এই বাংলাদেশের বিপক্ষেই এশিয়া কাপের ম্যাচে পেয়েছিলেন সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। গত চার মার্চে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেই সেঞ্চুরির পর আর হাসেনি আহমেদ শেহজাদের ব্যাট।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর আগের দুই ম্যাচে মাত্র ২৭ রান করার পর দলের জায়গা নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন। তবে, সব সমালোচনাকে এক নিমিষে গায়েব করে দিলেন ২২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। আর ম্যাচ শেষে সেঞ্চুরি উত্সর্গ করলেন সেই সমালোচকদেরই, ‘যারা আমাকে নিয়ে অনেক সমালোচনা করেছেন, দেশে কিংবা দেশের বাইরে, তাদের সবাইকে আমি আমার সেঞ্চুরি উত্সর্গ করলাম। এটা আমার পক্ষ থেকে তাদের জন্য উপহার।’
৬২ বলে ১০ চার আর ৫ ছক্কায় সাজানো ঝলমলে এক ইনিংস। আর এই ইনিংসের সুবাদে তিনি হয়ে গেছেন পাকিস্তানের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান। সেঞ্চুরি করার আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে শেহজাদ বলেন, ‘আমি অনেক গর্বিত। ফর্মটা কয়েকদিন ধরে ভাল যাচ্ছিল না। আসলে টি-টোয়েন্টির ফরম্যাটটাই এমন যে এখানে প্রতিদিনই ভাল খেলা সম্ভব নয়। ভাগ্য এখানে অনেক বড় ব্যাপার। এটা সবারই বোঝা উচিত। তাই আমার একটা বড় ইনিংস খেলা দরকার ছিল। সেটা করতে পেরেছি। তাই সব মিলিয়ে আমি আনন্দিত।’
ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে পাকিস্তানের অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজের কণ্ঠের ঝড়লো শেহজাদ-স্তুতি, ‘প্রত্যেকের অবদানের কথা মনে রাখতে হবে। সবাই জানতো এই ম্যাচে জয় আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শেহজাদের ইনিংসটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ম্যাচের আগে ও কিছুটা চাপে ছিল। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে পুরোপুরি সমর্থন করেছে। আর সেই সমর্থনের ফলাফল পাওয়া গেল আজ। ও কি করতে পারে সেটা মাঠেই দেখা গিয়েছে।’
৭১ রানের মধ্যে পাকিস্তানের তিন উইকেট পতনের পর জুটি বাঁধেন সোয়েব মালিকের সাথে। দুজন মিলে যোগ করেন ৮৩ রান। ম্যাচের পর সেঞ্চুরির জন্য সোয়েব মালিককে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান শেহজাদ, ‘তিনি (সোয়েব মালিক) আমাকে বলেছেন, অনেক ওভার বাকি, সহজেই সেঞ্চুরি হয়ে যাবে। আমি তার কথা মতো খেলেছি। আমাদের বোঝাপড়া ভাল ছিল। তাই তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি চেয়েছিলাম গোটা ২০ ওভার খেলতে। টিম ম্যানেজমেন্টও ইনিংসের মাঝে তেমন কিছু একটাই আমার কাছ থেকে চেয়েছিল। আমি শুধু তাই এই পরিকল্পনটা মাফিক ব্যাটিং করেছি।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ছয় সেঞ্চুরি...
খেলোয়াড় দেশ রান প্রতিপক্ষ সাল ভেন্যু
ব্রেন্ডন ম্যাক কালাম নিউজিল্যান্ড ১২৩ বাংলাদেশ ২০১২ পাল্লেকেলে
ক্রিস গেইল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১৭ দক্ষিণ আফ্রিকা ২০০৭ জোহানেসবার্গ
অ্যালেক্স হেলস ইংল্যান্ড ১১৬* শ্রীলঙ্কা ২০১৪ চট্টগ্রাম
আহমেদ শেহজাদ পাকিস্তান ১১১ বাংলাদেশ ২০১৪ মিরপুর
সুরেশ রায়না ভারত ১০১ দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০ সেন্ট লুসিয়া
মাহেলা জয়াবর্ধনে শ্রীলঙ্কা ১০০ জিম্বাবুয়ে ২০১০ গায়ানা
