দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ানোর আশ্বাস মুশফিকের

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২৮
কোন এক ‘অজানা’ সমস্যায় ভুগছে বাংলাদেশ। খোদ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও জানেন না সমস্যাটা আসলে কি। এমনকি দল নিয়ে অনেক রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন, এমনকি বোলিংয়ে ভিন্নতা আনার পরও আসলো না নিদেন পক্ষে স্বস্তির জয়। তাহলে সমস্যা কোথায়? সমস্যা যাই হোক অধিনায়ক বিশ্বাস করেন দ্রুতই সমাধান মিলবে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনে নিজেদের শেষ ম্যাচের পর অধিনায়ক মুশফিক নিজেও মানলেন সমস্যায় ভুগছে বাংলাদেশ। কিন্তু বলতে পারলেন না কি সেই সমস্যা। এরপরও তার কণ্ঠে শোনা গেল সমস্যা কাটানোর আত্মবিশ্বাস,‘আমরা ঠিক বুঝতে পারছি না আমাদের মধ্যে সমস্যা ঠিক কোথায়! বিশ্বকাপটা ভাল গেল না। আমরা দলের মধ্যে থেকে অনেক সময় দলের সমস্যা নাও বুঝতে পারি। বাইরে থেকে যারা ক্রিকেটটা ভাল বুঝেন, তাদের সাথে আমরা কথা বলবো। আশা করি দ্রুতই আমরা ফিরে আসতে পারবো।’ বাংলাদেশ দলের জন্য ২০১৪ সালটা এখন পর্যন্ত সব দিক থেকেই ‘অপয়া’। দুটি সহযোগী দেশের বিপক্ষে জয় বাদ দিলে বাকিটা সময় পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছে তাই। ব্যর্থতার এ মিছিল শুরু হয়েছে সেই শ্রীলঙ্কা সিরিজ থেকে। অনেকদিন পর জয়হীন একটা সিরিজ কাটানোর ভূত বাংলাদেশ টেনে নিয়ে এসেছে এই বিশ্বকাপেও। আফগানিস্তান ও নেপালের বিপক্ষে প্রথম পর্বের জয়কে অর্জন ভাবলে শুরুটাকে ভালই বলতে হয়। এরপর হংকংয়ের কাছে হারটা এলো ঝড়ের মতো করে। তাতে বিধ্বস্ত এলোমেলো। ফলাফল, সুপার টেন পর্বে কোন লড়াই করতে পারলো না স্বাগতিকরা। অস্ট্রেলিয়ার কাছে সাত উইকেটের হার দিয়ে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করলো বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম এর জন্য দুষলেন সুপার টেনের কঠিন গ্রুপকে, ‘হংকংয়ের বিপক্ষে হারার পর সুপার টেনে আমরা পেয়েছি ভারত, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়াকে। তারা তো আর নেপাল-আফগানিস্তান নয়। এরপরও আমরা হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর কিছুটা ভাল খেলেছি এই কটি দলের বিপক্ষে। বলবো না যে, আমরা সমস্যা সম্পূর্ণ কাটিয়ে উঠেছি। সামনে আমরা কিছু সময় পাবো। আশা করি আমরা সব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবো।’ হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শুরু হয় বাংলাদেশের পরাজয় যাত্রা। মুশফিকও মানছেন সেই এক হারের ঝাপটা সামলাতে পারেনি বাংলাদেশ, ‘টুর্নামেন্টটা আমাদের জন্য হতাশাজনক ছিল। তারপর কিছু ইতিবাচক দিক ছিল। সাকিব, বিজয় ভাল ব্যাট করেছে। সাতটা ম্যাচ খেলেছি আমরা। সবগুলো ম্যাচে ভাল খেলতে পারিনি। বিশেষ করে হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর আমাদের মোমেন্টাম নষ্ট হয়ে গিয়েছে।’ গতকাল আরও একবার ব্যর্থ হল বাংলাদেশের টপ অর্ডার। আরেকবার তাই কাঠগড়ায় ওপেনার তামিম ইকবাল। অধিনায়ক এবারও তামিমের জন্য চাইলেন আরও কিছুটা সময়, ‘তামিম কখনওই আমাদের জন্য বোঝা নয়। ওর একটু বেশি সময় লাগছে। আর এই মুহূর্তে ওর পরিবর্তে খেলতে পারে এমন কোন খেলোয়াড়ও আমাদের কাছে নেই। তাই ওর উপরই ভরসা রাখতে হবে। ও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। আশা করি দ্রুতই আমাদের টপ অর্ডারের সমস্যা কেটে যাবে।’ বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ দল কিছুদিনের জন্য মুক্ত হবে ক্রিকেট থেকে। জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। এরপর নভেম্বরে আসার কথা ভারত ও জিম্বাবুয়ের। সেটা মাথায় রেখেই দ্রুত সমস্যার সমাধান চাইলেন অধিনায়ক, ‘আমরা কিছুদিন ছুটি পাবো। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ। তারপর ভারত-জিম্বাবুয়ে এখানে খেলতে আসবে। আমরা এর মধ্যে সবার সাথে কথা বলবো। আশা করি সমাধান আসবে। আমাদের ফিরে আসতেই হবে।’