সাধারণদের দিয়েই অসাধারণ ফলাফল

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:০০
ক্রমোন্নতি তথা ঈর্ষণীয় ফলাফলের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ক্যামব্রিয়ান। অব্যাহত সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এইচএসসি-২০১৩ পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে এই ডিজিটাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। ঢাকা বোর্ডে সেরা ১০ কলেজের মেধা তালিকায় ৭ম স্থান অর্জন করেছে তারা। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এদের ১৩৪৭ জন শিক্ষার্থী। তারমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৪৩ জন। খুবই সাধারণ গ্রেডের শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে শিক্ষকরা নিবিড় ও অক্লান্ত পরিশ্রমে কোনো ধরনের প্রাইভেট কোচিং ছাড়াই অসাধারণ ফলাফল অর্জন করে চলেছে এই প্রতিষ্ঠান। এ+ পেয়েছে এদের ৭০% এবং এ পেয়েছে ৩০% শিক্ষার্থী। উল্লেখ্য যে, এ+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন এসএসসি গ্রেড ছিল মাত্র ৩.৫০। এদের বিগত ফলাফল পরিসংখ্যান হচ্ছে ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বাধিক সাফল্যের ভিত্তিতে মেধা তালিকায় স্থান অর্জন। এদের এসএসসি-২০১৩-এর ফলাফল ছিল, বিজ্ঞান বিভাগে একজন ব্যতীত সবাই এবং বাণিজ্যে সবাই পাস। উক্ত পরীক্ষায় ৪১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৪ জন। এসএসসিতে ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সম্মিলিত মেধা তালিকায় যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও ১১তম এবং শতভাগ পাশের ভিত্তিতে ঢাকা বোর্ডে ১ম স্থান অর্জন করে। উল্লেখ্য যে, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মেধা তালিকা নির্ধারণের অন্যতম সূচক হওয়া উচিত ভর্তি সময়কালীন গ্রেডের তুলনায় প্রাপ্ত গ্রেডের হার বিবেচনায়। উল্লিখিত সূচকে মেধা তালিকা করা হলে প্রথম দ্বিতীয়র পরিসংখ্যানই পাল্টে যেত এবং এটাই হতো প্রকৃত মূল্যায়ন। যেমন, ক্যামব্রিয়ান অধিকাংশ জিপিএ-৩.৫০ (এসএসসি) ভর্তি নিয়েও সম্মিলিত মেধা তালিকায় (এইচএসসি-২০১৩) সপ্তম হয়েছে। তাদের ১৩৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৪৩ জন। পক্ষান্তরে যারা প্রথম দ্বিতীয় হচ্ছে, তারা ভর্তি নিচ্ছে অধিকাংশই গোল্ডেন জিপিএ ও জিপিএ-৫। এবং এই শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই পরবর্তী পরীক্ষায় অর্থাত্ ভর্তিকৃত সময়ের তুলনায় অনেক কম মার্কস পাচ্ছে। ফলে প্রকৃতই কারা সফল? নিশ্চয়ই ক্যামব্রিয়ানের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। কলেজটিতে রয়েছে ক্রিয়েটিভ ট্রেনিংপ্রাপ্ত, ডিজিটাল কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি পারদর্শী ৮০০ শিক্ষক এবং ১৬০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এসব বিষয়ে আরও জানতে যোগাযোগ করা যেতে পারে এই ঠিকানায় :প্লট-২, গুলশান সার্কেল-২, ঢাকা। ফোন :৯৮৮১৩৫৫ ও ০১৭২০৫৫৭১৮০। ক্যামব্রিয়ানে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ১০:১। ৭ বার জাতীয় মেধা তালিকায় স্থান প্রাপ্ত এই কলেজের সকল শিক্ষা উপকরণ প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া হয়। আছে স্কলারশিপ, হোস্টেল, ট্রান্সপোর্ট ও পাঠ্যবইয়ের ডিজিটাল ভার্সনসহ একটি করে ই-প্যাড বা ল্যাপটপ পাওয়ার সুবিধা। ল্যাপটপ/ডেস্কটপের পাশাপাশি সকল ক্লাস রুমেই রয়েছে এয়ারকন্ডিশনসহ মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর। এদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সংখ্যা প্রায়-৫০০। এখানে দুর্বল শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা গড়ে তুলবার জন্য রয়েছে ‘সুপারভাইজরি স্টাডি প্রোগ্রাম’ (এসএসপি) নামক এক বিশেষ নবতর শিক্ষা ধারণা। সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষকরা সহজভাবে যাতে ক্লাস লেকচার দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে তাদেরকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ মাস্টার ট্রেনার দ্বারা পর্যাপ্ত ট্রেনিং প্রদান করা হয়।