মুখের জবাব ব্যাটেও এলো

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২৬
গতকালই স্থানীয় একটি দৈনিকে বেশ ছাচাছোলা একটা সাক্ষাত্কার দিয়েছেন। সেখানে দল নিয়ে, নিজেকে নিয়ে এবং সমর্থকদের নিয়ে বেশ অপ্রিয় সব কথা বলেছেন। সেসব কথা সত্যি, না মিথ্যে তা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে। তবে একটা ব্যাপার বিতর্কের অবকাশ নেই—কথাবার্তায় এক ধরনের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাকিব। ক্ষোভটা ওখানেই শেষ হয়নি, তা গতকাল মাঠেও বোঝা গেল। নানারকম কথাবার্তা নিয়ে যে যন্ত্রণায় পুড়ছিলেন, সেটা গতকাল অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের ওপর উগরে দিলেন। ফলে বেরিয়ে এলো সাকিবের ক্যারিয়ারের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ফিফটি। সাকিবের এই আক্রমণাত্মক ৬৬ রানের ইনিংসের সঙ্গে যোগ হয়েছিল তার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমেরও অনেকদিন পর দেখার মতো একটা ৪৭ রানের ইনিংস। আর দুইয়ে মিলে রেকর্ডই হয়ে গেল বাংলাদেশের। তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ১১২ রানের জুটি করে তবে বিচ্ছিন্ন হলেন এই দু’জন। এই জুটিটি একই সঙ্গে রানের বিচারে বাংলাদেশের যে কোনো জুটির জন্য তৃতীয় সর্বোচ্চ। ১২ রানে পড়ে যাওয়ার পর উইকেটে জুটি বেঁধেছিলেন সাকিব ও মুশফিক। ওয়ানডে ও টেস্টে বাংলাদেশকে অনেক স্মরণীয় জুটি উপহার দেয়া এই দু’জনই যে বর্তমান বাংলাদেশের সেরা দুই ব্যাটসম্যান, সেটা আরেকবার প্রমাণ করলেন এখান থেকেই। ফিফটি থেকে ৩ রান দূরে থাকতে মুশফিক আউট হয়ে যাওয়ায় এই জুটি ভাঙলো, ততক্ষণে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে ১২৪ রানে। এই অবস্থা থেকে বাংলাদেশের স্কোর আরো বড় হল না কেন, এই আফসোস থাকতে পারে; তবে সাকিব-মুশফিক নিজেদের কাজটা করে এসেছেন বলে মানতেই হবে। মুশফিক এই ইনিংসের আগে ছন্দে ছিলেন এবং ছিলেন না; এরকম একটা অবস্থা ছিল! আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অনুশীলন ম্যাচের অপরাজিত ৫৯ রানের পর আর ফিফটি পাননি বা বড় ইনিংস পাননি। তবে প্রায় প্রতি ম্যাচেই টপ অর্ডার বিপর্যয়ের পর হাল ধরেছেন। কালও হাল ধরেছেন এবং নিজের ইনিংসটা বড় করেই ফিরেছেন। ৩৬ বলে ৫টি চার ও ১টি ছয়ে সাজানো ৪৭ রান করে ফিরেছেন ওয়াটসনের বলে ম্যাক্সওয়েলের হাতে ক্যাচ দিয়ে। সাকিবের ব্যাপারটা ভিন্ন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তো বটেই, নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর থেকেই মারকাটারি ফর্মে আছেন সাকিব। রীতিমতো ব্যাটে ঝড় তুলছিলেন তিনি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের বিপক্ষে একেবারেই রান না পাওয়ায় নিজেও হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। অবশেষে সেই হতাশাটা ঝেড়ে ফেলে আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষেই ৩৮ রানের এক ইনিংস খেলেছেন। গতকাল সেটাকে আরো বড় করতে লেগে পড়লেন। মিশেল স্টার্ককে চার মেরে শুরু করেছিলেন। এরপর বোলিংগার ও ওয়াটসনকে দুটো ছক্কা; পরে ছক্কা মেরেছেন একটি ম্যাক্সওয়েলকেও। সবমিলিয়ে ৫২ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো ইনিংস খেলে তবে ফিরেছেন। যদিও স্ট্রাইকরেটের দিক থেকে এটি সাকিবের সবচেয়ে ধীরগতির ফিফটি। কিন্তু এমন সময়ে এই ফিফটির মূল্য তো ওই স্ট্রাইকরেট দিয়ে বোঝা যাবে না।