চিত্রশিল্পী তিমি
তিমিকে ছবি আঁকতে দেখলে কি অবাক হবেন? তাহলে জাপানের ইয়াকোহামার ‘হাকিজেমা সি প্যারাডাইস’ অ্যাকুরিয়ামের তিমিগুলোকে দেখলে অবাক হওয়াই স্বাভাবিক। এই অ্যাকুরিয়ামে ছবি আঁকার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এই বেলুগা তিমিগুলোকে। মানুষের মতো হাত দিয়ে তুলি ধরতে না পারায় মুখ দিয়ে তুলি ধরেই ছবি আঁকছে তিমিগুলো। এখন অবশ্য শুধু দুটো মেয়ে তিমি চিত্রশিল্পী হওয়ার জন্য পরিশ্রম করছে। ওদের দুজনকেই শেখানো হচ্ছে ছবি আঁকার কলাকৌশল। আঁকতে শেখাচ্ছেন প্রশিক্ষিত আঁকিয়ে। শিখে যাওয়ার পর তারা দর্শনার্থীদের সামনে ছবি আঁকবে। দর্শনার্থীদের আনন্দ দেওয়ার খুব ভালো পন্থা তিমির ছবি আঁকা। ভালো হোক কিংবা মন্দ, তিমিকে ছবি আঁকতে দেখলে মুগ্ধ হতে হবে যে কাউকেই।
সত্যিই মঙ্গলে বাস করা সম্ভব
মানুষের বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক উপকরণই মঙ্গলে পাওয়া যায়, যদিও সব নয়। মঙ্গলে বসবাসের জন্য আমাদেরকে রেডিয়েশনের প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে, পৃথিবীর মতো মঙ্গলেও অনুরূপ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মঙ্গলের আকর্ষণ বল পৃথিবীতে আমাদের মাধ্যাকর্ষণ বলের মাত্র ৩৮ ভাগ। এটি একটু প্রভাব সৃষ্টি করেও তা মঙ্গলে মানুষের বসবাসের পেছনে কোনো কারণ হতে পারবে না। কিন্তু মূল যে বিষয়টির প্রয়োজন হবে, তা হলো পৃথিবী থেকে নিয়মিত খাদ্য ও অন্যান্য শক্তি, যা এই লাল গ্রহটির কাছে নেই।
বাঁকানো আলোতে সুপার গতি
ওয়াই ফাইয়ের ক্ষেত্রে গতি বাড়ানোর জন্য বিজ্ঞানীরা নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো ওয়াই ফাই-ই প্রতি সেকেন্ডে মেগাবাইট কিংবা গিগাবাইটের বেশি ডাটা ব্যবহারে সক্ষম হয়ে ওঠেনি। কিন্তু সম্প্রতি দেখা গেছে, টুইস্টেড লাইট বা বাঁকানো আলোতে ওয়াই ফাইয়ের স্পিড অনেক বেশি হয়ে থাকে। আর এই গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২.৫ টেরাবাইট পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাঁকানো আলোতে তরঙ্গের অরবিটাল মোমেন্টামের কারণে এই গতি অর্জন হয়ে থাকে। ব্রোডব্যান্ড মিডিয়াগুলো এই গতিকে কাজে লাগাতে পারলে তখন একটি সিডিতে ডাটা ট্রান্সফার করতে সেকেন্ডেরও কম সময় লাগবে, মানে চোখের নিমিষে ডাটা ডাউনলোড কিংবা ট্রান্সফার হয়ে যাবে।
মহাশূন্যে বেশি সময়
মহাবিশ্বে একটানা সবচেয়ে বেশি সময় কাটানোর রেকর্ড গড়েন রাশিয়ান মহাকাশচারী ভ্যালেরি পলিয়াকভ। তিনি ১৯৯৪-৯৫ সালে মির নামক একটি বোডে ৪৩৭.৭ দিন কাটান। মহাবিশ্বে অধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে বেশিক্ষণ থাকার রেকর্ডটা অবশ্য মহাকাশচারী সার্জিও ক্রিকালিভের। যিনি স্পেস বোর্ড সযুজ, মহাকাশের সাটল মীর এবং ইন্টারন্যাশনাল স্পেশ স্টেশনে (আইএসএস) সর্বোমোট ৮০৩ দিন কাটান।
মমি কতকাল টিকে?
