স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
দুই সপ্তাহ আগে জেলা শহরের ছয়জনসহ ৭২ জন ডিলারের নামে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে খোলাবাজারে নিত্যপণ্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও সিংহভাগ ডিলারের কাছ থেকে সাড়া মিলছে না বলে জানা গেছে।
টিসিবির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ডিলার এবং ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে পণ্য বিক্রির জন্য ১৯৪ মেট্রিক টন ছোলা বুট, চিনি, মশুর ডাল এবং বোতলজাত সয়াবিন তেলসহ নিত্যপণ্য বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রত্যেক ডিলারের অনুকূলে ২৩ এপ্রিল এক মেট্রিক টন চিনি, ৫০০ কেজি ছোলা, ৫০০ কেজি মশুর ডাল, ৭০০ লিটার পুষ্টি ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর বাইরে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে বিক্রির জন্য ৫০ মেট্রিক টন করে সৌদি খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভোক্তা পর্যায়ে খোলাবাজারে প্রতি কেজি চিনি ৪৭, মশুর ডাল ৪৪, সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা এবং সৌদি খেজুর ১৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার কথা। বরাদ্দের পণ্য উত্তোলনের জন্য চলতি মে মাস পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও বরাদ্দের পণ্য ৪০ জন ডিলার তোলেননি।
শহরের মালতিনগরের বাসিন্দা রেজাউল আলম বলেন, শহরে প্রায় ছয় লাখ মানুষের বসবাস। নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এখানে রমজান মাসে ২১টি ওয়ার্ডে ট্রাকে করে টিসিবির ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ থেকে পণ্য বিক্রি করা দরকার। অথচ শহরের একটিমাত্র স্থানে ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এক দুই ঘণ্টার মধ্যেই মালামাল ফুরিয়ে যাচ্ছে। অনেকে লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য কিনতে পারছেন না।
মেসার্স মা বাবা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মাসুদুর রহমান বলেন, রাজশাহী থেকে বগুড়া পর্যন্ত ট্রাক ভাড়া ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। পণ্য ওঠানো ও খালাস কাজে বরাদ্দের দুই-আড়াই টন পণ্য বিক্রি করতে হয়, ফলে লোকসান গুণতে হয়।
টিএমএসএস মহিলা মার্কেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ববিতা রানি বর্মন বলেন, বগুড়ায় টিসিবির গুদাম স্থাপন ছাড়া খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ সফল হবে না। কারণ বছরে শুধু রমজান মাসে সামান্য পরিমাণ পণ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই পণ্য রাজশাহী থেকে বগুড়া পর্যন্ত আনতে গেলে লোকসান গুণতে হয়।
টিসিবির রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী প্রধান প্রতাপ কুমার বলেন, বগুড়ার টিসিবির ৭২ জন ডিলারের মধ্যে বেশির ভাগই ২০১৬ সালের পর থেকে বরাদ্দের পণ্য উত্তোলন করেননি। বরাদ্দের পণ্য উত্তোলনের জন্য দফায় দফায় তাগাদা দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মিলছে না। দ্বিতীয় রমজান পর্যন্ত ২৪ জন ডিলার বরাদ্দের পণ্য উত্তোলন করেছেন। চলতি মে মাস পর্যন্ত বরাদ্দের পণ্য উত্তোলনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বরাদ্দের পণ্য উত্তোলনে ব্যর্থ হলে শর্ত ভঙের দায়ে ডিলারের জামানত বাজেয়াপ্তসহ লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
