দুই ‘বুড়ো’ লেগ স্পিনারের লড়াই!

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২৭
টি-টোয়েন্টিতো বটেই, ওয়ানডেতেও তাদের ডাক পড়ে না খুব একটা। এবার কিভাবে যেন ভেঙে গেল তাদেরকে ঘিরে গড়ে ওঠা এতোদিনের সংস্কার। মার্টিন ক্রোর ভাষায়, চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে পুনর্জন্ম ঘটলো লেগ স্পিনের। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা আজ সন্ধ্যা সাতটায় যখন দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে সে সময়ে লড়াইটা মূলত জমে উঠবে দুই লেগ স্পিনারের মধ্যে। স্পিনারদ্বয় হলেন অমিত মিশ্র ও ইমরান তাহির। দুজনের মধ্যে অদ্ভুত এক মিল। সেটা অবশ্যই ওই লেগ স্পিনার পরিচয়ের কারণেই। সীমিত ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাটা দুজনেরই খুব সীমিত। ২০১১ সালে অভিষেকের পর পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ইমরান তাহির খেলেছেন মাত্র ১৩ টি ওয়ানডে আর ১১ টি টি-টোয়েন্টি। অমিত মিশ্র আবার এদিক দিয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে। ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের ওয়ানডে অভিষেক হয় ২০০৩ সালে এই ঢাকার মাটিতেই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই ম্যাচের পর মিশ্র খেলার সুযোগ পেয়েছেন আর মাত্র ২২টি ওয়ানডে। আর চার বছরের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ম্যাচের সংখ্যা ৫; এর ৪টিই চলতি টুর্নামেন্টে! যথেষ্ট সুযোগ না পাওয়ার জেদ কিংবা বাংলাদেশের কন্ডিশন — কারণ যাই হোক না কেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দুজনের জন্যই আবির্ভূত হয়েছে আশীর্বাদ হিসেবে। ইমরান তাহিরের কথাই ধরা যাক। দক্ষিণ আফ্রিকার সাদামাটা পারফরম্যান্সের পরও যে দলটি সেমিফাইনালের টিকেট পেল, তার মূল কৃতিত্ব তো এই ৩৫ বছর বয়সী স্পিনারেরই। না ভুল পড়েননি। সংখ্যাটা সত্যিই ৩৫! লাহোরে বেড়ে ওঠা এই ক্রিকেটার এক সময় খেলেছেন পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ ও ‘এ’ দলে। খেলতেন পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট লিগেও। স্বপ্ন ছিল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর। ভাগ্যের সন্ধানে তাই পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। সেখান থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা। অমিত মিশ্রর গল্পটাও খুব একটা ভিন্ন নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে যখন নিয়মিত ক্লাসিক লেগ স্পিন দিয়ে মাঠ মাতিয়ে যাচ্ছেন, ভারতীয় দল তখন মাতাতেন এক মহীরুহ—অনিল কুম্বলে। তার সাথে আছেন হরভজন সিং। সেই দলে অমিত মিশ্রদের জায়গা কোথায়! ২০০৮ সালের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ওই কুম্বলের ইনজুরির সুবাদেই। সেই অর্থে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা দুজনকেই এনে দিয়েছে নিজেদের কতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের তালিকায় উপরের দিকেই আছে এই দুজনের নাম। চার ম্যাচে ইমরান তাহির নিয়েছেন ১১ টি উইকেট। সমান সংখ্যক ম্যাচে মিশ্রর উইকেট ১০ টি। এইতো গত বুধবার নেটে ইমরান তাহিরকে দীক্ষা দিয়ে গেলেন সর্বকালের সেরা লেগ স্পিনারদের একজন শেন ওয়ার্ন। এর আগে ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটেও ওয়ার্নের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন তাহির। এর জন্য কি দূর থেকে ঈর্ষা করছেন অমিত মিশ্র? মোটেই না! মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে যে তারই সাম্প্রতিক সময়ে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বেশি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকটাও হয়েছিল আবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে! আজ ভাগ্য কার দিকে ঝুঁকবে সেটা আগে থেকে অনুমান করা মুশকিল। তবে মহারণের আগে, এটা নিঃসন্দেহে বলে দেয়া যায় তুরুপের তাস হতে যাচ্ছেন এই বুড়ো দুটি। আজ দ্বিতীয় সেমিফাইনাল খেলোয়াড় ম্যাচ উইকেট সেরা গড় ইকোনমি রেট ইমরান তাহির ৪ ১১ ৪/২১ ৯.১৮ ৬.৩১ অমিত মিশ্র ৪ ১০ ৩/২৬ ৮.৭৭ ৫.২৬