ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসানোর রাতে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালের দিকে বড় পদক্ষেপ ফেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। জার্মান জায়ান্টদের ৩-০ গোলে হারিয়ে গত বছর শেষ চারের হারের প্রতিশোধও নিল তারা। তবে সাবেক দলের জয়ের রাতে শিষ্যরা হতাশই করেছেন হোসে মরিনহোকে। লিগ ওয়ান শিরোপাধারী প্যারিস সেন্ট জার্মেইর কাছে ৩-১ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্নে বড় ধাক্কা খেয়েছে মরিনহোর দল চেলসি।
রায়ো ভালেকানোর বিরুদ্ধে সর্বশেষ লিগ ম্যাচে ৫-০ গোলে জিতলেও সাম্প্রতিক বাজে পারফরম্যান্সের কারণে গত রবিবার সমর্থকদের দুয়োই শুনতে হয়েছিল রোনালদোকে। তবে আবার রিয়াল সমর্থকদের মন রাঙ্গাতে বেশি সময় নিলেন না রোনালদো। পুরো ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলা এই স্ট্রাইকারকে যোগ্য সাহচার্যই দিয়েছেন ইসকো-গ্যারেথ বেলরাও। আর এই তিন তারকার লক্ষ্যভেদে টুর্নামেন্টের গত আসরের রানার্সআপদের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়লো রিয়াল।
টুর্নামেন্টের গত আসরের সেমিফাইনালে প্রথম লেগে রিয়ালকে চারগোলে বিধ্বস্ত করে অনেকটা চমকেই দিয়েছিল ডর্টমুন্ড। সুযোগ পেলে ডর্টমুন্ড যে আরো একবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে চাইবে, ম্যাচের আগে শিষ্যদের সেটা মনেও করিয়ে দিয়েছিলেন রিয়াল কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তি।
জার্মান প্রতিপক্ষকে কোন সুযোগ না দিতেই কিনা ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের তোড়ে তাদের ভাসিয়ে নিতে চাইলো রিয়াল। আর ফলাফলটাও পাওয়া গেল দ্রুতই। ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটে রিয়াল এগিয়ে যায় দল বদলের বিশ্বরেকর্ড গড়ে চলতি মৌসুমে ক্লাবে যোগ দেয়া বেলের হাত ধরে। এরপর ২৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসকো।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ১২ মিনিটে সান্তিয়াগো বার্নাবুকে উন্মাতাল করে দিয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে দুবছর আগে মেসির গড়া এক চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক মৌসুমে ১৪ গোলের রেকর্ডেও ভাগ বসান রোনালদো। প্রত্যাশা অনুযায়ী সবকিছু চলতে থাকলে হয়তো পরের ম্যাচেই রেকর্ডটি নিজেরই করে নেবেন পর্তুগীজ অধিনায়ক। খেলা শেষের মিনিট দশেক বাকি থাকতে রোনালদোকে তুলে নেন অ্যানচেলোত্তি। যদিও ম্যাচ শেষে সমর্থকদের আশ্বস্ত করে অ্যানচেলোত্তি বলেন, ‘ক্রিশিয়ানোর হাঁটুতে চোট আছে। আর তাকে নিয়ে কোন ঝুঁকি নিতে চাইনি বলেই এটা করা হয়েছে। তার সমস্যা মোটেই গুরুতর কিছু নয়। চোটটি খুবই সামান্য।’
দলের পারফরম্যান্সে সন্তোষ জানিয়ে এই ইটালিয়ান আরো বলেন, ‘দলের মানসিকতা এবং গোল করায় দক্ষতা দেখে আমি সন্তুষ্ট। এটা মোটেই সহজ ম্যাচ ছিল না। তবে আমাদের শুরুটা ছিল বেশ চমত্কার। যদিও আস্তে আস্তে আমাদের গতি কিছুটা ধীর হয়ে আসে। ফিরতি লেগের দিকে এখন তাকিয়ে আছি আমি। তারা খুবই বিপজ্জনক দল।’
এদিকে রিয়ালের জয়ের রাতে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর মাঠে ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে চেলসি। এজাকুয়েল লাভেজ্জির গোলে পিছিয়ে পড়ার পর এডেন হ্যাজার্ডের গোলে সমতায় ফিরলেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি চেলসি। আর এই হারের পেছনে মরিনহো দায়ী করেছেন স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতাকেই। স্যামুয়েল ইতোর ইনজুরি আর ফার্নান্দো তোরেসের বাজে ফর্মের কারণে আন্দ্রে স্কুরেলকে প্রধান স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলানোর কৌশল কোন কাজে আসেনি। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে তোরেসকে বদলি হিসাবে নামাতে বাধ্য হন মরিনহো। যদিও ফলাফল শূন্যই থাকে।
