মেডিক্যাল ছাত্রী মিথিকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৯
রাজধানীর হাজারীবাগে জেডএইচ সিকদার উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সাউদিয়া আক্তার মিথিকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। মিথি হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আরিফ বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে এই হত্যার কথা স্বীকার করেছে। গত বুধবার সকালে হাজারীবাগ সুলতানগঞ্জের ৩/৫ নম্বর সচিবের গলির বাসার ষষ্ঠ তলার একটি কক্ষ থেকে মিথির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই কক্ষটি সাবলেট হিসেবে ভাড়া নিয়ে আরিফের সঙ্গে ‘লিভটুগেদার’ করতেন মিথি। হাজারীবাগ থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত আরিফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। কিভাবে সে মিথিকে হত্যা করেছে তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে। আদালত আরিফকে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, সাক্ষী হিসেবে মিথি যে বাসায় থাকতো সেই বাসার বাসিন্দা নুসরাত সাথী, মিথির বান্ধবী রোমানা নাজনীন ও তার কথিত প্রেমিক অনিও আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। পুলিশ খুব শিগগির এই মামলার চার্জশিট দিবে বলে তিনি জানান। লাশ ঝুলিয়ে রাখতে চেয়েছিল আরিফ: বৃহস্পতিবার আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে আরিফ বলে, রাতে মিথির বান্ধবী রোমানা ও তার কথিত স্বামী অনিসহ দীর্ঘ সময় আড্ডা দেয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিথির সঙ্গে তার ঝগড়া শুরু হয়। এসময় তারা নিজেদের কক্ষে চলে যায়। ঝগড়ার বিষয়টি যেন বাইরে থেকে কেউ বুঝতে না পারে এজন্য সে উচ্চ শব্দে গান বাজাতে থাকে। এসময় তারা দুজন একে অপরের ওপর হামলা করে। এক পর্যায়ে আরিফ মিথির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে বালিশ চাপা দিয়ে রাখে কিছু সময়। মিথির মৃত্যু হলে সে গলায় ওড়না বেঁধে সিলিং ফ্যানে ঝোলানোর চেষ্টা করে। কিন্তু মিথির ওজন বেশি হওয়ায় একা ঝোলাতে ব্যর্থ হয়। পরে মেঝেতে মিথিকে শুইয়ে রেখে সাথীকে বিষয়টি জানায়। পাশের কক্ষ থেকে উঠে আসে রোমানা ও অনি। আরিফের বিভ্রান্তিকর কথায় তারা বুঝতে পারে। কিন্তু নিজেরাও ফেঁসে যাবে বলে বিষয়টি গোপনের চেষ্টা করে। ভোরে বিষয়টি মিথির মাকে জানায়। পরে খবর পেয়ে সকালে পুলিশ গিয়ে মিথির লাশ উদ্ধার করে ও আরিফসহ অপর তিনজনকে আটক করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানার এস আই হালিম জানান, আরিফ সবকিছু স্বীকার করেছে। এছাড়া অপর তিনজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যের পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।