সফলতার চূড়ায় লিন্ডা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ১৮:৫৯
কিশোরী মেয়েটির কিছুই ছিল না। শুধু দক্ষতাকে সম্বল করে এগিয়ে গেছেন। ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উঠে পড়েছেন সফলতার চূড়ায়। খুব ছোট কাজ দিয়ে শুরু করেও আজ পেয়েছেন বিপুল সফলতা। তার সাফল্যের গল্পটি জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম প্রায় চার বছর আগের কথা, ১৫ বছর বয়সী এক মেয়ে, লিন্ডার জীবনটা ছিল একাকী, দারিদ্রতায় ঘেরা। তবে তার জীবনটা শুরু থেকেই এমন ছিল না। অনেক সুখে কেটেছে তার শৈশব। তাকে ঘিরে ছিল বাবা-মায়ের ভালোবাসা। ছিল ভাই-বোনের ভালোবাসা। হঠাত্ তার মা মারা গেলেন। তার বাবা হারালেন তাদের সমস্ত সম্পত্তি। ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নামে তার। হারান সবকিছুই। ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা করানো পরে, তাদের জন্য খাবার যোগানোই তার জন্য কষ্টকর হয়ে যায়। তিনি আর সামলাতে পারছিলেন না। তার ছেলেকে একটি খামারে কাজ করতে দেন। আর দুই মেয়ের একজনকে সাথে নিয়ে চলে যান অজানা কোথাও। অপরজন থেকে যায় সেখানেই। অবহেলায় পড়ে থাকে মেয়েটি। পেটের দায়ে একসময় পাড়ি দেয় নিউইয়র্ক শহরে। বলা যায় সেখানে থেকেই বদলে যায় তার ভাগ্য। শুরুতে পথে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। একদিন এক পথিক তাকে রাস্তার পাশে বসে থাকতে দেখলেন। তার খুব মায়া হলো, শীতের সময় মেয়েটা এভাবে পড়ে আছে দেখে। তিনি তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। এভাবে অনেকেই সাহায্য করে তাকে। তিনি একসময় উপলব্ধি করেন এ পৃথিবীতে একা নন তিনি। আশপাশে অনেকেই আছেন যারা তারচেয়ে বেশি সুবিধাবঞ্চিত। তিনি ১৮ বছর বয়সে পা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন, এবার আর সহ্য করবেন না। জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে হবে। তিনি তখন এলাকার এক বিমানবন্দরে পারফিউম কর্নারে কাজ করা শুরু করেন। সেই লিন্ডা আজ একজন মার্কিন টেলিভিশন পারসোনালিটি। তিনি প্রথম টেলিভিশনের পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন, বিবিসি ট্রেড ডকুমেন্ট্রিসের মাধ্যমে। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে দাবি জানান। এককথায় তার কাজকে হাইলাইট করার ক্ষমতা যথেষ্টই আছে তার। তার মূল লক্ষ্য হলো, স্বাভাবিকভাবে যাতে শিশুরা তাদের স্বপ্নীল জীবনযাপন করতে পারে সে ব্যবস্থা করা। লিন্ডা তার প্রথম জীবনে দোকানে কাজ করেছেন। তার পদ ছিল সহকারী দোকানদারের। তার এ দোকানে তিনি ক্রোকারিজ বিক্রির কাজ করতেন। ধীরে ধীরে জনপ্রতিনিধিমূলক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়েন। তার এ জনপ্রতিনিধিত্বমূলক কাজের জন্য বেশ কয়েকবার বিবিসির রিপোর্টিংও করতে হয় তার। তার মূল আকর্ষণ ছিল আইন নিয়ে। এই বিষয়েই পড়াশোনা করেন তিনি। এই অংশটি দুই ভাগে ভাগ করে বিবিসিতে প্রদর্শন করা হয়। এবং তা পরপর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দেখানো হয়। এটা অস্ট্রেলিয়াতেও প্রচার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এর আর দুটি প্রোগ্রাম প্রচার করা হয়। প্রথমটি প্রাক্তন শিশু সৈনিকদের নিয়ে। ‘ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক কঙ্গো’ নিয়ে করা হয়েছিল ডকুমেন্টরিটি। এরপরের প্রোগ্রামটি ‘হয়রানির শিকার’ নিয়ে করা হয়েছিল। কম্বোডিয়া নিয়ে তৈরি এই ডকুমেন্টরিটি।