স্নোক্যাপ থেকে স্টার

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৩৯
লোকটার নাম শন ফ্যানিং। একজন আমেরিকান। পেশায় কম্পিউটার প্রোগ্রামার। একইসাথে একজন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী হিসেবেও পরিচিত। তবে এসব দিক দিয়ে নয়, তিনি মূলত খ্যাতিমান হয়েছেন একটি ওয়েবসাইটের কল্যাণে, যার নাম ন্যাপস্টার। কোম্পানিটি যার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেই শনের কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম এ সাইটটির কথা কমবেশি আমরা সবাই জানি। ন্যাপস্টার নামক সাইটটির ডেভেলপার হিসেবে একনামে সবাই চেনে শন ফ্যানিংকে। শুরুতেই ন্যাপস্টার জনপ্রিয় কিছু ওয়েবসাইটের তালিকায় প্রথম স্থানটি দখল করে নেয়। এটাই প্রথম পিয়ার টু পিয়ার (পিটুপি) ফাইল আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্ম। ১৯৯৮ সালে এ সাইটটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে অনলাইন জগতে। সেসময় এ সাইটটির জনপ্রিয়তা এত বেড়ে গিয়েছিল যে, ফ্যানিংয়ের নাম ‘টাইমস’ ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের শীর্ষ তালিকায় উঠে আসে। হতাশাজনক যে, ২০০১ সালের মাঝামাঝি সাইটটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এক কপিরাইট মামলায়। দীর্ঘ সময় ধরে এ মামলা চলতে থাকে, আর এ সময়ের পুরোটা বন্ধ থাকে ন্যাপস্টারের কার্যক্রম। এরপর সাইটটিতে সাবস্ক্রিপশনের ব্যবস্থা করা হয়। ফ্যানিং নিজে বিনিয়োগ করেন। ন্যাপস্টারের শুরু ফ্যানিংয়ের জন্ম ম্যাসাচুসেটস শহরের ব্রোকটন এলাকায়। ছোটবেলা থেকে গ্রীষ্মের ছুটিতে প্রায়ই তিনি তার চাচার সাথে একটা ইন্টারনেট কোম্পানিতে কাজ করতে যেতেন। চেজ নেট নামের সেই কোম্পানিতে গিয়ে বেশিরভাগ সময়ই তার কাটত চেয়ারে বসে। চাচার সাথে থাকার এ সময় থেকেই তার মাথায় ঘুরছিল ন্যাস্টারের চিন্তা। যখন তিনি কোডিং শেখেন, সেটা দিয়ে প্রথমে একটা প্রোগ্রাম লেখেন যাতে করে সবাই অনলাইন থেকে গান ডাউনলোড করতে পারবে। এক কথায় বলা যায়, গান ডাউনলোড করার সহজ পন্থার কথা ভেবেছিলেন তিনি। ১৯৯৮ সালে তিনি হারউইচ হাইস্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করেন। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে তিনি আবার বোস্টনের নর্থ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে তিনি আবার তার চাচার সাথে চেজ নেট কোম্পানিতে কাজ করতে যেতেন। ফ্যানিংয়ের চাচা তার প্রোগ্রামিং আগ্রহ এবং ইচ্ছার কথা শুনে তাকে উত্সাহ যোগান ন্যাপস্টার সিস্টেম বানানোর জন্য। সাইটটি চালু করার পর তিনি ‘ওয়াইরিড’ নামক এক পত্রিকার কভার পেজে আসেন। ন্যাপস্টারের মূল লক্ষ্য ছিল মিউজিক। এরজন্য বিভিন্ন মিউজিক কোম্পানিতে গিয়ে তাদের সাইটের প্রমোশনের ব্যাপারে কথা বলেন ফ্যানিং। এরপর ন্যাপস্টারের জন্য লোগো এবং ট্রেডমার্ক কেনা হয়। স্নোক্যাপ ২০০৩ সালে ফ্যানিং ‘স্নোক্যাপ’ নামের আরেকটি কোম্পানি শুরু করেন। জরদান ম্যান্ডেলসন (চিফ আর্কিটেকটার অব ন্যাপস্টার) ও রন কনওয়ে নামের দুজন ব্যক্তির সাথে মিলিতভাবে এই কোম্পানির সূচনা করেন তিনি। ডিজিটাল মিডিয়া হিসেবে বাজারে আসে কোম্পানিটি। কিন্তু শুরুটা হয় তাদের খুব খারাপভাবে। তাদের পরিবার থেকে এই ব্যাপারে তারা তেমন সাড়া পাননি। সাড়া পাননি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকেও। তাদের প্রাইমারি পার্টনার হিসেবে থাকা ‘সিডি বেবি’ তাদের পার্টনারশিপ নিয়ে একটা বক্তব্য প্রকাশ করেন। এরপর ২০০৭ সালে, একটা আর্টিকেলে বলা হয় ফ্যানিং তার নতুন কোম্পানি থেকে অনেক দূরে চলে গেছেন। সে বছরই তিনি ‘র্যাপচার’ নামের আরও একটি প্রজেক্টের ঘোষণা দেন। আর এদিকে স্নোক্যাপ বিক্রির কথা জানান তিনি। এক বছরের মধ্যে তিনি ক্রেতাও পেয়ে যান। র্যাপচার ডিসেম্বর, ২০০৬। ফ্যানিং প্রথম ন্যাপচার ডেভেলপ করেন। এটিকে একধরনের সোস্যাল নেটওয়ার্ক বলা চলে। এখানে গেম খেলার ব্যবস্থা করা হয়। স্বভাবতই গেমারদের আগ্রহের উত্স হয়ে ওঠে সাইটটি। এই সাইটেই প্রথম অনলাইন কানিক্টিভিটির মাধ্যমে গেম খেলার ব্যবস্থা করা হয়। ওয়ার্ল্ড অব ওয়ারক্রাফট গেমের সূএপাত ঘটে এখান থেকেই। পরবর্তীতে র্যাপচার, ইলেক্ট্রনিক আর্টস কোম্পানি কিনে ফেলে। কেনার সময় এর মূল্য ছিল ১৫ মিলিয়ন ডলার। ইলেক্ট্রনিক আর্টস কোম্পানিতে ফ্যানিংয়ের ক্যারিয়ার শুরু হয়। পাথ ইলেক্ট্রনিক আর্টস থেকে বের হয়ে ফ্যানিং শুরু করেন নতুন ধরনের কোম্পানি, পাথ ডট কম। এই কোম্পানি যাত্রা শুরু করে ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে। ডেভিড মোরিন সেসময় ঘোষণা দেন তার ফেসবুক ছাড়ার কথা। এরপর তিনি ফ্যানিংয়ের পাথ নামের কোম্পানিতে সিইও পদে যোগ দেন। পপুলার কালচার তার ক্যারিয়ার শুধু এমন ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, গ্ল্যামার জগতেও ছিল তার বিচরণ। ২০০০ সালে তিনি এমটিভিতে ভিএমএস হিসেবে ছিলেন। তিনি মেটালিকার টি-শার্ট পরতেন। একনজরে শন ফ্যানিং জন্ম তারিখ ও স্থান :২২ নভেম্বর, ১৯৮০, ম্যাসাচুসেটস শহরের ব্রোকটন এলাকায় আবাস :ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো শহরে জাতীয়তা :আমেরিকান পদবী :ফাউন্ডার ও ডেভেলপার অব ন্যাপস্টার আরও কিছু কাজ :স্নোক্যাপ, র্যাপচার ও পাথ।