নতুন প্রজন্মের কবি ও লেখকদের সাহিত্যচর্চা ও সাধনাকে গতিময় করার উদ্দেশ্যে এবং নতুন প্রজন্মদের সৃজনশীলধারাকে সঞ্জীবিত করার লক্ষ্যে এইচএসবিসি ও কালি ও কলম ২০০৮ সাল থেকে তরুন কবি ও লেখক পুরস্কার প্রবর্তন করেছে। যা নতুন প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক সাড়া মেলে। তারই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২০১৩ সালে সেরা সাহিত্য রচনার জন্য মোট পাঁচটি বিভাগে পুরস্কার দেয়া হয়। অন্যান্যবারের মত এবারও কবিতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ-গবেষণা-নাটক, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ এবং শিশু-কিশোর বিভাগে এ পুরস্কার দেয়া হয়। ‘একাকী জমিন’ কবিতাগ্রন্থের জন্য কবি মাসুদ পথিক এবং কথাসাহিত্য বিভাগে ওয়াহিদা নূর আফজার ‘বিতংস’ উপন্যাসটি পুরস্কার পায়। কালি ও কলম প্রতিযোগিতার বিচারকদের দৃষ্টিতে প্রবন্ধ, গবেষণা, নাটক বিভাগে সেরা নির্বাচিত হয়েছে ‘সমকাল পত্রিকার সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা’ গ্রন্থটি, যার লেখক রবিউল ইসলাম। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভাগে সেরা বই নির্বাচিত হয়েছে রাজিব আহমেদের ‘মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর দলিল ও ইতিহাস’ এবং লেখক মাশুদুল হকের ‘বিলু কালু আর গিলুর রোমাঞ্চকর অভিযান’ নামের বইটি শিশু-কিশোর বিভাগের সেরা হয়। প্রজন্মের মেধাবী এই পাঁচজন কবি ও লেখকদের নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। গ্রন্থনা করেছেন রিয়াদ খন্দকার, আহসান রনি ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
মাসুদ পথিক
তার শৈশবের কিছুটা সময় কেটেছে গ্রামে, কিছুটা শহরে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু করেছিলেন গ্রামে, মাঝখানে কিছু সময় শহরে থাকার পর আবারও ফিরে গিয়েছিলেন গ্রামে। গ্রামের সবুজের বিচ্ছুরণ, সকালে পাখির কিচিরমিচির—ঠিক যেন স্বর্গ মাটিতে। তাই এখনও গ্রামই তার মনোজগত্ দখল করে আছে। যখন নবম-দশম শ্রেণীতে পড়ছেন তখন বিভিন্ন পত্রিকায় নিজের লেখা কবিতা পাঠানো শুরু করেন এবং নানা পত্রিকায় তার লেখা ছাপা হতে থাকে। মাসুদের মতে, প্রথম প্রকাশিত ‘কৃষকফুল’ নামের বইটিতে ছিল তার লেখা কিছু আনাড়ি কবিতা। তিনি জানালেন, কবিতা লিখে এই প্রজন্মের কাছ থেকে যে সাড়া পেয়েছেন তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। তবে লেখালেখির ক্ষেত্রে পাঠক-সাড়া পাওয়ার ব্যাপারটির চেয়ে তার বেশি ভাবনা কাজ করে নিজের কাছ থেকে সম্মতি পাওয়া নিয়ে। ২০১৩ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত ‘একাকী জমিন’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি ‘কালি ও কলম এইচএসবিসি’ পুরস্কার অর্জন করেন। বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, ক্ষয়ে আসা পুরোনো মূল্যবোধ, প্রণয় আর প্রতারণা আর গোপন সব চেতনা মাসুদের কবিতায় নিজস্ব ঢঙে চমত্কারভাবে চিত্রিত হয়েছে। এই প্রজন্মের পাঠক কোন ধরনের বইয়ের প্রতি বেশি আকৃষ্ট—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বইয়ের পাঠকসংখ্যা খুবই কমে গেছে। প্রজন্ম এখন ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে থাকে। তবু যারা বইয়ের প্রকৃত পাঠক তারা নানা বিষয়ে জানতে আগ্রহী। তারা ইতিহাস, কবিতা, দর্শনের বই পড়তে ভালোবাসে।’ বর্তমানে ইতিহাস ও ফিল্ম বিষয়ে পড়শোনা করছেন মাসুদ পথিক। তিনি বর্তমানে ফিল্ম বানানোর কাজ করছেন। তার নির্মিত সিনেমার নাম ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’। এ ছাড়া ‘দ্য লস্ট মাদার’ এবং ‘দ্য রমনা পার্ক’ নামে দুটি সিনেমা তৈরির কাজে ইতোমধ্যে হাত দিয়েছেন। চলচ্চিত্র বিষয়ক একটি বই আগামী বইমেলার জন্য লিখতে চান তিনি। সবশেষে মাসুদ পথিক জানালেন, তিনি প্রথমত কবি, দ্বিতীয়ত কবি এবং তৃতীয়ত চলচ্চিত্র পরিচালক। তিনি সকলের জন্য এমন কাজ করে যেতে যান যা চিরস্মরণীয় ঘটনা হবে।
০০০০
রাজিব আহমেদ
মুক্তিযুদ্ধের পর পেরিয়ে গেছে ৪২টি বছর। এতদিনে আমাদের দৃষ্টি নির্মোহ হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা তর্কে তর্কে সময় পার করলেও ইতিহাস ধরে রাখার কোনো চেষ্টাই করছি না। মনে রাখতে হবে, একেকজন মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াণ মানেই মুক্তিযুদ্ধের কিছু ইতিহাস চিরতরে হারিয়ে যাওয়া। কোনো কোনো এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে কমবেশি প্রয়াস চলছে। এমনি এক উদ্যমী তরুণ চুয়াডাঙ্গার মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক ও সাংবাদিক রাজিব আহমেদ। কলেজ জীবন পেরুতে না পেরুতেই জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় অসংখ্য অনুসন্ধানী ও সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিবেদন লেখেন তিনি। বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় সংবাদপত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। চুয়াডাঙ্গার আটজন বীর-শহীদ মুক্তিযোদ্ধার জীবনীভিত্তিক প্রামাণ্য-গ্রন্থ ‘সম্মুখ সমরে’ নামক বইটি লিখতে গিয়ে চুয়াডাঙ্গার মুক্তিযুদ্ধের অনেক গৌরবময় কাহিনী জানতে পারেন তিনি। তখন থেকেই চুয়াডাঙ্গার মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস অনুসন্ধান তার অন্যতম লক্ষ্য হয়ে ওঠে। প্রাথমিক অবস্থায় তিনি বিভিন্ন বই ও পত্র-পত্রিকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা চুয়াডাঙ্গার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তথ্যাবলি একত্রিত করেন। সেই থেকেই তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গবেষক। আত্ম-উন্নয়নে প্রেরণাদায়ক বই ‘জীবন জয়ের জাদু’সহ তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ৫১। ২০১৩ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত ‘মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর দলিল ও ইতিহাস’ বইটি ‘কালি ও কলম এইচএসবিসি’-এর তরুণ কবি লেখক পুরস্কারে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভাগে সেরা বই নির্বাচিত হয়েছে। বইটি বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের মুজিবনগর পর্ব বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ। বাংলাদেশের ইতিহাস গবেষণায় বইটি অন্যতম ভূমিকা রাখবে বলে ‘কালি ও কলম এইচএসবিসি’ পুরস্কার কমিটি থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রজন্মের প্রতি তিনি বলেন, ‘বিশাল এই পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চের প্রদর্শনীতে সবাই অংশ নিচ্ছেন মাত্র। যার মেয়াদও খুব বেশি নয়। তাই এই সময়টাকে নিজের ইচ্ছে মতো সাজিয়ে নিতে দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার।’
