আবারও টপঅর্ডার বিপর্যয়

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২২:২৭
দিনে দুটো খেলা থাকলে এক টিকিটেই দু’ ম্যাচ দেখা যায়। তাই প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসের শেষ দিকে আস্তে আস্তে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভরে ওঠে প্রতিদিন। কিন্তু গতকাল সেই প্রথম ইনিংসের শেষ দিকে অনেকে গ্যালারি ছাড়তেই শুরু করলেন। কারণ, বাংলাদেশ যে তখন আরেকটা পরাজয়ের পথে যাত্রা শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের কারণ হিসেবে পাকিস্তানের বিশাল রানকে চিহ্নিত করলেও ব্যাটিং নিয়ে আরো এক দফা হতাশা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। যে বাজে ধারাবাহিকতার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ যাচ্ছে, তাতে ১৯১ রান করে তারা জয় নিয়ে আসবেন; এমনটা অতি আশাবাদীরাও কল্পনা করেছেন বলে মনে হয় না। তবে ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে লড়াইটা তারা আশা করেছিলেন। আরো একবার সে লড়াই শেষ করে দিলেন কার্যত টপ অর্ডার খেলোয়াড়রাই। ষষ্ঠ ম্যাচে পঞ্চমবারের মতো টপ অর্ডারে পরিবর্তন এনেও বাংলাদেশ ফল পেলো না। টপ অর্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা গত কয়েকদিন সিনিয়র ক্রিকেটাররা প্রকাশ্যেই বলছিলেন। এর আগে সাকিব আল হাসান তিন নম্বরে ব্যাট করলেও তাকে নামিয়ে নেয়াটা যে ভুল ছিল এবং সে জন্যই টপ অর্ডার থেকে রান আসছে না; এটাও মেনে নিয়েছিলেন অধিনায়ক। অবশেষে একদিন আগে মুশফিক এবং ম্যাচের আগেরদিন সাকিব ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিন নম্বরে বিপর্যয় এড়াতে সাকিবকে পাঠানো হবে। সাকিব বলছিলেন, ‘আমি তো বেশ কিছু দিন ধরে তিনেই ব্যাট করছিলাম। বিশ্বকাপের আগে অধিনায়ক-কোচ এসে বললো, এখন যখন মিডল অর্ডার সেভাবে রান পাচ্ছে না, আমি ও মুশফিক ভাই যদি চার-পাঁচে ব্যাট করি মিডল অর্ডার দৃঢ় হবে। নয়তো গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে দুই বছর ধরে আমি তিনেই ব্যাট করছিলাম। পরিকল্পনা সে কারণেই পরিবর্তন করা হয়েছিল। আরো দুটি ম্যাচ আছে, দেখা যাক যদি ঐ রকম কোনো পরিস্থিতি আসে আমি তো অবশ্যই প্রেফার করবো।’ গতকাল সেই টোটকা অনুসরণও করা হল। কাগজ কলম বলছে, তাতে ফলও এসেছে। কারণ সাকিব শেষ পর্যন্ত আউট হওয়ার আগে এবারের টুর্নামেন্টের তখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ছক্কাটিসহ ৩২ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলে গেছেন। কিন্তু লাভের লাভ কী হল! সাকিব খেলছেন, তো তামিম-বিজয় ব্যর্থ হচ্ছেন! এদিন তিন নম্বরে সংকট না হলেও দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং একমাত্র ধারাবাহিক এনামুল হক বিজয় ফিরে এলেন দলীয় ৩৬ রানের মধ্যে। দলীয় ৪৭ রানের মধ্যে ফিরে গেলেন চার ও পাঁচ নম্বরে নামা সামসুর রহমান শুভ ও মুশফিকুর রহিম। এই চারজন যথাক্রমে রান করলেন ১৬, ১৮, ৪ ও ২। এরপর নিশ্চয়ই আর খুব বেশি কিছু আশা করার বাকী থাকে না! টপ অর্ডারের এই বিপর্যয় কতোটা ধারাবাহিক হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের জন্য, সেটা স্কোর কার্ডগুলোতে চোখ বোলালেই বোঝা যায়। নেপাল ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি বাদ দিলেন প্রতিটি ম্যাচে শুরুর এই বিপর্যয় ঠিকই হয়ে আছেন যেন। হংকংয়ের বিপক্ষে ৫০ রানে পাচ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৯ রানে সাতটি এবং ভারতের বিপক্ষে ২১ রানে তিনটি উইকেট নেই। আরো পেছনে গেলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয়টিতে দেখা যায় ৪৭ রানে বাংলাদেশ হারিয়েছিল পাঁচ উইকেট। সর্বশেষ বাংলাদেশ বিনা উইকেটে ৫০ রান স্পর্শ করতে পেরেছিল ওই সিরিজের প্রথম ম্যাচে। আর তারপর থেকেই চলছে এই তাসের ঘরের গল্প।