স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর ‘জিয়াউর রহমান প্রথম রাষ্ট্রপতি’ বলে দেয়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সফররত ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এলান ডানকান। গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি বিস্ময়ের কথা জানান। এদিকে গতকালই অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিতের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডানকান বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে। একই সঙ্গে আগামীতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে।
ডানকানের সঙ্গে বৈঠকের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে আমি তারেক রহমানের দেয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলাম। এ প্রসঙ্গে ডানকান জানান, একটি রাজনৈতিক দল এতো বছর পরে কেন এমন বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করছে তার কোনো ব্যাখ্যা আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা বিস্মিত হয়েছি। পরে তারেক জিয়ার গ্রেফতার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার আলম বলেন, এ মুহূর্তে সরকারের কাছে তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা নেই। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে আমরা পদক্ষেপ নেব।
শাহরিয়ার বলেন, নির্বাচনের পরে জনজীবনে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এলান ‘মিলিনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি)’ লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ সরকারের নেয়া পদক্ষেপে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং ২০১৫ সাল পরবর্তী সময় টেকসই উন্নয়নে আরো সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আলোচনায় এলান শ্রম মন্ত্রণালয়কে সরকারের নির্দেশনায় আরো উন্নয়নের তাগিদ দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে বাঁচাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা যে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলছেন, তা দ্রুত বাস্তবায়নেরও ?তাগিদ জানান তিনি।
ক্রিমিয়া ইস্যুতে ভোট না দেয়া যথার্থ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ক্রিমিয়া ইস্যুতে বাংলাদেশের ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত ছিল যথার্থ। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম) ও জি-৭৭-এর সদস্য হিসাবে কোন দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে বাংলাদেশ অবস্থান নেয় না। এটাই আমাদের নীতি। কোন্ দেশ খুশি, কোন্ দেশ নাখোশ—সেটা বিবেচ্য নয়।
অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ডানকান বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে ব্রিটেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বিপাক্ষিক দাতা দেশ। এনজিওর মাধ্যমে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সরকারের কাজ আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হলে তাদের সঙ্গেও আমরা আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবো। তিনি আশা করেন, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। যাতে করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। পোশাক শিল্প খাতের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত এটি। এ খাতকে মানসম্পন্ন করতে শিল্পের মান উন্নত করা অত্যাবশ্যক। রানা প্লাজা পরিদর্শনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পোশাক খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ব্রিটিশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেক দরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে এসব প্রকল্প সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, পোশাক খাতে ব্রিটিশ মন্ত্রী তার আগ্রহ দেখিয়েছেন।