০০০০
ড রবিউল ইসলাম
কালি ও কলম প্রতিযোগিতার বিচারকদের দৃষ্টিতে প্রবন্ধ, গবেষণা, নাটক বিভাগে সেরা নির্বাচিত হয়েছে ‘সমকাল পত্রিকার সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা’ গ্রন্থটি, যার লেখক ড. রবিউল ইসলাম। ড. রবিউল হোসেন নবীন গবেষক-গবেষণা ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে তিনি রেখেছেন দৃষ্টিগ্রাহ্য কৃতিত্বের পরিচয়। তার লেখার মধ্যে নতুন একটি ধারার দেখা পাচ্ছেন গুণী লেখকগণ। রবিউল হোসেনের ‘সমকাল পত্রিকার সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা’ একটি গুরত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ। সিকানদার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকা পূর্ব বাংলাকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা সৃজনের ক্ষেত্রে পালন করেছেন ঐতিহাসিক ভূমিকা। সিকান্দার আবু জাফর ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। তিনি একাধারে কবি, গীতিকার, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক এবং সর্বোপরি সাংবাদিক। সাহিত্যিক হিসেবে সিকানদার আবু জাফর যতটা প্রসিদ্ধ ছিলেন তারচেয়ে বেশি ছিলেন একজন পত্রিকা সম্পাদক হিসেবে। আমরা যে মুক্তবুদ্ধির স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি তারমূলে ছিল তার কণ্ঠস্বর এবং তার সম্পাদিত সমকাল পত্রিকার নানা উদ্দীপনামূলক নিবন্ধ। ১৯৫৭ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি সমকাল পত্রিকা ব্যবহার করেছেন দেশ ও জাতির কল্যাণে। এ পত্রিকার মাধ্যমে তিনি ত্রিশোত্তর ধারার প্রগতিশীল মুক্ত সাহিত্য ধারার বিকাশ, আন্দোলন এবং নতুন লেখক সৃষ্টিতে প্রেরণা দান করেন। তত্কালীন পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও সংস্কৃতি চর্চার যে ধারা প্রবাহিত হয় সিকানদার আবু জাফর ছিলেন তার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। পাকিস্তান সরকার রেডিও ও টিভিতে রবীন্দ্র সংগীত প্রচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি তার তীব্র বিরোধিতা করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় তিনি স্বাধীন বাংলা সরকারের পক্ষ নিয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ সাধনায় সমকাল-পত্রিকা সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাহিত্য ক্ষেত্রে যে ভূমিকা পালন করেছে, ঝিনাইদহের ছেলে রবিউল হোসেন তার গবেষণার মাধ্যমে তা চমত্কারভাবে তুলে ধরেছেন বইটিতে। পরিশ্রম, প্রযত্ন, নিষ্ঠার এক অনুপম স্বাক্ষর রবিউল হোসেনের সমকাল পত্রিকার সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা।
০০০০
ওয়াহিদা নূর আফজা
এইচএসবিসি এবং কালি ও কলম পুরস্কারে কথাসাহিত্য বিভাগে লন্ডনের ক্যালির্ফোনিয়ার প্রবাসী ওয়াহিদা নূর আফজার ‘বিতংস’ পুরস্কৃত হয়। ক্যাডেট কলেজ ব্লগে ধারাবাহিকভাবে একটি উপন্যাসটি লিখছিলেন। সেটিই বই আকারে বের হয়েছে ২০১২ সালের শেষে ডিসেম্বর মাসে। আগামী প্রকাশনী থেকে। ২০১৩’র বইমেলাতে সে বইটি আগামী প্রকাশনীর স্টলে পাওয়া গেছে। বইটি লেখার পেছনে তার যে উদ্দেশ্য কাজ করেছে তা হলো যেরকম একটি বই তিনি পড়তে চাইছেন কিন্তু হাতের কাছে পাচ্ছেন না, সেরকম কিছু লিখে ফেলা। আর লেখার আরেকটি মজা রয়েছে। সেটি হলো সৃষ্টির