রাজনীতি ও ইতিহাস : একটি হার্মেনিউটিক বিবেচনা

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৪, ২১:০৭
বাংলাদেশের ইতিহাসকেন্দ্রিক সামপ্রতিক রাজনীতির তাত্পর্যপূর্ণ ও বিস্ময়কর দুটি বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দলটি নিষিদ্ধ না হওয়া এবং ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত’ আকস্মিক, কৌশলগত তথা ইতিহাস-অসমর্থিত দাবি উত্থাপন। এই বিস্ময় থেকেই যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে সেটিকে হার্মেনিউটিক পদ্ধতি অনুযায়ী আমরা বিবেচনা করতে পারি। এই বিতর্কে সত্য ও মিথ্যা দুটি আলাদা পক্ষ হওয়া সত্ত্বেও তারা উভয়েই একই বিষয় নিয়ে ব্যাপৃত আছে। হার্মেনিউটিক পদ্ধতির উত্পত্তির সাথে জড়িত প্রাচীন গ্রীক নগর রাষ্ট্রের ডেলিফ দেবীর মন্দিরের পুরোহিত হার্মেস-এর নাম। কোন ব্যক্তি দেবী ডেলিফর নিকট কোন জটিল, কঠিন বা সমস্যা সমাধানের নিমিত্তে শরণাপন্ন হলে ইথাইলিন গ্যাসের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন নেশাগ্রস্ত হার্মেসের মুখ দিয়ে ডেলিফর সিদ্ধান্ত বা আদেশ প্রকাশ পেত। এক্ষেত্রে পুরোহিত হার্মেস তার ইচ্ছামত ব্যাখ্যা দিয়ে শরণাপন্ন ব্যক্তিকে দেবীর বক্তব্য জানিয়ে দিত। হার্মেস কর্তৃক অনুসৃত পদ্ধতির মধ্যে মিথ্যা, চুরি, তথ্য-গোপন বা কখনো আবার সত্য ও সঠিক বিষয় স্থান পেত। মানুষের বোধগম্যতার যা বাইরে আছে তার আকৃতি, প্রকৃতি, উপাদান ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের বুদ্ধিমত্তায় সাগ্রহে গ্রহণ করার মত করে একটি আকার দেয়া হচ্ছে হার্মেস কর্তৃক অনুসৃত পদ্ধতির মূল দিক। একটি জিনিস বা পরিস্থিতিকে অবোধ্যতা থেকে বোধগম্যতার পর্যায়ে নিয়ে আসার সাথে হার্মেস সম্পৃক্ত, সে একজন ধড়িবাজও বটে! এই প্রহেলিকাময় শুরুর সাথে, আমরা পূর্বানুমান করতে পারি যে, বিড়ম্বনাপূর্ণভাবে, হার্মেনিউটিক্স বোঝা খুব একটা সহজ অথবা খুব সহজবোধ্য নাও হতে পারে। উত্পত্তিগতভাবে সত্য-মিথ্যা বা তথ্য সম্পর্কিত কারচুপির ঐতিহ্য অনুসারে হার্মেনিউটিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে কোনকিছু ব্যাখ্যা করাও খুব একটি জটিল ও কঠিন কাজ। বর্তমান নিবন্ধের লক্ষ্য হচ্ছে হার্মেনিউটিক পদ্ধতির সূত্র অনুযায়ী বাংলাদেশে ইতিহাসকেন্দ্রিক সামপ্রতিক রাজনীতির উপর সংক্ষেপে আলোকপাত করা। ইতিহাস ও রাজনীতি : রাজনীতি এবং ইতিহাসের সম্পর্ক নিয়ে বলা হয় Without history politics has no root, and without politics history has no fruit. আসলে, অতীত ঘটনা বর্তমানে চলমান বিষয়গুলোকে কোন না কোনভাবে প্রভাবিত করে। বর্তমানের একটি বিষয়কে পরিপূর্ণভাবে অনুধাবনের একমাত্র উপায় হচ্ছে অতীতের মধ্যে এর মূল সম্পর্কে অবহিত হওয়া। ই.এইচ.