সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেই

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২১:১৯
দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সেই সাথে পুরনো যন্ত্রপাতির আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে আসলেও নতুন মেশিনপত্র কেনার কোন উদ্যোগ নেই। যাত্রীবাহী কোচ, পণ্যবাহী ওয়াগন ও ইঞ্জিন মেরামতে এই কারখানাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ২০০৭ ও ২০০৯ সালে এজন্য দুটি প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও সেগুলোর বাস্তব কোনো অগ্রগতি নেই। সক্ষমতা বাড়াতে সৈয়দপুর রেল কারখানায় নতুন ক্যারেজ শপ নির্মাণের উদ্যোগও পরিকল্পনাতে আটকে আছে। ফলে কারখানার কার্যক্ষমতা ক্রমেই কমে আসছে। ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় প্রয়োজনীয় জনবল ও চাহিদা অনুযায়ী সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের অভাবে এ কারখানার ঐতিহ্য হারানোর অন্যতম কারণ। পাশাপাশি খুচরা যন্ত্রাংশের অভাব, আধুনিক যন্ত্রপাতি না কেনা ও অপর্যাপ্ত বাজেটকেও এ জন্য দায়ী করছেন তারা। ব্রড ও মিটার গেজ উভয় ধরনের কোচ ও ওয়াগন মেরামতে রেলের প্রধান ভরসা সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। কিন্ু্ত নানা সমস্যায় জর্জরিত এর কার্যক্ষমতা ক্রমেই কমে আসছে। এদিকে ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাষ্টের প্রতিনিধি দল গত বছর পরিদর্শন করে রেলওয়ের এই কারখানাটি। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পরবর্তী সময়ে রেলওয়ের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি। তাতে বলা হয়, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মেরামত কাজে ব্যবহারের জন্য ৭৪০টি যন্ত্রপাতি থাকলেও অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর আছে মাত্র ৭৪টির। বাকিগুলোর মধ্যে ২৬৫টির বয়স ২০-৫০ বছর আর ৪০১টির ৫০ বছরের উপরে। অথচ গত ২০ বছরে নতুন কোনো যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বিভিন্ন সময় রেলওয়ে মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কারখানা পরিদর্শনে প্রতিশ্রুতি মিলেছে অনেক কিন্তু কোনো বাস্তবায়ন নেই বলে অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা। দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় জনবল সংকটও প্রকট। এখানে ৩ হাজার ১৪৫টি কর্মচারী পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ১ হাজার ৫৫০ জন। ২০১৭ সালের মধ্যে অবসরে যাবেন আরো ৫৪৯ জন। এছাড়া ১৫৬ জন কর্মকর্তা পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৭১ জন। অবস্থা উত্তরণে দ্রুত জনবল নিয়োগ, নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়, বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোসহ মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী কারখানাটি আধুনিকায়নের সুপারিশ করে ডব্লিউবিবি ট্রাষ্ট।