উত্তাপটা টের পাচ্ছেন নেইমার

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৩৬
এমন এক দেশে তার জন্ম যেখানে শিরোপা ছাড়া অন্য যে কোন ফলকেই মানা হয় ব্যর্থতা হিসাবে। উপরন্তু বিশ্বকাপটা এবার নিজেদের মাটিতেই। আর দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর কোটি-কোটি ব্রাজিলিয়ান তাদের স্বপ্ন দেখছেন তার পায়েই। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দশ সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকতে ব্রাজিলিয়ানদের সেই স্বপ্ন সারথী নেইমার বলছেন, বিশ্বকাপের উত্তাপটা তিনিও ভালভাবেই টের পাচ্ছেন। ল্যান্স স্পোর্টস ডেইলিতে প্রকাশিত এক সাক্ষাত্কারে নেইমার বলেন, ‘ব্রাজিলের জার্সি গায়ে দেয়াটা সব সময়ই দারুণ সম্মানের। আর নিজের দেশে সেই জার্সি পরাটা হবে শৈশবের স্বপ্ন পূরণ হবার মতো একটা ব্যাপার। আর এই বিষয়টিই আমাকে নার্ভাস করে তুলছে। যতই দিন এগোচ্ছে আমার পেটের মধ্যে কেমন যেন একটা শূন্য শূন্য অনুভূতি হচ্ছে।’ নেইমারের নার্ভাস হওয়ার কারণ আছে আরো। বিশ্বকাপে পেলের পর ব্রাজিলের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসাবে হিসাবে বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি পড়তে যাচ্ছেন নেইমার। ১৯৫৮ সালে পেলে যখন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে নামেন তখন এই কিংবদন্তির বয়স ছিল মাত্র ১৭। এরপর ’৬২ ও ‘৭০ বিশ্বকাপেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করেন ফুটবল সম্রাট। তাকে ঘিরেই যে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ স্বপ্ন আবর্তিত হচ্ছে সেটা অজানা নয় বার্সেলোনা স্ট্রাইকার নেইমারের। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করার মতো একটা দল ব্রাজিলের আছে বলেই মনে করছেন তিনি। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ মিশনে সম্ভাব্য সেরা একাদশ নিয়েই ব্রাজিল নামবে জানিয়ে ২২ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতাতে যা কিছু করা দরকার তার সবটাই আমরা করবো।’ সেই ১৯৫০ সালে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে শিরোপা লড়াইয়ে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়া ব্রাজিল এবার গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষ হিসাবে পাচ্ছে ক্রোয়েশিয়া, মেক্সিকো ও ক্যামেরুনকে। তবে শিরোপার মূল লড়াইট হয়তো হবে জার্মানি-স্পেনের মতো দলগুলোর সাথেই। আর সেটা যে মোটেই সহজ হবে না নেইমার স্বীকার করেছেন সেটাও। তিনি বলেন, ‘আপনার প্রতিপক্ষ সবসময়ই জিততে চাইবে। আর ব্রাজিলের বিরুদ্ধে সব দলই চাইবে তাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়তে। কোন দলের বিরুদ্ধেই লড়াইটা সহজ হবে বলে আমরা মনে করছি না। কারণ প্রতিপক্ষ হিসাবে সবাই কঠিন। আর তাদের ডিঙ্গিয়ে ফাইনালে পৌঁছাটা হবে স্বপ্ন সত্যি হবার মতো একটা ব্যাপার।’ দীর্ঘ এই সাক্ষাত্কারে নেইমার কথা বলেছেন বিশ্বকাপের গত আসরে সুযোগ পেতে পেতে হারানোর বিষয়েও। বার্সেলোনা আক্রমণভাগের এই সদস্য বলেন, ‘বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়াটা তখন আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। আমি সেই ছোটবেলা থেকে এই একটি দিনের জন্য অপেক্ষা করেছি। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তখন সেই স্বপ্ন পূরণ করাটা সম্ভব হয়নি। কিন্তু খানিকটা দেরি হলেও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে দেয়ার স্বপ্নটা আমি পূরণ করতে পেরেছি।’ আর গত চার বছরের অভিজ্ঞতা এই বিশ্বকাপে অতীতের যে কোন সময়ের চাইতে অভিজ্ঞ এক নেইমারকেই দেখবে বলে প্রতিশ্রুতিও দিলেন তিনি, ‘২০১০ সালের নেইমার আর ২০১৪ সালের নেইমারের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে এই নেইমার অনেক বেশি পরিপক্ব, অনেক বেশি অভিজ্ঞ। যদিও দুই নেইমারই ফুটবল খেলাটা একই মাত্রায় উপভোগ করে।’