বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান গত সোমবার ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর কাছ থেকে সম্মানসূচক ‘পদ্মভূষণ’ পদক গ্রহণ করেছেন। এ বছর ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে এ পুরস্কারের ঘোষণা আসে। শিক্ষা ও সাহিত্যে পদ্মভূষণ পেয়েছেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। পদ্মভূষণ ভারতের তৃতীয় বেসামরিক সর্বোচ্চ সম্মাননা। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি ড. হামিদ আনসারি, প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধে উপস্থিত ছিলেন।
নয়াদিল্লীর রাষ্ট্রপতি ভবনে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী ৬৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ‘পদ্মভূষণ’ উপাধি গ্রহণের পর অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, এ পদকপ্রাপ্তি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক। ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৬২ সালে তিনি পিএইচডি করেন। তার পিএইচডির অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল ‘ইংরেজ আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা (১৭৫৭-১৯১৮)’। ১৯৬৪ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরাল ফেলো হিসেবে বৃত্তি পান। ১৯৬৯ সালের জুন মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের রিডার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। তরুণ বয়সে তিনি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। এছাড়া শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত গণ-আদালতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান দেশে-বিদেশে এর আগেও বিভিন্ন পদক ও পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে আছে: একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি.লিট ইত্যাদি।
