নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীর গুরুত্ব কতটুকু তা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। কৃষিপ্রধান এ দেশে পানির যেমন বিকল্প নেই, তেমনি পানির উত্স হিসেবে নদী-নালা-খাল-বিল-হাওরের ভূমিকারও শেষ নেই। অতীতে যেমন অনেক সভ্যতা নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল, তেমনি এ দেশে অনেক গুরুত্বর্পূণ স্থান, শহর, নগর নদীর তীরে গড়ে উঠেছে। যেমন রাজধানী ঢাকা বুড়িগঙ্গার তীরে, নারায়ণগঞ্জ শীতলক্ষ্যার তীরে, সিলেট সুরমা নদীর তীরে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিতাসের তীরে ইত্যাদি যা নদীরই অবদান। কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য তথা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে এদেশের নদ-নদীর। কিন্তু সাম্প্রতিককালে নদীকে দূষিত করে তার প্রতিদান দেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিক নদীদূষণ এদেশের জলবায়ু ও জীবনযাত্রার ওপর দীর্ঘ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বা ফেলবে। নদীদূষণের প্রভাবে আমাদের অতিপরিচিত বুড়িগঙ্গা নদী যেন মরতে বসেছে! নদীদূষণের অত্যাচার সহ্য করার ক্ষমতা তার আর নেই। এই বুড়িগঙ্গার জলরাশি দেখলে কে বলবে এটা একসময় জীবন্ত নদী ছিল যার খরস্রোতা পানি সর্বদা প্রবাহিত হতো, নদীর টেউ তীরে আছড়িয়ে পড়তো, জেলেরা মাছ ধরতো, আমোদপ্রেমিরা নৌকায় ঘুরে বেড়াতো! অপরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্পবর্জ্য, নর্দমার বর্জ্য, কীটনাশক, অবৈধ স্থাপনা, পানি প্রবাহ হ্রাস, নাব্যতা হ্রাস, আবর্জনা নিক্ষেপ ইত্যাদি কারণে নদী প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে। নদীদূষণ প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্দোলন ও আলোচনা হচ্ছে। সুন্দর সুন্দর প্রস্তাব, পরিকল্পনা বের হয়ে আসছে। প্রশ্ন হচ্ছে কর্তৃপক্ষ দূষণ প্রতিরোধে কতটুকু উদ্যোগ বাস্তবায়িত করেছে? আমরা জন মানব থেকে শুরু করে নদীর ছোট মাছটিও চায় দূষণমুক্ত নদী। নদীতে ফিরে আসুক প্রাণ, নদী হোক নদীর মতো দুরন্ত, জীবন্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
