তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আগামী ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল দেশব্যাপী ‘তিস্তা মার্চ’ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশ এখন তীব্র পানি সংকটের মুখোমুখি। বাংলাদেশের নদীর সংখ্যা ১২০০ থেকে কমে এখন ৩০০-এর নিচে নেমে এসেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে, পানিশূন্য হয়ে বাংলাদেশ সাহারা মরুভূমির মতো হয়ে পড়বে। তাই নদী বাঁচাতে না পারলে আমাদের ভূ-প্রাকৃতিক অস্তিত্ব্ব বিপন্ন হবে।
শনিবার মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ আন্দোলনের এ ঘোষণা দেন। সূচনা বক্তব্য রাখেন বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান এবং লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ। আরো উপস্থিত ছিলেন বজলুর রশীদ ফিরোজ, আহসান হাবিব লাবলু, রুহিন হোসেন প্রিন্স, জাহেদুল হক মিলু, মাহবুবুল আলম, রাজেকুজ্জামান রতন, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, ইদ্রিস আলী, আব্দুর রাজ্জাক, খালেকুজ্জামান লিপন প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ বলেন, বরাক নদীর টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ এবং ব্রহ্মপুত্র থেকে পানি সরিয়ে নেয়ার আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের বাস্তবায়ন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এই সব প্রকল্প চালু হলে বাংলাদেশের উপর ভয়ঙ্কর রকমের প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আগামী ৭ এপ্রিল দেশব্যাপী ‘দাবি দিবস’ ও ১৭ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত তিস্তা অভিমুখে ‘তিস্তা মার্চ’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ১৭ এপ্রিল বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশের মাধ্যমে ‘তিস্তা মার্চ’-এর যাত্রা শুরু হবে এবং টঙ্গী, গাজীপুর হয়ে সিরাজগঞ্জে পৌঁছাবে। ১৮ এপ্রিল তিস্তা মার্চ সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া হয়ে রংপুরে পৌঁছাবে। ১৯ এপ্রিল রংপুর থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারেজে পৌঁছাবে। এরপর লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার দোয়ানী বাজারে সমাপনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। ‘তিস্তা মার্চ’ পথে পথে জনসভা, পথসভা, সমাবেশে মিলিত হবে এবং গণসংযোগ করবে।
