ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকের দুই সহোদর ভাই ভূ-মধ্যসাগরে নৌকাডুবি যাওয়ার ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়ে মঙ্গলবার রাতে দেশে ফিরেছে। এর ১০ দিন আগে শরিফ উদ্দিন নামের আরেকজন বাড়ি ফিরেছে। ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে বাড়ি ছাড়ে কালারুকা ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের হুসিয়ার আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন হাসান, ইকবাল হোসেন ও নুরুল্লাপুর গ্রামের মৃত নুর উদ্দিনের ছেলে শরিফ উদ্দিনসহ আরো কয়েকজন।
জানা যায়, স্থানীয় দালাল কালারুকা ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের আরজ মিয়ার ছেলে শামীম আহমদের কাছে প্রথমে ৫ লক্ষ টাকা করে দিয়ে ২০১৮ সালের ২৫ মে তারা বাড়ি থেকে বের হয়। শামীম ও তার লোকের মাধ্যমে দুবাই, মিশর হয়ে লিবিয়ার বেনগাজী শহরে পৌঁছায় তারা। সেখানে তাদের কাছ থেকে আরো ৩ লক্ষ টাকা করে আদায় করা হয়। এসময় লিবিয়ার জিলটন শহরে তাদেরকে আটকে রাখা হয়। ৬ মাস এখানেই থাকতে হয়েছে তাদের। একদিন আসে ইতালি যাওয়ায় গেইম খেলানোর দিন। যেদিন গেইম হবে সেদিন তাদেরকে লিবিয়ার উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় রাখা হয়। সেখান থেকে তাদেরকে তোলা হয় একটি প্লাস্টিকের নৌকায়।
ফেরত আসা শরীফ জানায়, প্রথম গেইমের নৌকায় ১২৫ জন যাত্রী ছিল। যাত্রীদের মধ্যে ৪৫ জন ছিল বাংলাদেশি। প্লাস্টিকের বোটে চড়ে তারা সাগর পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করে। এসময় তাদের বহনকারী প্লাস্টিকের নৌকাটি প্রায় ২৩ ঘণ্টা চলার পর তলদেশ ছিদ্র হয়ে যায়। যাত্রীরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও প্রাণে বাঁচতে পারেনি। খবর পেয়ে লিবিয়ার উপকূলরক্ষী বাহিনী তাদের কয়েকজনকে উদ্ধার করে আবারো নিয়ে জেল হাজতে রাখে।
শরিফ উদ্দিনের ভাই রাকিব উদ্দিন জানিয়েছেন, তাজপুর গ্রামের দুই সহোদরকে বহনকারী প্লাস্টিক বোটটি ছুটে চলে মাঝ সাগরের দিকে। এ বোটে তারাসহ ৯৯ জন যাত্রী ছিল। অচল-অকেজো বোটটি সাগরের বাতাসে দুলতে-দুলতে মাল্টা হয়ে ইতালির দিকে এগুচ্ছিল। পরে তিউনিশিয়ার উপকূল রক্ষী বাহিনী তাদেরকে উদ্ধার করে জেলে নিয়ে যায়। সেখান থেকে মুক্তি পেয়ে মঙ্গলবার ভোরে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশের বাড়ি ফিরছেন দুই সহোদর হাসান ও ইকবাল।
দালাল শামীম আহমদের পাঠানো যাত্রী নুরুল্লাপুর গ্রামের আজির উদ্দিনের ছেলে নাজিম উদ্দিন ভূ-মধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে মারা গেছে বলে জানা গেছে। ছাতক সদর ইউনিয়নের কান্দিগাও গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে ছাদিক মিয়া রয়েছে তুরস্কের জেল-হাজতে।
