বিয়ের বাড়ি সাজানো থেকে শুরু করে বিয়ের প্রায় সব কাজেই সৃজনশীলতা জরুরি। বিয়ে যেহেতু মানুষের জীবনের অনেক বড় একটা অধ্যায়, সেহেতু সবাই চায় তার জীবনের এই মুহূর্তটাকে অনেক সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে। তাই এই পেশায় থাকে অনেক দায়িত্বের ভার। ওয়েডিং প্ল্যানারদের তাদের সর্বোচ্চটি দেওয়ার চেষ্টা করতে হয়। এই পেশার ভবিষ্যত্ যে ভালো এটি নিয়ে কারো আজ কোনো সন্দেহ নেই। এই প্রজন্মের কয়েকজন ওয়েডিং প্ল্যানারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এই পেশা নিয়ে তাদের প্রত্যাশার কথা। তা জেনে লিখেছেন আহসান রনি
পলা রহমান
ক্রিয়েটিভ হেড, ওয়েডিং ডায়েরি
ওয়েডিং প্ল্যানিং একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং চ্যালেঞ্জিং পেশা। এ কাজের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ভালো ডিজাইন করা আর বাজেটের মধ্যে প্রয়োজনীয় ভেন্ডর ম্যানেজ করাকেই বোঝায় না। এই কাজের উদ্দেশ্য ক্লায়েন্টের অনুষ্ঠানকে সফল করা এবং অনুষ্ঠানের সব কাজ ক্লায়েন্টের জন্য সহজ এবং আনন্দদায়কভাবে উপস্থাপন করা। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ইদানীং ওয়েডিং প্ল্যানিংকে একটি স্বাধীন পেশা হিসেবে আগ্রহের সাথে নিচ্ছেন। তিনি প্রত্যাশা করেন সকলে যেকোনো পেশা শুরুর আগে সেটা সম্পর্কে ভালো মতো জেনে তারপর কাজ করবে। একটা ভালো পরিকল্পনা, মার্কেট সম্পর্কে আইডিয়া, যে সেক্টর নিয়ে কাজ সে সেক্টরের ভেন্ডর, ভ্যানু আর কাজের ম্যাটেরিয়াল সম্পর্কে ভালোমতো জানা, প্রয়োজনীয় ক্যাপিটাল, প্রচার এবং ব্র্যান্ডিং বিষয়ে জেনে তারপর নতুনরা এই পেশায় আসবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। তাহলেই এ ক্ষেত্রে সফল হওয়া সম্ভব। তিনি প্রত্যাশা করেন সরকার কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ আর কাজের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। ইদানীং ইভেন্টের সরকারি এবং বেসরকারি ভেন্যুগুলোতে কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে। এই সুযোগ বাড়ানো হবে বলেই আশা তার। এছাড়া ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মগুলো পরিচালিত হওয়ার জন্য, সরকারের নির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা করা হবে বলে আশা তার।
০০০০
প্রকৌশলী মাইনূর হোসেন নিহাদ
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রধান ফটোগ্রাফার, বিডি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ওয়েডিং প্ল্যানারস
বর্তমানে ওয়েডিং প্ল্যানিং পেশার উপর মানুষের আগ্রহ এবং দৃষ্টিকোণ দুটোরই পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ এখন ওয়েডিং প্ল্যানারদের সম্মান ও গুরুত্ব দিয়ে কথা বলে যা কিনা আমাদের নতুন প্রজম্মকে এই পেশায় আগ্রহ তৈরি করতে সয়হতা করবে। এই পেশার সবচেয়ে ভালো দিক সত্ এবং সততা। এই পেশায় ফাঁকি দেওয়ার উপায় খুবই কম। তাছাড়া পেশাটিতে নির্দিষ্ট এলাকা হয়ে কাজ না করে অনেক জায়গায় কাজ করা যায়। ফলে জীবনে যারা নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান তাদেরকে এই পেশায় প্রত্যাশা করেন তিনি। প্রত্যেকটা মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান ইভেন্ট নিয়ে বিজনেস করতে হয় এই পেশায়। ফলে এই পেশাটিকে সকলে গুরুত্বের সাথে নেবে বলে আশা তার। তাছাড়াও স্টুডেন্ট অবস্থায় অনেকে জড়িত হতে পারে ইচ্ছে করলে। তিনি প্রত্যাশা করেন সরকার এই পেশা সম্পর্কিত কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করবে, সরকারি এবং বেসরকারি হলগুলোতে কাজ করার সময় অতিরিক্ত কমিশন পদ্ধতি বন্ধ করবে। যারা এই পেশায় আসতে চায় তারা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কিছু পড়াশোনা করে এই পেশায় প্রবেশ করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। বাস্তবে এই বিষয়ে পড়াশোনার খুব সুযোগ না থাকলেও অনলাইন স্টাডি এই পেশার জন্য খুবই জরুরি। ভবিষতে যে তরুণরা এই পেশায় আসবে তাদের কাছে তার প্রত্যাশা একটাই, তারা যেন এই সেক্টরটিকে সমাজের কাছে আরও সুন্দর করে তুলে ধরে।
০০০
অপূর্ব আব্দুল লতিফ
ডিরেক্টর, ওয়েডিং স্টোরি
ফটোগ্রাফি করা বলতে ছবির ফ্রেমের প্রকৃতি নির্ধারণ এবং ফ্রেমের মধ্যে ছবির উপাদানগুলোকে গ্রহণ, বর্জন, অবস্থান, সেগুলোর রিলেটিভ সাইজ, রং এবং টোনাল কোয়ালিটি নির্ধারণ ইত্যাদি কাজকে বুঝায়। আজকের দুনিয়ায় মিডিয়া থেকে শুরু করে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি, এমনকি ব্যক্তিগত জীবনে অর্থাত্ বিয়ের উত্সব-অনুষ্ঠানেও ছবি জীবনের একটা অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং ওয়েডিং ফটোগ্রাফারদের ক্যারিয়ারটা ভবিষ্যতে যে বেশ মজবুত হচ্ছে সেটা বুঝাই যাচ্ছে। ফটোগ্রাফার হলেই হলো না, ভালো ফটোগ্রাফার হওয়ার জন্য সবাই কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। তিনি আশা করেন তরুণরা ভালো ফটোগ্রাফি শিখে বাজারে নামবে কারণ ভালো ফটোগ্রাফারের একটা আলাদা মূল্য সবসময় আছে। ফটোগ্রাফির গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এর সৃজনশীলতা বা সৃষ্টিশীলতা। ক্যামেরা দিয়ে যাচ্ছেতাইভাবে ছবি তোলাটা সৃষ্টিশীল ফটোগ্রাফি নয়। সৌখিন হোক বা পেশাদার হোক, আস্থার সাথে সৃষ্টিশীল ফটোগ্রাফি করতে ধারাবাহিকতার সাথে অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ দরকার। তাই তিনি প্রত্যাশা করেন ওয়েডিং ফটোগ্রাফি যারা করতে চায় তারা কাজটি শিখে তারপর এই পেশাতে নিজেদের যুক্ত করবে।
