প্র জ ন্মে র ফে স বু ক

ফটো স্টেরি

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৩৮
শৈশবে খুব দুষ্টু ছিলেন। বেড়ে উঠেছেন পুরান ঢাকায়। ফাত্তাহের ফটোগ্রাফি শুরুর গল্পটা সেই ছেলেবেলার। তখন থেকেই ফটোগ্রাফির প্রতি দারুণ আকর্ষণ ছিল তার। সুন্দর কিছু দেখলেই তার ছবি তুলতে ভালো লাগত। শুরুতে মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতেন। এর পর শুট টু পয়েন্ট ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করেন, সবশেষে ডিএসএলআর দিয়ে স্বপ্ন পূরণ ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ করেছেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিষয়ে। এইচএসসি পাস করেছেন নটর ডেম কলেজ থেকে। স্কুল ছিল সেন্ট গ্রেগরীজ হাই স্কুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ ৩য় বর্ষে পড়ার সময় ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফটোগ্রাফিক সোসাইটিতে (ডিইউপিএস) বেসিক কোর্সের মাধ্যমে শুরু হয় তার স্বপ্ন পূরণে পথচলা। ওখানে বড় বড় ফটোগ্রাফারদের সান্নিধ্যে আরও উজ্জীবিত হন। সবার জানা আছে যে ফটোগ্রাফি ব্যয়বহুল শখগুলোর মধ্যে একটি। এর জন্য দরকার যুগোপযোগী ও কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন ক্যামেরা ও লেন্স, মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানের পক্ষে এ শখ পূরণ তাই একরকম দুঃসাধ্য। ক্যামেরা এবং লেন্সের অর্থ যোগাড় করতেই মূলত ওয়েডিং ফটোগ্রাফিতে আসেন ফাত্তাহ। এছাড়া ওয়েডিং ফটোগ্রাফির প্রতি শুরু থেকেই একটা টান ছিল। ফ্রেন্ড এবং ক্লোজ রিলেটিভদের বিয়েতে ছবি তোলার মধ্য দিয়েই ওয়েডিং ফটোগ্রাফিতে পথচলা শুরু তার। ফেসবুকে ফ্রেন্ডদের রেসপন্স পেয়ে সিদ্ধান্ত নেন প্রফেশনালি ওয়েডিং ফটোগ্রাফি করার। ফেসবুকে পেজ ওপেন করেন ২০১২ সালে। পেজের নাম রাখেন ফটোস্টোরি ডট নেট। তিনি বর্তমানে অনেকটা সফল একজন ফটোগ্রাফার এইচএ ফাত্তাহ। পেজ খোলার পর থেকেই শুরু করেন প্রফেশনালি ফ্রিল্যান্সিং ওয়েডিং ফটোগ্রাফি। এরপর শুধু এগিয়ে চলা। বর্তমানে ফটোস্টোরি ডট নেটের পক্ষ থেকে নানা ধরনের সেবা দিচ্ছেন। ফটোগ্রাফি তার প্রধান সেবা হলেও বর্তমানে তিনি সিনেমাটোগ্রাফি এবং ভিডিওগ্রাফি সেবাও দিয়ে থাকেন। এছাড়াও স্টেজ ডেকরেশন, ভেন্যু ডেকরেশন, ডালা ডেকরেশন, প্রজেক্টর ও ব্যাক প্রজেক্টর সেবা দিচ্ছেন। এই সেবাগুলোর মূল্য মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যেই আছে বলে জানালেন। দেশে ও বিদেশে অনেক ওয়েডিং ফটোগ্রাফারের ফটোগ্রাফি তাকে অনুপ্রাণিত করে। তাদের মধ্যে ইরফান আহসান (পাকিস্তান), ফয়সাল মাসুম (বাংলাদেশ)-সহ আরও অনেকের কাজই তাকে অনুপ্রেরণা যোগায় বলে জানালেন ফেসবুক থেকে ক্যারিয়ার শুরু করা এই ফটোগ্রাফার।