আসন্ন লোকসভার নির্বাচনে সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর অভাব তীব্রভাবেই অনুভব করছে ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেস। গতকাল রবিবারও দিল্লিতে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিলেও দলের বেশিরভাগ সভা ও কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না তিনি। বলা হচ্ছে, ২০০৪ ও ২০০৯ সালে কংগ্রেসকে ক্ষমতায় আনার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিলো সোনিয়া গান্ধীর। কিন্তু এবারের নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টার, বিজ্ঞাপনসহ বড় সভা, কর্মসূচিতে নেই তিনি।
বর্তমানে তার ছেলে কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু দলের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতার অভিযোগ, তারা সোনিয়ার অভাব বোধ করছেন। নির্বাচনের আগে ছোট ছোট আঞ্চলিক দলের সঙ্গে জোট করার চেষ্টাকালে সোনিয়ার অভাব বোধ করছে দলের নেতারা। বিহারের লোক শক্তি পার্টির সঙ্গে কংগ্রেস জোট করতে ব্যর্থ হওয়ার পর দলটি বিজেপির সঙ্গে জোট করেছে। যথাযথ সম্মান না দেখানোয় তামিল নাড়ুর ডিএমকে দলের প্রধান কে করুণানিধি জোট আলোচনা থেকে বেরিয়ে গেছেন। অথচ করুণানিধির সঙ্গে কখনোই জোট করার জন্য সাক্ষাত্ করেননি রাহুল গান্ধী।
এছাড়া আরেকটি বিষয়ে কংগ্রেস নেতারা উদ্বিগ্ন। সেটা হলো শীর্ষ নেতাদের দলত্যাগ। শীর্ষ নেতৃত্বের ইস্যুতে গত কয়েক সপ্তাহে কংগ্রেস ত্যাগ করেছেন জগদামবিকা ও সাতপাল মহারাজ। যে কারণে শেষ পর্যন্ত পাঞ্জাবের অমৃতসরে বিজেপি নেতা অরুণ জেটলির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী অমারিন্দর সিংকে মানাতে বাধ্য হন সোনিয়া গান্ধী। যদিও এটা ব্যতিক্রমী ঘটনা। সোনিয়া এখন চেষ্টা চালাচ্ছেন কংগ্রেসকে একতাবদ্ধ রাখার জন্য। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের উপস্থিতি বাড়াতে চাইছেন। তিনি অন্ধ্র প্রদেশ, বিহার ও আসামে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। যখনই রাহুল গান্ধী কোনো কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন তখনই সোনিয়া হস্তক্ষেপ করেছেন।
সম্প্রতি তামিল নাড়ুতে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা পি চিদাম্বরম, জিকে ভসন, কেভি থাংকাবালু ও জয়ন্থি নাতারাজন লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে জানান। তখন সোনিয়া গান্ধী জানান, তাদের সিদ্ধান্ত অন্য নেতাদের সরে দাঁড়ানোর কোনো অজুহাত হতে পারে না। জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির প্রধান শারদ পাওয়ার বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করার পরও তিনি যাতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট থেকে বেরিয়ে বিজেপিতে না যান সেটি নিশ্চিত করেন সোনিয়া গান্ধী। কিন্তু এখন কংগ্রেস সভানেত্রীর আরো বড় ভূমিকা দরকার। সোনিয়া সকল মানুষের কথা শোনেন এবং কেউ যে বাইরের মানুষ এই বোধটা কখনই তৈরি হতে দেন না। নির্বাচনে কংগ্রেস ভালো করতে হলে সোনিয়া গান্ধীকে আরো সক্রিয় হতে হবে। কিছু সমাবেশে বক্তব্য দেয়াটা যথেষ্ট হবে না।
১৫তম লোকসভায় এমপিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ:
১৫তম লোকসভায় (২০০৯-২০১৪) এমপিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিলো। তারা ১৮ হাজার ১২১টি বিতর্ক, ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৩৫ প্রশ্ন ও ৩৭১টি বেসরকারি বিল উত্থাপন করেন। পার্লামেন্টে সক্রিয় অংশগ্রহণ এমপিদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মধ্যে অন্যতম। তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সে অঙ্গীকার রেখেছেন।
