শিক্ষার্থীদের ঝোঁক এখন কমার্স বিশেষায়িত কলেজে

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:০১
ব্যবসায় শিক্ষার প্রতি ক্রমবর্ধমান এই ঝোঁকের কারণে রাতারাতি বেশ কিছু কমার্স বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করছে হাতে গোনা দু’একটি প্রতিষ্ঠান। এই তালিকায় অগ্রগণ্য একটি নাম গুলশান কমার্স কলেজ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত অনার্স কলেজসমূহের ব্যবসায় অনুষদের ছাত্র-ছাত্রীদের জনপ্রিয় লেখক এমএ কালামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ব্যবসায় শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু হয় এই কলেজটির। কলেজটিতে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশে ব্যবসায় শিক্ষা প্রসারের পথিকৃত্ হিসেবে খ্যাত প্রফেসর মো. মঈনউদ্দীন খান, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের সাবেক ডিন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং আশা ইউনিভার্সিটির সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর ও বর্তমানে উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। একই সাথে এখানে আছেন ব্যবসায় শিক্ষায় বিশেষায়িত ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষাবিদগণ। প্রতিষ্ঠার অতি অল্প সময়ের মধ্যেই কলেজটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭টি ব্যাচ অত্যন্ত সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। চলমান উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে কলেজটির ৮ম ব্যাচ। এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিগত ফলাফলকে ছাড়িয়ে রেকর্ড ফলাফল করবে বলে সবাই আশাবাদী। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে শতভাগ পাশের কৃতিত্ব অর্জন করে কলেজটি নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। এ ছাড়া ২০০৮ সালে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করে রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছিল এই কলেজ। ২০০৯ ও ২০১০ সালে এর পাসের হার ছিল যথাক্রমে ৯৮ ও ৯৭%। এবং ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালে কলেজটি অর্জন করে আরো ভালো ফলাফল। বিশেষ করে বৃদ্ধি পায় জিপিএর হার। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে শিক্ষার্থীরা যে জিপিএ নিয়ে ভর্তি হয়েছে পরবর্তীতে তাদের প্রত্যেকেরই জিপিএর হার বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাত্ প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর জিপিএ এসএসসির তুলনায় এইচএসসিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার পাশাপাশি এখানে নানা রকম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ, দেশপ্রেম ও মানবিকতা বোধে উদ্বুদ্ধ হতে সহায়তা করা হয়। সেজন্য মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত নানা কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণ, স্বাধীনতা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জাতির জনকের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী ও মহান বিজয় দিবস সাড়ম্বরে উদযাপন করে আসছে এই প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া নিয়মিত শিক্ষা সফর ও আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত করার ব্যাপারে প্রয়াস চালানো হয় এখানে। এসব কারণে কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক। এখানে নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে প্রেরণামূলক বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে আরও জানতে যোগাযোগ করা যেতে পারে এই ঠিকানায় :গ-৯৭ ও গ-১০৯, প্রগতি সরণি, মধ্য বাড্ডা, ঢাকা। ফোন :৯৮৯৯৯৮৮ ও ০১৯১৬-৭৫৯৮০০। কলেজটির বোর্ড ফলাফল ও অন্যান্য সাফল্য প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ এমএ কালাম বলেন, ‘সেমিস্টার পদ্ধতিতে পাঠদান, ক্লাসে পড়া আদায়ের ব্যবস্থা, বাধ্যতামূলক ফ্রি কোচিং, সপ্তাহে দু’টি টিউটোরিয়াল পরীক্ষা, ফলাফল পর্যালোচনা, অভিভাবক-শিক্ষক সমন্বয়ে সভা, সর্বোপরি শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ইত্যাদি সমন্বিত প্রয়াসের ফলেই আমরা ক্রমাগত ভালো ফলাফল অর্জন করছি।’