চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটের ঐহিত্যবাহী ‘কুজা রাজার আমবাগান’ নামে পরিচিত বাগানটি পরিচর্যার অভাবে ধ্বংস হতে চলেছে।আমবাগানের গাছগুলো বিভিন্ন জায়গায় মরে পড়ে রয়েছে। কিছু কিছু গাছ নষ্ট হওয়ার পথে। গত ২০১৬ সালে টেন্ডারে ৩ বছরের জন্য বাগানটির দাম ওঠে প্রায় ৫৪ লাখ।চলতি মৌসুমে বাগানের প্রায় দুই হাজার পাঁচশ গাছের আম বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ৫৫ হাজার টাকায়।
গত মঙ্গলবার (২১ মে) প্রকাশ্যে নিলাম ডাকের মাধ্যমে আম গাছগুলো চলতি মৌসুমের জন্য বিক্রি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে কানসাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার নুরুল ইসলাম জানান, সর্বোচ্চ মূল্যে বাগানটি কেনেন স্থানীয় আম ব্যবসায়ী আবদুল আলিম।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কানসাট মৌজার পারকানসাট ও মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর মৌজায় প্রায় ৩২ একর জমিতে ছোট-বড়সহ মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার আমগাছ রয়েছে।বাগানটির পাহারাদার সাইদুর রহমান জানান, ১৯৪০ সালের আগ পর্যন্ত বিশাল এই বাগানটির মালিকানা ছিল ইংরেজদের। দেশ ভাগের পর ব্রিটিশরা বাগানটি তৎকালীন কানসাট এলাকার জমিদার হিসেবে পরিচিত ‘কুজা রাজা’র কাছে বিক্রি করে দেন। বাগানটি কিছুদিন ভোগের পর ‘কুজা রাজা’ তার সকল সম্পদ ছেড়ে দিয়ে ভারতে চলে যান।
কোনো মালিক না থাকায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বিশাল এই বাগান। তখন থেকেই সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় ‘কুজা রাজা’ নামে পরিচিত এই বাগানটি। ১৯৬৬ সালে বাগানটি পরিচর্যা ও দেখাশোনার দায়িত্ব পান ঢাকার হর্টিকালচার। ওই সময় বাগানে অনেক ছোট-ছোট আমগাছ রোপণ করা হয়। প্রায় ৫ থেকে ৬ বছর থাকার পর তারা আমবাগান ছেড়ে চলে যান।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণ
তখন থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বাগানটি দেখাশোনা করেন। কিন্তু জেলা প্রশাসনের সঠিক তদারকি না থাকায় ধ্বংস হতে থাকে বাগানটি। বাগানটির পাশের বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, প্রশাসনের গাফলতির কারণে বিশাল এই বাগানটি আজ ধ্বংস হতে চলেছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তিরা রাতের আধারে বাগানের আমগাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। সঠিক ভাবে পরিচর্যা করা গেলে এখান থেকে সরকারের কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে।স্থানীয়দের দাবি, বাগানটি আম মৌসুমের আগে নিলামে বিক্রি করলে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করা সম্ভব।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক জানান, বর্তমান সময়ে আমের মূল্য না পাওয়ায় কেউ বাগান লিজ নিতে চায়নি। তবে আগামী মৌসুমের আগেই লিজ দেওয়া হবে। ‘কুজা রাজা’র বৃহৎ বাগানটি শিগগিরই পরিদর্শন করে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/অনি