আনন্দ। এই সৃষ্টির মাধ্যমে খুব অলক্ষ্যে তিনি চাইছিলেন পাঠকের অনুভূতিগুলোকে স্পর্শ করতে। সেটাই আফজার সার্থকতা বলে মনে করেন তিনি। বই সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বললন, ‘বইটির পাণ্ডুলিপি আমার এক ভাগ্নেকে পড়তে দিয়েছিলাম। বইটির শেষের দিকের একটি চ্যাপ্টারে উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হিয়া আর আর্মি অফিসার রেজওয়ানের কিছু সংলাপ ছিল। সেসব সংলাপে ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআরের ম্যাসাকারের কথা কিছু উঠে এসেছিল। সে অংশটি পড়ে আমার ভাগ্নে রীতিমতো ক্ষেপে গিয়ে আমাকে তা বদলে দিতে বলে। ওর যুক্তি হলো সে অংশ পড়ে তার মনে হয়েছে যে আমি আর্মিদের পক্ষে সাফাই গাইছি। যখন দেশে ছিলাম তখন আমি ঠিক একাত্মভাবে কোনো একটি পক্ষ নিয়ে আরেক পক্ষকে ঘৃণা করতাম না। পাখি যেমন উড়ে যেতে যেতে জনপদ দেখে যায়, আমারও ঠিক সব কিছু পাখির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে ভালো লাগে।’ বইটিতে গল্প বলার সময় অনেক বাস্তব ঘটনা উল্লেখ করতে হয়েছে, সত্তর দশকের বাংলাদেশের ছবি আঁকতে হয়েছে। সে সময়টা তার নিজের শৈশবের। তবে একটি উপন্যাস লিখতে গেলে তো শুধু আর লোকমুখের কথায় ভরসা করা যায় না। সে সময়টা আত্মস্থ করতে তাকে অনেক পড়াশোনা করতে হয়েছে। যারা তাকে বিভিন্ন সময় উত্সাহ দিয়েছেন, গঠনমূলক সমালোচনা করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
০০০
মাশুদুল হক
গতবারের বইমেলায় তার বই ‘বিলু কালু আর গিলুর রোমাঞ্চকর অভিযান’ যাওয়ার ঠিক পরদিনই বইয়ের স্টলে আগুন লেগে পুড়ে যায় এ বইয়ের সবকটি কপি। তাই অনেক পাঠকই বইটা হাতে পাননি। দারুণ হতাশ হয়েছিলেন কারণ প্রথম প্রকাশিত দুটি বইয়ের মধ্যে এ বইটির কাজ তিনি নিজের হাতে করেছিলেন, দরদাম করে কাগজ কিনেছেন, প্রেস ঠিক করেছেন, কোথায় বাঁধাই হবে সেটাও ঘুরে ঘুরে ঠিক করেছেন, প্রকাশক জামিল ভাই জানতেন যে সবকিছু এত পছন্দসই বাছাই করতে গেলে এটা শেষমেশ খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে হবে, তিনি বলতেন, লস হোক, এটার ছাপানো আমার স্বপ্ন... জামিল ভাইকে ফোনে পুরস্কারের কথা জানানোর পর তিনি বলেছেন—যাক আমাদের স্বপ্নের কাজটা বৃথা যায়নি! বইয়ের গল্প বলতে গিয়ে তিনি বললেন, ‘রাজার ছেলে বিলু একদিন প্রাসাদের দাওয়ায় বসেছিল। তাই দেখে রাজা রেগে গেলেন। পাইক পেয়াদা, বরকন্দাজকে হুঙ্কার ছেড়ে ডাকলেন, কে আছিস? বাঁদরটাকে ধরে নিয়ে আয়! তাই শুনে, পাইক পেয়াদার লাঠি সোঠা, তীর ধনুক, বর্শা আর হাতের কাছে যা ছিল তাই নিয়ে ছুটল। রাজপ্রাসাদে বাঁদর, দেখো দেখি! কিন্তু কোথায় বাঁদরটাকে দেখতে না পেয়ে শেষমেশ একদল বনের দিকে রওনা দিল বাঁদর ধরতে, আর একদল গেল চিড়িয়াখানার কর্তাকে ধরে আনতে।’ এই দিয়ে শুরু হয়েছে গল্প। সকলের বাদর খোঁজার গল্প এতই রোমাঞ্চকর ছিল যা জয় করে নিয়েছিল শিশু-কিশোরসহ অসংখ্য পাঠকের মন। আর তারই স্বীকৃতি হিসেবে প্রথম লেখক হিসেবে ‘এইচএসবিসি-কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক’ অ্যাওয়ার্ডে শিশু ও কিশোর সাহিত্য শাখায় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। একদমই হালকা মেজাজে লেখালেখি করেন, বাংলাভাষার রূপকথার কিছু প্রতিষ্ঠিত ব্যাপার ও চরিত্রগুলো নিয়ে একদমই উল্টাপাল্টা গোছের চিন্তাভাবনা করে লিখেছেন বইটি।
