বিপুল রোগীর চিকিত্সায় একজন ডাক্তার!

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪২
তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিত্সা সেবা প্রদানের জন্য রয়েছেন মাত্র ১ জন মহিলা মেডিক্যাল অফিসার। ডাক্তার স্বল্পতাসহ নানাবিধ সমস্যা নিয়ে তেরখাদা উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন নিজেই রোগী হয়ে পড়েছে। জানা যায়, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসারসহ ১৫ জন ডাক্তারের পদ রয়েছে। অথচ কর্তৃপক্ষের চরম অনীহা ও উদাসীনতার কারণে অবহেলিত জনপদ নামে পরিচিত তেরখাদা উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র একজন মহিলা ডাক্তার সেবা প্রদান করছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. এফ এম মনিরুজ্জামান অফিসিয়াল কাজে প্রায় সময়ই বাইরে থাকেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা প্রদান করছেন একমাত্র মেডিক্যাল অফিসার নাদিরা খান। ফলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন সকালে বহিরাগত রোগীদের ভিড়ে তিল ধারণেরও ঠাঁই থাকে না। আর চিকিত্সা সেবা না পেয়ে প্রতিদিন ফিরে যাচ্ছেন অনেক রোগী। রোগীদের সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত অর্থের অপচয় ঘটছে। ভর্তি রোগীদের অবস্থাও শোচনীয়। এখানে সর্দিকাশি আমাশয় রোগী ছাড়া অন্য কোন রোগী আসার সাথে সাথেই বলা হয় খুলনায় চলে যান। অনেক সহায় সম্বলহীন রোগী কোন উপায়ন্তর না পেয়ে এখানে ভর্তি হন কিন্তু তাদের দুদর্শার অন্ত থাকছে না। এভাবেই চলছে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার স্বল্পতার পাশাপাশি রয়েছে নানাবিধ অনিয়ম। এখানে কয়েকবছর আগে একটি এক্সরে মেশিন বরাদ্দ দেয়া হলেও এক্সরে টেকনিশিয়ান না থাকায় মেশিনটি পড়ে থেকে থেকে প্রায় অকেজো হবার পথে। প্যাথলজি বিভাগেও দীর্ঘদিন যাবত্ ল্যাব টেকনিশিয়ান নেই। ফলে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে ২৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে খুলনায় যেতে হয়। এতে এসব পরিবারের পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনা।