বাবলম্বী। একে শিক্ষাজীবনের এক নির্মম পরাজয়ই বলতে হয়। এ বাস্তবতার মধ্যেও ব্যতিক্রম এবং আশাব্যঞ্জক সাফল্য আছে, যা মানুষকে বড় হওয়ার প্রেরণা যোগায়। শিক্ষায় সময়োপযোগী এবং ইতিবাচক ধারা আসার কারণে অনেকেরই জীবন আলোকিত হয়েছে। এদেশে এর বহু উদাহরণ রয়েছে। এমন একজন তরুণ—মাহমুদ। এ ধারায় মাত্র কুঁড়ি বছর বয়সেই বাংলাদেশি এই তরুণ তিন লাখ টাকা বেতনে চাকরি নিয়ে বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে পাড়ি জমিয়েছে। মাহমুদের শিক্ষাজীবনে সেশন জট ছিল না এবং সার্টিফিকেট নিয়ে চাকরির পেছনে ঘুরতে হয়নি। এমনকি শিক্ষাব্যয় নিয়েও তার অসন্তোষ নেই। কেননা তিনি স্বল্পতম সময়ে আন্তর্জাতিক কারিকুলামের শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন, যে সার্টিফিকেট বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এ কারণেই তিনি বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে চাকরি নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন মাত্র দু’বছরের মাথায়। এক্ষেত্রে পেছনের গল্পটি চমকপ্রদ নয়। তবে সেটি সঠিক সিদ্ধান্তের গল্প। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মতো তিনি এইচএসসির পর ঘুরছিলেন। হঠাত্ তার চোখে পড়ল ক্যাটেকের এদেশ থেকেই বিমান প্রকৌশল ডিগ্রি অর্জনের বিজ্ঞাপন। এর পর একটু যাচাই করার জন্য সময় নিয়ে তিনি ভর্তি হয়ে যান অ্যারোনটিক্যাল সায়েন্সে। ক্যাটেকের সাথে ভর্তি ও কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে ৮৯৯১৩৭১ নম্বরে। যেহেতু এডেক্সেলের অধীনে পড়ার সুযোগ ছিল কাজেই এর মান এবং কর্মক্ষেত্র নিয়ে সংশয় রইল না। সফল পর্যায়ে এসে তিনি আজ বুঝতে পেরেছেন তার সিদ্ধান্তটা ছিল জীবনের শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত। যেটা তাকে জার্মানিতে কর্মক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। সবাই চায় উন্নত শিক্ষার সাথে উন্নত পেশা। এ দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যা হয় তা হলো—এক বিষয়ে পড়ে অন্য বিষয়ের চাকরি করা। এটা একটা দুঃখজনক বিষয়। আর কর্মক্ষেত্রটি কোথায় হবে সেটা নির্ভর করে ইচ্ছা এবং উদ্যোগের উপর। বিশ্বায়নের এই যুগে পুরো বিশ্বই এক গ্রাম। আর সব দেশেই কমবেশি সব কর্মক্ষেত্রের সুযোগ আছে। তবে ক্যারিয়ারে সুযোগ-সুবিধার তারতম্য জীবনযাত্রার মান, সিকিউরিটি প্রভৃতির পার্থক্যের কারণেই সবাই উন্নত বিশ্বকে টার্গেট করে। সেদিক দিয়ে মাহমুদেরও লক্ষ্য ছিল পড়ালেখা করে উন্নত বিশ্বে পেশা গড়বেন। মাহমুদ জার্মানিতে গিয়ে শুরুতেই পারিশ্রমিক পেয়েছেন তিন লাখ টাকার কাছাকাছি। বাংলাদেশের একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্য এটি অকল্পনীয়। চিন্তা করলেই বুঝা যাবে, বাংলাদেশ থেকে লেখাপড়া করে এই মানের একটি চাকরি করা কত সৌভাগ্যের বিষয়। বহির্বিশ্বে যাওয়ার পরও মাহমুদ দেশকে ভালোবাসেন পরম কৃতজ্ঞতায়। নিজেকে গর্বের সাথে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেন সর্বত্র। উড়োজাহাজের প্রকৌশল বিষয় নিয়েই তার কাজ। একটি বিমান কেন ওড়ে কীভাবে ওড়ে আর কীভাবে সেটা অ্যাসেম্বেল করতে হয় তা নিয়েই তার পেশা। এটা একটা অসাধারণ বিষয়। এখানে তার ক্যারিয়ারটাও আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের।