ক্লাইভ লয়েডের মতো প্রতাপশালী নন, ব্রায়ান লারার মতো ব্যক্তিত্বও নেই। এতোকাল পারফরম্যান্সের যা অবস্থা ছিল, তাতে কোনভাবেই তাকে দলের সেরা পারফরমার বলা যেত না। কিন্তু চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়েই নিজেকে চেনালেন ড্যারেন জুলিয়াস গ্যারভে স্যামি। আর সেই চেনানোটা যে কতটা ভয়াবহ সেটা একটা ছোট তথ্য দিলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে - চার ইনিংসে স্যামির স্ট্রাইক রেট ২২৪.৪৪!
২০১০ সালে যখন সেন্ট লুসিয়া থেকে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অধিনায়কত্ব নেন, তখনও সেই দায়িত্বটা আসে হুট করেই। বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তির সাথে বনিবনা না হওয়ায় সরে দাঁড়ান ক্রিস গেইল। সেখানে স্থলাভিষিক্ত হন ড্যারেন স্যামি। সেই ঘটনা হজম করতে ক্রিকেট বিশ্বের সময় লেগেছে প্রায় দু’বছর। ২০১২ সালে তিনি এনে দেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা। ১৯৭৯ সালের পর অনেক প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুললো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোক না সেটা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট! কিন্তু এক টি-টোয়েন্টি দিয়ে কি আর সামগ্রিক চিত্রটা বোঝা যায়! ওয়ানডে ক্রিকেটের অধিনায়কত্বের মধ্যেই চলে গেছে ডোয়াইন ব্রাভোর হাতে। টেস্টের পারফরম্যান্সের গ্রাফটাও সুবিধার নয়। কিন্তু আবারও যখন সেই টি-টোয়েন্টির মঞ্চে ড্যারেন স্যামির ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তখন আবারও স্যামির দাপট, আবারও দারুণ এক টুর্নামেন্ট কাটাচ্ছে ক্যারিবীয়রা। ভারতের বিপক্ষে সাদামাটা ছিল ড্যারেন স্যামির ব্যাট।
ম্যাচেও হারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বাংলাদেশের বিপক্ষেও মাত্র ১৪ রান। আসল রূপটা বের হয়ে আসলো এরপরের দু’টি ম্যাচে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রায় অসম্ভব এক অবস্থা থেকে দলকে টেনে তুললেন। পর পর দু’বলে ছক্কা দিয়ে নিয়ে আসলেন জয়।
সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ছিলেন আরও একধাপ এগিয়ে। ২০ বলে তার ব্যাট থেকে আসলো ৪২ রান। পাঁচ চার আর দুই ছক্কায় সাজানো ইনিংসের সুবাদে ব্যাকফুটে চলে যায় পাকিস্তান। এবার ড্যারেন স্যামির সামনে শ্রীলঙ্কা। এই মিরপুরে বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে তাদের বিপক্ষেই জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই ম্যাচেও ১৪ বলে ৩০ রানের ঝড় এক ইনিংস ছিল স্যামির। সেমি-ফাইনালেও তেমন কিছু একটা করতে পারলে আবারও সেই বিশ্বকাপের ফাইনাল। আবারও ইতিহাস গড়ার হাতছানি!
