আবাহনী ও মোহামেডান মধমুতি ব্যাংক স্বাধীনতা দিবস ফুটবল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। ১৬ ম্যাচ পর আবাহনীর কাছে হারলো শেখ জামাল। ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালিস্ট খেলা শেখ জামাল এবার সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিল।
গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আবাহনী ২-১ গোলে শেখ জামালকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে। প্রতিযোগিতার শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে আবাহনীর গোল দুটি করেন প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা ফরোয়ার্ড পর্তুগীজ লিওনিলডো সুয়োরেজ।
শেখ জামালের হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড ওয়েডসন এনসেলমে প্রথমার্ধে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। খেলার শুরুতে আবাহনী দুইবার শেখ জামালের উপর আক্রমণের পর উল্টো গোল হজম করেছে ডিফেন্ডারদের ভুল বুঝাবুঝির সুযোগে। পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ৩৩ মিনিটে সোহেল রানার লব পেয়ে হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড ওয়েডসন আলতো ভলি করে গোলকিপার সুলতান আহমেদ শাকিলের মাথার উপর দিয়ে জালে ফেলেন ১-০। ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট করেছেন সনি নিজেই।
এরপর ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে আবাহনী লড়াইয়ে ফেরে। আর এই পেনাল্টি গোল নিয়ে বাধলো বিতর্ক। আবাহনীর পর্তুগীজ ফুটবলার ডান দিক থেকে বল ক্রস করেন। সেকেন্ড পুলের কাছে দাঁড়ানো ঘানাইয়ান ইব্রাহিম হেড করলে বল যায় বাইরে। ইব্রাহিম মাথায় হাত রেখে আফসোস করলেন একি হলো। গোল লাইনের কাছে দাঁড়িয়ে গোল মিস ! পেছনে তাকিয়ে দেখেন রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিয়েছেন। সবাই হতবাক। বল কার হাত স্পর্শ করলো।
অপ্রত্যাশিত পেনাল্টি পেয়ে আবাহনীর ফুটবলাররা গোল করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলেন। অপরদিকে শেখ জামালের খেলোয়াড়রা জড়িয়ে পড়লেন রেফারির সাথে তর্কে। অবশ্য সময় নষ্ট না করে রেফারির সিদ্ধান্ত মেনে নিল শেখ জামাল। পেনাল্টিতে গোল করে আবাহনীকে সমতায় ফেরালেন পর্তুগীজ ফরোয়ার্ড লিওনিলডো সুয়োরেজ ১-১। গোলটির পরও শেখ জামালের নাসির, মামুনুল ইসলাম, রায়হানরা প্রতিবাদ করলেন।
এই একটি গোলই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিল। আবাহনী যেন প্রাণ ফিরে এলো। চোট পাওয়ায় শেখ জামালের অধিনায়ক মামুনুল ইসলামকে মাঠ থেকে তুলে নেন নাইজেরিয়ান কোচ যোসেফ আফুসি। মাঝমাঠ দুর্বল হয়ে পড়ে। সুযোগ পেয়ে ম্রিয়মাণ আবাহনীকে শেখ জামালের উপর তেড়েফুড়ে উঠতে দেখা গেলো। এর আট মিনিটের ব্যবধানে আবার শেখ জামালের জালে আবাহনীর বল। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো আবাহনী। আবার সেই পর্তুগীজ ফুটবলার লিওনিলডো সুয়োরাজের গোল। লিওনিলডো সুয়োরেজ শেখ জামালের ডিফেন্ডার প্রথমে ইয়াসিনকে এরপর ইয়ামিনকে কাটিয়ে শট করেন। বল গোলকিপার জিয়ার পায়ের ফাঁক গলে গোল হয় ২-১। বিদায় হয়ে গেল শেখ জামালের। খেলা শেষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিজয়ী দলের ইরানী কোচ আলী আকবর। তিনি বললেন, ‘ওই পজিশনে হ্যান্ডবল হলে বল হাতে লাগা খেলোয়াড়কে লালকার্ড দেবেন রেফারি। কিন্তু লালকার্ড তো দূরের কথা হলুদ কার্ডও দেননি রেফারি।’ খেলা শেষের সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন,‘এই রেফারি মোহামেডান আবাহনী ম্যাচে বাজে সিদ্ধান্ত দিয়ে ম্যাচটাকে নষ্ট করেছিলেন। এভাবে রেফারিরা খেলা পরিচালনা করলে আমাদের জন্য কষ্টকর বটে।’ শেখ জামালের কোচ যোসেফ আফুসি বললেন, ‘জানি না বল কার হাতে লেগেছে। হ্যান্ডবল হয়েছে।’ প্রশ্নবিদ্ধ হ্যান্ডবল প্রসঙ্গে রেফারির মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘শেখ জামালের রায়হানের হাতে লেগেছে।’ বাতাশে ভেসে আসা বলটি কিভাবে মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা খেলোয়াড়ের হাত স্পর্শ করল জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান এবং নিজের ব্যাগ গোছাতে ব্যস্ত হয়ে যান।
