শীত পেরিয়ে এসেছে গরম। সেই সঙ্গে তাপদাহ। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাপমাত্রার এই বাড়তি মেজাজে তরুণরা ভুগছে অস্বস্তিতে। তাপমাত্রার এই মেজাজ আর চারপাশের যান্ত্রিকতা কেড়ে নিচ্ছে পরিবেশের স্বাভাবিক তারল্য। আর তাই এই গরমে তরুণদের স্বস্তি দিতে পারে এই সময় এমন পোশাক পরা উচিত। এ নিয়ে এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের অন্যসব অভ্যাসের পাশাপাশি পোশাক-আশাকেও নানা পরিবর্তন আসে। গরমের কথা মাথায় রেখে তরুণরা চান আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল পোশাক পরতে। আরামদায়ক পোশাকের জন্য কেউ কেউ ঢুঁ মারছেন ফ্যাশন হাউসগুলোতে, কেউ আবার টেইলার্সের দোকান থেকে তৈরি করে নিচ্ছেন সুতি কাপড়ের পোশাক। কিন্তু প্রকৃত অর্থে কেমন হওয়া উচিত গরমের পোশাক? এ নিয়ে প্রায়ই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগতে হয় তরুণদের। সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে এই গরমে অবশ্যই কৃত্রিম এসব পোশাক এড়িয়ে চলতে হবে। পাতলা সুতি কাপড়ের পোশাক পরলে একদিক থেকে যেমন গরম কম লাগবে, অন্যদিকে আরামও লাগবে। ফলে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করা যাবে। পাতলা তাঁত ও খাদি কাপড়ের পোশাকও এ সময় পরা যায়। গরম এলেই সুতি কাপড়ের প্রসঙ্গ চলে আসে। মেয়েদের উচিত পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই ধরনটিকে প্রাধান্য দেওয়া। আর রং নির্বাচনেও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এই গরমের পোশাকের ক্ষেত্রে সাদা, হালকা গোলাপি, হালকা বেগুনি, হালকা নীল, বাদামি, আকাশি, হালকা হলুদ, ধূসরসহ হালকা রঙের পোশাকগুলো প্রাধান্য পাবে। গরমে সাদা ও অন্যান্য হালকা রঙের পোশাক শুধু তাপ শোষণই করে না, সেই সঙ্গে চোখকে দেয় প্রশান্তি। তবে গরমকালে সাদা রঙের পোশাকের জয়জয়কার সবসময়ই। আবার পোশাকে খুব বেশি টাইট ফিটিংস হলেও কিন্তু সেটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক হবে না। একটু ঢিলেঢালা হলেই বরং ভালো হয়। যারা হাইনেক পরেন তারা এ গরমে একটু কলার ছাড়া বড় গলা পরে দেখতে পারেন। আরাম পাবেন। আর হাতাও অবশ্যই ছোট দিতে হবে। গরমে ফুল স্লিভ কিংবা থ্রি-কোয়ার্টার আরামদায়ক নয়। গরমে খুব উজ্জ্বল আর গাঢ় রং মোটেও শোভন নয়। হালকা রঙের পোশাক পরলে আপনাকে যেমন দেখতে ভালো লাগবে তেমনি আপনি স্বস্তিতে চলাফেরা ও প্রয়োজনীয় কাজটাও করতে পারবেন। সুতি কাপড়ের সাথে লিনেন, দুপিয়ান, ভয়েল, মসলিন, চিকেন ও তাতের কাপড় গরমের জন্য বেশ উপযোগী। উত্সবে পরতে পারেন কৃত্রিম মসলিন বা পাতলা চোষা কাতান। আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো বেশিরভাগই সুতি কাপড় দিয়ে তাদের পোশাক তৈরি করে থাকেন। কাজেই আপনার পছন্দসই পোশাক কিনে নিতে পারেন যেকোনো ফ্যাশন হাউস থেকে। আবার চাইলে আপনি নিজেই হতে পারেন আপনার পোশাকের ডিজাইনার। বাজারে এরই মধ্যে এসে গেছে গরমের উপযোগী রং ও ডিজাইনের থান কাপড়। সেখান থেকেও পছন্দের কাপড়টি কিনে ইচ্ছামতো ডিজাইন করে টেইলার থেকে বানিয়ে নিতে পারেন পোশাক। ডিজাইনে বৈচিত্র্য আনার জন্য লাগিয়ে নিতে পারেন লেইস কিংবা পাইপিন, বর্ডার। এতে আপনি শুধু স্বস্তিদায়ক পোশাক যে পাবেন তাই-ই না, নিজের পোশাক নিজে ডিজাইন করার জন্য এক ধরনের আত্মতৃপ্তিও পাবেন।
এ তো গেল পোশাকের কথা। কিন্তু সাজ? এই গরমে পোশাকের পাশাপাশি চাই মানানসই সাজও। গরমে ভারী মেকআপ একদমই বেমানান। ঘাম, ধুলোবালিতে মেকআপ গলে একেবারে বাজে অবস্থা হয়। তাই মেকআপ করার আগে অবশ্যই কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এ সময়ে লিক্যুইড ফাউন্ডেশন না দেওয়া ভালো। আর দিলেও অবশ্যই ওয়াটার বেইজড হতে হবে।
দরদামের রকম ফের
সময়োপযোগী কাপড় বুটিক হাউসগুলো ঘুরে কিনতে পারেন। এছাড়াও আইডিয়া দিয়ে নিজের পছন্দ অনুযায়ী পোশাকটা বানিয়ে নিতে পারেন। বাজারে গজ কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। আছে মসলিন, এমব্রয়ডারি করা সুতি কাপড়, লেস লাগানো সুতি কাপড়, চিকেন কাপড়, ওয়াটার প্রিন্ট ইত্যাদি। মসলিন কাপড় প্রতি গজ ১২০ থেকে ১৫০, এমব্রয়ডারি করা সুতি কাপড় ২৫০ থেকে ৪০০, লেসসহ সুতি কাপড় ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। চিকেন কাপড়ের মধ্যে দেশি-বিদেশিসহ আছে নানা ভ্যারিয়েশন। প্রতি গজের দাম পড়বে ১৮০ থেকে ১২০০ টাকা। লেসসহ সুতি চেক ২০০ থেকে ৩৫০, কাতান মোটিফের সুতি কাপড় প্রতি গজ ৪০০, পয়সা মোটিফের প্রতি গজ ২৩০, পাড়সহ বুটি দেওয়া প্রতি গজ সুতি কাপড় ২২০, প্রতি গজ সিল্কের দাম ১৫০ থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। স্বর্ণ কাতান ১২০ টাকা। তাঁতের কাপড় কোয়ালিটি অনুযায়ী প্রতি গজ ৫০ থেকে ১৩০ টাকা। ঢাকার গজ কাপড়ের বড় মার্কেটগুলোর মধ্যে আছে—নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনীচক, ইসলামপুর ও মৌচাক। ইস্টার্ন প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি, পিংক সিটি, মাসকট প্লাজা, নর্থ টাওয়ার, রাইফেলস স্কয়ারেও পাওয়া যর্।াবে এসব কাপড়। গজ কাপড় কেনার ক্ষেত্রে বহরটা জেনে নিতে হবে। দুই থেকে সাড়ে তিন হাত পর্যন্ত বহর হয় এ কাপড়ের। ছেলেরা শার্টের জন্য পিস হিসেবে কাপড় কিনতে পারেন। এসব কাপড়ের বড় মার্কেট এলিফ্যান্ট রোড ও বঙ্গবাজার। এছাড়া বিভিন্ন টেইলারিং শপেও শার্টের কাপড় কেনা যায়।
মডেল মুসকান
মেকআপ হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল
