বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ তহবিল ও অবসর সুবিধা প্রসঙ্গে

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২১
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের চাকরি শেষে কল্যাণ ও অবসর ভাতা সুবিধা পাওয়ার বিধি চালু রয়েছে। যদিও সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অনরুপ কাজ করে থাকলেও নেই তাঁদের মতো অবসর সুবিধা। বেসরকারি শিক্ষকরা এদেশের ৮০% শিক্ষার্থীর পাঠদান করে থাকেন। অথচ তাঁদের দুর্দশার শেষ নেই। বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের কল্যাণ ও অবসরের টাকা পেতে ৩/৪ বছর লেগে যায়। মাসে মাসে বেতন পেয়ে যাঁদের সংসার চলে না। ধার-দেনায় জর্জরিত। তাঁরা কীভাবে অবসরের সময় এতদিন সংসার চালাবেন। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, অবসরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাঁদের অবসরের সমুদয় টাকা পেয়ে যাবেন। কিন্তু তা আর হয়নি। অবসরের পর তাঁদের অনটন আরো বেড়ে যায়। শুরু হয় অভিশপ্ত জীবন। ছেলেমেয়েদের পড়ার খরচ, মেয়ের বিয়ে, অসুখের চিকিত্সা ইত্যাদি ভর করে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চাকরির বয়সসীমা ৬৫ করা হলেও বেসরকারি শিক্ষকদের বয়সসীমা ৬০ বছর। বেসরকারি শিক্ষকদের একমাত্র ভরসা কল্যাণ তহবিল ও অবসরের টাকা। কিন্তু যদি তার জন্য বছর বছর অপেক্ষা করতে হয়—তা যে কত বেদনার, কত কষ্টের ও কত যন্ত্রণার—ভুক্তভুগিরাই তা জানেন। ছেলেমেয়ের পড়াশোনা, মেয়ের বিয়ে ও সংসারের খরচ মেটানোর চেয়ে আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা নয়। এ দুটি ফান্ডে সরকারের আর্থিক সহায়তা করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। তাছাড়া এ দুটি ফান্ডের বিপরীতে ৪০০ কোটি টাকার জামানত থাকলেও দরিদ্র শিক্ষকদের টাকা দেওয়া হচ্ছে না। সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য নানামুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলও বেশ ভালো। বেসরকারি শিক্ষকদের এক্ষেত্রে ভূমিকা অনেক বেশি। তাই তাঁদের দুর্দশার কথা ভেবে অবসর ও কল্যাণ তহবিলের টাকা আবেদনের ক্রমানুসারে প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। অমূল্য চন্দ্র বৈদ্য, সহকারী অধ্যাপক গোপালপুর কলেজ, গোপালপুর, টাঙ্গাইল