টুর্নামেন্ট থেকে অনেক আগেই বিদায় নেয়ার কথা ছিল ডাচদের। তবে নিভে যাওয়ার আগে প্রদীপ যেভাবে দপ করে জ্বলে ওঠে অনেকটা সেভাবেই আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য জয় পায় তারা। ওই জয়েই ছাড়পত্র মেলে সুপার টেনের। সুপার টেনের গল্পটা মোটেই সুখকর ছিল না। প্রথম তিন ম্যাচেই পরাজয়। তবে হাল ছাড়েনি ডাচরা। অধিনায়ক পিটার বোরেন বলেছিলেন, সুপার টেন থেকে অন্তত একটা জয় নিয়ে বাড়ি ফিরতে চাই আমরা। ডাচ জনগণের জন্য এটাই হবে আমাদের উপহার। পিটার বোরেনের সেই প্রত্যাশা অবশেষে পূর্ণ হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রাজার দেশ ইংল্যান্ডকে ৪৫ রানে হারিয়েছে ডাচরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টেস্ট খেলুড়ে কোন দেশের বিপক্ষে এটা নেদারল্যান্ডসের দ্বিতীয় জয়। কাকতালীয়ভাবে দু’টি জয়ই এসেছে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এর আগে ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল তারা। লর্ডসের সেই স্মৃতিকে গতকাল আবার সাগরিকায় ফিরিয়ে আনে বোরেন বাহিনী। উজ্জীবিত ডাচদের কাছে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করে ইংল্যান্ড।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৯ রানের হার দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডের। দুই ম্যাচ হেরে যাওয়ায় টুর্নামেন্ট থেকে আগেই ছুটি হয়ে গিয়েছিল তাদের। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচটি ছিল সে ফ নিয়ম রক্ষার। তবে নিয়ম রক্ষার ম্যাচে মুখ রক্ষা হয়নি ইংলিশদের। লজ্জায় ডোবানো পরাজয়ের দুর্বিষহ স্মৃতির বোঝা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে তারা। কাগজে-কলমে গুরুত্বহীন এই ম্যাচ দেখতে কাল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে জড়ো হয়েছিলেন ইংল্যান্ড সমর্থক ‘বার্মি আর্মি’ পরিবারের শ’খানেক সদস্য। ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের মত করে আনন্দ উল্লাসে মেতে ছিলেন তারা। তবে দিনের আলো নিভতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আনন্দও ক্রমশ নিভে যেতে থাকে। হতাশা নিয়েই শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়েন তারা।
টসে জিতে নেদারল্যান্ডসকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ইংল্যান্ডের অধিনায়ক স্টুয়ার্ট ব্রড। ডাচদের হয়ে মোটামুটি ভালোভাবেই শুরু করেন দুই ওপেনার মাইকেল সোয়ার্ট ও স্টিফেন মাইবার্গ। চতুর্থ ওভারে দলীয় ৩৪ রানে সোয়ার্ট আউট হয়ে গেলেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মাইবার্গকে সঙ্গে নিয়ে হাল ধরেন ওয়েসলি ব্যারেসি। এ জুটি মূল্যবান ৫০ রান যোগ করেন। তবে দ্বাদশ ওভারে দলের রান যখন ৮৪, সেই সময় মাইবার্গকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান রবি বোপারা। এরপর ডাচদের রানরেট ক্রমশ নিচের দিকে নামতে থাকে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট খরচায় ১৩৩ রান সংগ্রহ করে তারা। ৪৫ বলে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন ওয়েসলি ব্যারেসি। এছাড়া তাদের ইনিংসে আরো ৩৯ রান যোগ করেন মাইবার্গ। অধিনায়ক স্টুয়ার্ট ব্রড তিনটি এবং বোপারা ও ক্রিস জর্ডান একটি করে উইকেট লাভ করেন।
জয়ের জন্য মাত্র ১৩৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই কেমন যেনো উসখুস করছিলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। মুদাসসার বুখারী ও ফন বিকের আটোসাঁটো বোলিং সামাল দিকে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেয়েছেন তারা। দলের পক্ষে মাত্র তিনজন ব্যাটসম্যান দুই অংকের রান সংগ্রহ করেন। সেই সংখ্যাও ছিল মাত্র ১৮। করেন রবি বোপারা। এছাড়া ক্রিস জর্ডান ১৪ এবং অ্যালেক্স হেলস ১২ রান করেন। মুদাসসার ও ফন বিক তিনটি করে উইকেট লাভ করেন। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন মুদাসসার বুখারী।
