এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম জয়

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২১
এই প্রথম বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ আসরে অংশগ্রহণটাকে স্মরণীয় করে রাখলো বাংলাদেশ মহিলা দল। গতকাল সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে শ্রীলংকাকে তিন রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিরল জয়টির দেখা পায় বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ দল অবশ্য এই জয়ের পরেও ‘বি’ গ্রুপের সর্বনিম্ন দল হিসেবেই মূল পর্ব শেষ করলো। শ্রীলংকা নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও পরের তিন খেলাতেই পরাজিত হয় লংকানরা। অপরদিকে বাংলাদেশ প্রথম তিন ম্যাচে হারের পর শ্রীলংকার বিরুদ্ধে এই জয় তুলে নিলো। চার খেলা শেষে উভয় দলের পয়েন্ট সমান হলেও নেট রান রেটে পিছিয়ে থেকে শ্রীলংকার পেছনে থেকে খেলা শেষ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আগামীকাল ‘এ’ গ্রুপের পঞ্চম দল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলে টোয়েন্টি মিশন শেষ করবে সালমার দল। ম্যাচটিতে নবম স্থানের জন্য লড়বে বাংলাদেশ। অধিনায়ক সালমা খাতুন এদিন টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই প্রথম টুর্নামেন্টে আগে ব্যাটিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন সালমা। এর আগের তিন ম্যাচের মধ্যে একটিতে টসে জিতলেও আগে বোলিং করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্বাগতিকরা। কাল প্রথমবারের মত আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে নয় উইকেটে ১১৫ রান তোলে। আগের তিন খেলায় সালমাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ছিল ৭৯। সেই তুলনায় প্রথমবারের মত ১০০ রানের কোটা পার করার পর স্বাগতিক সমর্থকরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে ওঠে। ১১৬ রানে জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শ্রীলংকার ইনিংস নয় উইকেটে ১১২ রানে থেমে গেলে বাংলাদেশ পায় তিন রানের দারুণ এক জয়। বরাবরের মতো এ খেলাটিতেও বাংলাদেশি বোলারদেরই কৃতিত্ব ছিল বেশি। সঠিক সময়ে উইকেট তুলে নেবার পিছনে বোলারদের পাশাপাশি ফিল্ডারদের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। যদিও চারটি সহজ ক্যাচ ফসকানোর কারণে ম্যাচের ভাগ্য প্রায় ঘুরেই গিয়েছিল। স্বাগতিক বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন ডানহাতি মিডিয়াম পেসার পান্না ঘোষ। ১৮ রানে তিন উইকেট দখল করে তিনি শ্রীলংকার ব্যাটারদের হতাশাই বাড়িয়েছেন। এর মধ্যে ছিল নিজের করা দ্বিতীয় ওভারেই দুই উইকেট প্রাপ্তি। চামারি পালগোমপোলাকেস (৮) প্রথমে বোল্ড করার চার বল পরেই এশানি লকুসুরিইয়াগেকে (১) রিটার্ন ক্যাচে ফিরিয়ে দিলে শ্রীলংকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫ ওভারে পাঁচ উইকেটে ৮১। তখনই মূলত খেলায় ফিরে বাংলাদেশ। যদিও এক প্রান্ত আকড়ে ধরে শ্রীলংকার অধিনায়ক শশীকলা সিরিবার্ধানে দলকে একাই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু যোগ্য সঙ্গীর অভাবে শেষ পর্যন্ত জয় হাতছাড়া হয়ে যায়। খেলা শেষে বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। তার মতে, টুর্নামেন্টে ভালভাবে শুরু হবার পরেও শেষটিতে হারের জন্য আসলে তারা প্রস্তুত ছিলেন না। যদিও বাংলাদেশকে সমীহের চোখেই দেখেছিলেন। বিশেষ করে স্বাগতিক বোলারদের দক্ষতা সম্পর্কে তারা সতর্ক ছিলেন। শশীকলা ৩৬ বলে দুটি বাউন্ডারির মারে ৩১ রান করেছিলেন। লতার অসাধারণ ক্যাচে পান্না যখন তাকে সাজঘরের পথ দেখান সেসময়েই মূলত বাংলাদেশ জয়ের সুবাতাস পেতে থাকে। শেষ ওভারের প্রথম বলেই শশীকলা ফিরে যাবার সময় লংকানদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৩ রানের, হাতে ছিল পাঁচ বল। এরপর একটি বাউন্ডারি আসলেও শেষ পর্যন্ত আর জয়ের দেখা পায়নি শ্রীলংকা। এর আগে প্রথমে ব্যাটিং করা বাংলাদেশের ১১৫ রানের সংগ্রহে রুমানার ৪১ রান ছিল সর্বোচ্চ। ৩৪ বলে তিন বাউন্ডারির মারে রুমানা সংগ্রহটির সুবাদে হন ম্যাচ সেরা। এর আগে অবশ্য সালমাও ২২ রান করে দলকে দারুণ সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে ১৮ বলে তার চারটি বাউন্ডারি ছিল বাংলাদেশের ইনিংসের ঝলক। ইনিংসের শেষের দিকে রুমানা ও ফাহিমার (১৪) সপ্তম উইকেটে ৩৪ রানের জুটিও বাংলাদেশকে ১০০ রান পার হতে সাহায্য করে। এছাড়া উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শারমিন আক্তারের ব্যাট থেকে এসেছে ১৮ রান। ২৪ বলে দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন তিনি। খেলাটিতে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে দর্শকরা ১০টি বাউন্ডারি পেয়েছে যা ছিল এখন পর্যন্ত স্বাগতিকদের জন্য সর্বোচ্চ।