সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সকল কমিটি গঠন

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০১
দশম জাতীয় সংসদের সব কমিটি গঠন করা হয়েছে। মোট ৫০টি কমিটির মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৪৪টি স্থায়ী কমিটি এবং ৬টি সংসদীয় কমিটি গঠনের কাজ গতকাল শেষ হয়েছে। সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ ও কার্যপ্রণালী বিধি ২৪৬ বিধি অনুযায়ী সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি কারা হবেন তা নির্দিষ্ট করা রয়েছে। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন হয় সংসদ নেতার ইচ্ছা অনুযায়ী। সব কমিটির সভাপতি হয়েছেন আওয়ামী লীগ থেকে। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে কাউকে সভাপতি করা হয়নি। জানা গেছে, জাপার পক্ষ থেকে ৬টি সভাপতির পদ চাওয়া হয়েছিল। ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ থেকেও কাউকে সভাপতি করা হয়নি। এছাড়া বর্তমান সংসদে ১৬ জন স্বতন্ত্র সদস্য থাকলেও তাদের কাউকে সভাপতির পদ দেয়া হয়নি। নবম সংসদের মতো দশম সংসদেও এবার প্রথম অধিবেশনেই সব কমিটি গঠন করা হলো। অবশ্য নবম সংসদে তুলনামূলকভাবে তরুণরা মন্ত্রিসভার সদস্য থাকায় জ্যেষ্ঠ নেতারা সংসদীয় কমিটির সভাপতি হয়েছিলেন। এবার আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ায় তুলনামূলকভাবে তরুণরাই বেশি সভাপতির পদ পেয়েছেন। চার দফায় এবার ৫০টি কমিটি গঠন করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী বা সাবেক সভাপতিকে ওই মন্ত্রণালয়ের সভাপতি করা হয়েছে। তবে গতবার সভাপতি ছিলেন এমন কয়েকজন এবার বাদ পড়েছেন। আবার সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী ছিলেন-এমন কয়েকজনও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ পাননি। একইসঙ্গে আগে সভাপতি ছিলেন না, এমন কয়েকজনকেও এবার প্রথমবারের মতো সভাপতি করা হয়েছে। সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদ নেতা শেখ হাসিনার অনুমতিক্রমে তার পক্ষে গতকাল সংসদে সর্বশেষ ২৬টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ। পরে সেগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়। গতকাল গঠিত ২৬টি কমিটির মধ্যে- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আবুল কালাম আজাদ (সাবেক তথ্যমন্ত্রী), স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডা. দীপু মনি (সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এইচএন আশিকুর রহমান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আফসারুল আমিন (সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান (সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী), নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একাব্বর হোসেন, বিদ্যুত্ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তাজুল ইসলাম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বেগম রেবেকা মোবিন, মত্স্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মীর শওকত আলী বাদশা, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আব্দুল ওয়াদুদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু , বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সাবের হোসেন চৌধুরী, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ড. হাছান মাহমুদ (সাবেক পরিবেশ মন্ত্রী), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভুঁইয়া, কৃষি মন্ত্রণালয়ের মকবুল হোসেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের রেজাউল কমির হীরা (সাবেক ভূমিমন্ত্রী), সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মোজাম্মেল হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মোতাহার হোসেন (সাবেক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী), গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দবিরুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জাহিদ আহসান রাসেল (গতবারও একই মন্ত্রণালয়ের সভাপতি ছিলেন), সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিমিন হোসেন রিমি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডা. আ.ফ.ম রুহুল হক (সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী) এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ফজলে করিম চৌধুরীকে। এমপিদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ সংসদীয় দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে এবং তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার উত্সাহিত করতে সংসদ-সদস্যদের ল্যাপটপ দেয়া হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গতকাল পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাবে সংসদ সচিবালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘সংসদ-সদস্যগণের কানেকটিভিটি সৃজন ও জাতীয় সংসদে ইন্টারনেট এপ্লিকেশন তৈরির কর্মসূচি’র আওতায় এমপিদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ করেন। এসময় স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্যরা যেন অধিবেশনকালে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব আরো সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারেন এবং সে লক্ষ্যে অধিবেশন কক্ষেও যাতে তারা ল্যাপটপ নিয়ে যেতে পারেন ভবিষ্যতে তা বিবেচনা করা হবে। চিফ হুইপ আ.স.ম. ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আশরাফুল মকবুল। ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, হুইপ ও এমপিরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, নবম সংসদের সরকারি ও বিরোধী দলীয় ৩৫০ এমপির জন্য ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ল্যাপটপগুলো কেনা হয়। গত বছরের জুন মাসে শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনের আগেই এমপিদের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ হওয়ায় বর্তমান স্পিকার সরকারের টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহারের উদ্দেশে এগুলো বিতরণ থেকে বিরত থাকেন। এমপিদের মধ্যে বিতরণের জন্য সর্বশেষ মডেলের ল্যাপটপ কেনা হয়েছে। এইচপি ব্র্যান্ডের এসব ল্যাপটপ কোর আই ফাইভ-এর। রয়েছে ৪ গিগাবাইট র্যাম। আর ওজন এক দশমিক ৮ কেজি। আর সঙ্গে দেয়ার জন্য কেনা হয়েছে গ্রামীণফোনের মডেম। এছাড়া এসব ল্যাপটপে ব্যবহূত হয়েছে অরিজিনাল সফটওয়ার। সব মিলে প্রত্যেকটি ল্যাপটপের দাম পড়েছে ৬৭ হাজার টাকা।