মহীরুহের শেষ ঝলক!

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২৪
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটিং বলতেই কেবল পাশবিক শক্তি দিয়ে বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠানো- এই ধারার বিরোধিতা করার মানুষ ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল। সেই ধারার বিপরীতে গিয়ে যারা ক্রমাগত পারফরম করে চলেছেন তাদের একজন হলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। ক্রিকেট বিশ্বে যতটা, নিজ দেশে আরও বড় মহীরুহ। দশক জুড়ে, শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট মানেই মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা। এই বিশ্বকাপ দিয়েই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলতে যাচ্ছেন এই দুই কিংবদন্তী। কুমার সাঙ্গাকারা টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত বলার মতো কোন পারফরম্যান্স করে দেখাতে পারেননি। তবে, শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টটিকে স্মরণীয় করে রাখার মঞ্চটা ভালভাবেই প্রস্তুত করে রেখেছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। সুপার টেনের চার ম্যাচে ৪৪.৬৬ গড়ে করেছেন ১৩৪ রান। সেমিফাইনালে উঠলেও ব্যাটিং নিয়ে সমস্যা গোটা টুর্নামেন্টেই ভুগিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। আর সেই অন্ধকারের মধ্যে আশার আলো হয়ে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই হাজির হয়েছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা ভাল যায়নি। আর নেদারল্যান্ডসকে ৩৯ রানে অল আউট করার পর খুব বেশি ভাল খেলার প্রয়োজনই হয়নি মাহেলার। বড় ঝড়টা আসলো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তবে ১১ চার আর তিন ছক্কায় সাজানো জয়াবর্ধনের ৮৯ রানের ইনিংস চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করতে পারেনি শ্রীলঙ্কার। অ্যালেক্স হেলসের অপরাজিত ১১৬ রানে ইনিংসের কাছে হেরে যান ৩৭ ছুঁইছুঁই এই ব্যাটসম্যান। দুই মাসের বেশি সময় বাংলাদেশে থাকাকালীন সময়ে প্রথমবারের মতো কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচে হেরে গেল শ্রীলঙ্কা। সুপার টেনের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন আপের ধসটা আরও নগ্ন হয়ে সামনে চলে আসে। সেখানে আবারও উজ্জ্বল জয়াবর্ধনে। ৩২ বলে ২৫ রান টি-টোয়েন্টির বিবেচনায় বড় কোন ঘটনা নয়। কিন্তু, সেই ২৫ রানের সুবাদেই আবারও বাঁচলো শ্রীলঙ্কা। ১১৯ রানের মামুলি সংগ্রহ নিয়েই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুললো লঙ্কানরা। শেষটায় রঙ্গনা হেরাথে ঘূর্ণিতে জয়। আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দু’বছর আগে দেশের মাটিতে এই ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে হেরেই শিরোপা স্বপ্নে মাটি চাপা দিতে হয়েছিল শ্রীলঙ্কাকে। এবার কি হারানো যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে? সেটা করতে পারলে তো জয়াবর্ধনে শেষটা স্মরণীয় করার দারুণ এক মঞ্চই পাচ্ছেন!