ন্যাট্রন নামক এক ধরনের সল্ট ব্যবহারের মাধ্যমে শরীরের সমস্ত আর্দ্রতা দূরে করে মমি তৈরি করা হতো। মিশরে মমি আবিষ্কারের পর দেখা গেল, এই মমি করার পরে সেই দেহগুলোকে লিলেন কাপরের বেন্ডেজে পেঁচিয়ে রাখা হতো। একবার যদি কোনো দেহকে শুষ্ক করে রাখা যায়, তাহলে সেটি আজীবন ভালো থাকবে। প্রায় চারহাজার বছর পরেও অনেক মমিকে সম্পূর্ণ ভালো অবস্থায় পাওয়া গেছে। কিন্তু মমিটি যদি কোনোক্রমে স্যাঁতসেতে হয়ে পড়ে, তাহলে এটি পচে গিয়ে অন্যান্য স্বাভাবিক মৃত দেহের মতোই পরিণতি লাভ করবে। আর এমনটাই দেখা গেছে ফারাও সুসেনেস ওয়ানের মমিতে, যে কারণে ওটিকে ডাকাতরা কখনও ছুঁয়েও দেখেনি।
কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণ
মানুষ কথা বলার সময় উচ্চৈঃস্বর কিংবা নিন্মস্বর কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে? মানুষের কণ্ঠস্বর সৃষ্টি হয় বাতাস থেকে যা ফুসফুসের দ্বারা লেরিংসের ভোকাল কর্ড নড়ন চড়নের মাধ্যমে উত্পন্ন হয়ে থাকে। ফুসফুস থেকে শব্দ বের হয়ে আসার সময় এই কর্ড দ্বারা সেটা নিয়ন্ত্রিত হয়, মানে শব্দের তীব্রতা বাড়ানো বা কমানো হয়। তীব্রভাবে বা বেশি বাতাসের দ্বারা যে ভয়েস বের হয়ে আসে সেটা শুনতে তীব্র মাত্রার মনে হয়, আর যেটাতে বাতাসের আধিক্য কম থাকে সেই শব্দ অপেক্ষাকৃত কম জোরালো মনে হয়। আর এ কারণে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলতে হলে প্রথমে আপনার ফুসফুসে প্রচুর পরিমাণে বাতাস প্রবেশ করাতে হবে এবং ভোকাল কর্ডের উপরে অধিক চাপ দিতে হবে।
পৃথিবীতে বেশি পানি নেই!
আমরা জানি পৃথিবীর প্রায় ৭১ ভাগ পানি, বাকি ২৯ ভাগ হলো স্থল। পাঁচটি বিশাল মহাসাগর রয়েছে, সাগর-উপসাগরের কথা তো বাদই গেল। এইসব জলাশয়ে কী পরিমাণ পানি আছে সেটাই তো হিসাব করা যাবে না। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর সমস্ত পানি যদি একটি জলাধারে রাখা হয়, তাহলে এটি সর্বোমোট ৭০০ কিলোমিটার বা ৪৩৫ মাইল আকার ধারণ করবে। কিন্তু আসল কথা হলো, এই পানি চাঁদের মোট আয়তনের অর্ধেকের থেকেও কম। এখানে উল্লেখ্য যে, ভূ-পষ্ঠের নিচে ঠিক কী পরিমাণ পানি আছে সেটা বিজ্ঞানীরা এখনও নির্ণয় করতে পারেননি।
গ্রন্থনা সাইফুল ইসলাম জুয়েল
