ওয়ানডে হোক আর টি-টোয়েন্টি; আইসিসি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশের জন্য এখন একটা ‘উত্পাত’-এ পরিণত হয়েছে। শুধু টুর্নামেন্টে খারাপ ফলেই এই উত্পাত শেষ হয় না; দগদগে ক্ষতর মতো পেছনে রেখে যায় বিতর্ক আর সমালোচনা। আর এর জের ধরেই আসে পরিবর্তনের স্লোগান।
এবারও ব্যতিক্রম কিছু হয়নি। দেশের মাটিতে আরেকটা বিশ্বকাপ, আরেকটা বিপর্যয় এবং আরও এক দফা বিতর্ক ও পরিবর্তনের সুর। বিতর্ক এবারও তৈরি হয়েছে সেই সাকিব আল হাসানের কথার সূত্র ধরে। আর এবারও পরিবর্তনটা আসতে যাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টে, সোজা কথায় কোচিংয়ে। অন্তত গতকাল বিসিবির সভাশেষে তেমনই ইঙ্গিত দিলেন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
বিসিবির এই সভাটা হওয়ার কথা ছিল ৭ তারিখের পর, বিশ্বকাপ শেষে ঠাণ্ডা মাথায়। কিন্তু সে সময় আইসিসি সভায় অংশ নিতে দেশের বাইরে থাকবেন পাপন। তাই সভাটা তড়িঘড়ি করেই হয়ে গেল। আর সভাপতি পরিষ্কারই বললেন, সভায় দলের বিশ্বকাপ বিপর্যয়টাই ছিল একটা প্রধান আলোচ্য বিষয়।
বিশ্বকাপ বিপর্যয়ের পর বড় ধরনের পরিবর্তন যে দলে আসবে, সেটা সভাপতি আগেই বলেছিলেন। গতকাল বললেন, তারা ম্যানেজমেন্টের রিপোর্টগুলোর জন্য অপেক্ষা করছেন, সেগুলো পেলে দ্রুতই বোর্ড সভা করে বদলের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন বলে বললেন, ‘আমরা ম্যানেজম্যান্টের কাছে রিপোর্ট চেয়েছি। ম্যানেজম্যান্ট রিপোর্ট, হেড কোচ ও টিম ম্যানেজারের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছি। আমি যখন ফেরত আসি তখন যেন রিপোর্টগুলো পাই। সেগুলো এরপর আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। আমি আগেই আপনাদের বলেছি বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। এটা শুধু আমি খেলোয়াড়দের কথা বলছি না। খেলোয়াড়দের চেয়েও বেশি হচ্ছে যারা ম্যানেজম্যান্টে আছে। সেটা রিপোর্টের উপর নির্ভর করবে এবং সেটা কিভাবে বোর্ড গ্রহণ করবে? যে কারণগুলো দেখাচ্ছে সেগুলো গ্রহণযোগ্য হবে কি? সেগুলোর উপর নির্ভর করবে।’
তবে পরিবর্তনটা ব্যাপক হবে না, বরং প্রয়োজনীয় স্বল্প সংখ্যক জায়গাতে পরিবর্তন করার পক্ষে সভাপতি। তিনি নিজেই মানছেন, এ ধরনের পরিবর্তন সময় নিয়ে করা উচিত। তবে আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে একটু দ্রুতই করবেন বলে পাপন বলছেন, ‘না আসলে ব্যাপক ভাবে পরিবর্তন করবো সেটা বলছি না। যেখানে যেই পরিবর্তন করা দরকার সেটা অব্যশই করবো। এটাও বলছি না করবোই। এটা এতো তাড়াতাড়ি একটা-দুইটা মিটিং বা একটা-দুইটা রিপোর্ট দেখে হবে না। আমি যেটা মনে করি এটা একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বিশেষ করে খুব বেশি দেরিও করতে পারছি না যে, ২০১৫ সালে আবার বিশ্বকাপ আছে। ওই টিমের জন্যে কি কি করা দরকার—সেগুলো মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিবো।’
তবে শুধু বর্তমান দলে কাটছাঁট নয়, পাপন মনে করেন নিয়মিত সাফল্য পেতে গেলে স্কিলের দিক থেকে আরও শক্তিশালী খেলোয়াড় তৈরির বিকল্পও নেই, ‘আমার কাছে খেলা দেখে মনে হয়েছে আমরা অনেক পেছানো। ব্যক্তিগত স্কিল ধরলেও আমরা পেছানো। আমাদের দেশে আমাদের শক্তিশালী দিক হলো আমাদের স্পিন আক্রমণ। ভারতে অশ্বিন, মিশ্র ও জাদেজা। ওয়েস্ট ইন্ডিজে নারিনতো বিশ্বমানের বোলার; সঙ্গে বাদ্রী। পাকিস্তানের আজমলের বল অনেকই স্বাছন্দ্যে খেলতে পারে না। শুধু আমরা না। তার সঙ্গে হাফিজ আছে, আফ্রিদি আছে। কিন্তু আমাদের দলে সাকিব ছাড়া এমন কাউকে দেখতে পাইনি। স্পিনে আমার কাছে মনে হয়েছে বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। যদি ব্যাটিংয়ের কথায় আসেন যাদের সঙ্গে আমরা খেলেছি। ৭ নম্বরে নামেন ধোনি। এ ধরনের ব্যাটসম্যান যদি ৭ নম্বরে আসে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন স্যামি এসে যেভাবে ম্যাচ বের করে নিয়ে যেতে পারে এতো দেরিতে নেমে। আমাদের আসলে ওই ধরনের স্কিল নেই এটাতে কোন সন্দেহ নেই। আমাদের ভালো ভালো খেলোয়াড় আছে। কিন্তু এ ফরম্যাটের জন্য এখনো আমরা প্রস্তুত নই। আমরা এখন ওই লেভেলে পৌঁছাতে পারিনি। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত।’
এইসব পরিবর্তন, বিকল্প খুঁজে বের করা; এটা যে একদিনের ব্যাপার নয়, তা ভালোই বোঝেন সভাপতি। সে জন্যই বললেন, তারা দ্রুত করার চেষ্টা করবেন, তবে বিকল্প খুঁজে না পেলে তাড়াহুড়ো করেও লাভ নেই, ‘বড় পরিবর্তন ২/১ দিনে করা সম্ভব নয়। অনেক বিকল্প আছে যেটা খুঁজে বের করতে ৬ মাসও লেগে যেতে পারে। আগে তো রিপ্লেসম্যান্টগুলোকে আমার খুঁজে বের করতে হবে।’