কার (১৯৬১: ১৪১) এটিকে সর্বোত্তমরূপে উপস্থাপন করেছেন, “the dual and reciprocal function of history is to promote our understanding of the past in the light of the present and of the present in light of the past.” অর্থাত্ ইতিহাসের দ্বৈত এবং পরস্পর নির্ভরশীল কাজ হচ্ছে বর্তমানের আলোকে অতীত সম্পর্কে এবং অতীতের আলোকে বর্তমান সম্পর্কে আমাদের ধারণার বিকাশ সাধন করা। হার্মেনিউটিক পদ্ধতি : হার্মেনিউটিক (Hermeneutic) বা হার্মেনিউটিক্স (Hermeneutics) হচ্ছে ব্যাখ্যার তত্ত্ব ও পদ্ধতি। এটিকে ব্যাখ্যার শিল্পকলা হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। এ শব্দটি উত্পত্তি লাভ করেছে গ্রীক শব্দ হার্মেনিউইন থেকে যার অর্থ হচ্ছে “ব্যাখ্যা করা”। প্রাচীন গ্রীক নগর রাষ্ট্রের ডেলিফ দেবীর মন্দিরের পুরোহিত ‘হার্মেস’-এর নামের সাথে এটি সম্পৃক্ত। হার্মেসকে কখনো কখনো কেউ দেবতা হিসেবেও উপস্থাপন করেছেন। এই নামটি সম্পর্কে প্রাচীনতম সূত্র খুঁজে পাওয়া যায় ‘Cratylus’ শীর্ষক প্লেটোর একটি সংলাপে। সংলাপটি শুরু হয় হঠাত্ করে। ‘ক্রাটাইলাসে’ সক্রেটিস উল্লেখ করেন যে, হার্মেসকে ব্যাখ্যাকারী বা বার্তাবাহক হিসেবে এমনকি চোর, মিথ্যুক বা মতলববাজ বা উদ্ভাবনকারী হিসেবেও আখ্যায়িত করা যেতে পারত। সক্রেটিস বলেন, হার্মেস’র উদ্ভাবন অনুযায়ী, শব্দগুলোর ফাঁস করে দেয়ার, এমনকি লুকিয়ে রাখার এবং স্থগিত রাখার ক্ষমতা আছে। কোন বক্তৃতা প্রায় সবকিছুই তাত্পর্যপূর্ণ করে তুলতে পারে এবং বিষয়গুলোকে এদিকে এবং সেদিকে ঘুরাতে পারে। বস্তুত শব্দগুলোর উপর আমরা কখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারি না, জোর করে ধরে রাখতে পারি না, নিশ্চল করে রাখতে পারি না (যেন এদের মধ্যে কোনো ভ্রান্তি আছে), শব্দগুলোর অর্থ সবসময় পরিবর্তন হয়ে থাকে, কারণ প্রেক্ষাপট সবসময় পরিবর্তিত হচ্ছে। ‘ক্রাটাইলাসের’ মধ্যেই হার্মেস কলঙ্কময় খ্যাতি অর্জন করা শুরু করে। হার্মেনিউটিক্স ্পদ্ধতির সাহায্যে কোনকিছু অনুধাবন সম্পর্কে বোনটেকো (১৯৯৬) বলেন, ‘অনুধাবন হচ্ছে প্রকৃতিগতভাবে প্যাঁচালো বা বৃত্তাকার। কোন ঘটনা বা কাহিনী সম্পর্কে অনুধাবনের ব্যাপারটি শুরু হয় ঘটনার মধ্যস্থল থেকে : যা ইতোমধ্যে যথারীতি জানা হয়েছে, তা সর্বদাই যা অনুধাবন করার বা জানার আছে সেটিকে আয়ত্ত করার একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এভাবে, অনুধাবন হচ্ছে মূলগতভাবে একটি প্রসঙ্গমূলক গৃহীত উপায়; আমরা কোনকিছু অনুধাবন করতে এটিকে অন্যকিছুর সাথে তুলনা করি। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ অভিধানে “তিন” সংখ্যাটির সংজ্ঞা খুঁজতে থাকে, সেখানে দেখা যায় এটি হচ্ছে দুই এবং চার এর মধ্যস্থানের একটি সংখ্যা; একইভাবে সংজ্ঞাগত দিক দিয়ে “চার” সংখ্যাটি হচ্ছে তিন এবং পাঁচ এর মধ্যস্থানের একটি সংখ্যা, ইত্যাদি।’ হার্মেনিউটিকসের এই সূত্র অনুযায়ী বাংলাদেশের ইতিহাসকেন্দ্রিক রাজনীতির উল্লেখিত সামপ্রতিক দুটি বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে হলে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের আগের প্রাসঙ্গিক ঘটনার পাশাপাশি একাত্তরের পরের বিশেষত ১৯৭৫ এর কলঙ্কজনক ও বিয়োগান্ত ঘটনাবলীর পরবর্তীকালের প্রাসঙ্গিক ও উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো অনুধাবন করতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও প্রথম রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে যে ইতিহাস সকলের জানা তা হলো, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঘোষণা দেন সেটিই আসলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা। আর বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা ঘোষণার এক্তিয়ার ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এদেশের জনগণই দিয়েছিল। ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ সম্পর্কে বিএনপি নেতৃত্বের সামপ্রতিকতম দাবির সাথে বিএনপির দলীয় ওয়েবসাইট http://bangladesh-nationalistparty-bnp.org/ content.aspx?table-name=webitem2&id=9&child=null&parentid=null-এ প্রদত্ত তথ্য মিলিয়ে দেখা যেতে পারে। গত ২৯ মার্চ শনিবার পর্যন্ত এই ওয়েবসাইটে দেখা গিয়েছে, ‘১৯৭৮ সালে বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত দলটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল।’ যদিও দলীয় ওয়েবসাইটে এই বিবরণ বহাল থাকা অবস্থায় গত মঙ্গলবার ২৫ মার্চ লন্ডনে এবং এর পর ২৭ মার্চ বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিএনপির নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দাবি করে বক্তব্য দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যথারীতি এর তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিতর্ক সৃষ্টি করা হলো কেন? এই প্রশ্নের উত্তরের সাথে সামপ্রতিককালের আর একটি কৌতূহলোদ্দীপক এবং ঐতিহাসিক প্রশ্নোত্তরের মিল খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। সেই প্রশ্নটি হচ্ছে, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে যে দলটি, স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছর পরেও তারা রাজনীতি করার সুযোগ পায় কীভাবে?’-এই তাত্পর্যপূর্ণ প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন স্বয়ং (কথিত) দলটির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদীর পুত্র সৈয়দ ফারুক মওদুদী। কয়েকদিন আগে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এই দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য আদালতে তথ্য-প্রমাণসহ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে শীঘ্রই তার মূল্যবান রায় প্রদান করবেন। বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে স্বাধীন বাংলাদেশে এই দলটি রাজনীতি করার জন্য হয়তো নিষিদ্ধ ঘোষিত হবে! স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করার জন্য জামাত-ই-ইসলাম যদি নিষিদ্ধ হয় তাহলে স্বাধীনতার বিপক্ষ বলতে নামে কোন পক্ষ দৃশ্যত থাকছে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে যে সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, তার বিরোধী পক্ষেরতো একটি বক্তব্য থাকতে হবে। সেই বক্তব্যটি কী হবে? প্রশ্ন হচ্ছে, রাজনীতিতে ভিন্ন পক্ষ থেকে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে একপক্ষ থাকা অর্থাত্ ঐকমত্য পোষণ করা কী অসম্ভব ব্যাপার? এর উত্তর হচ্ছে, ইতিহাস সম্পর্কে একমত পোষণ করেও সমসাময়িক রাজনীতিতে বিরোধী পক্ষ হওয়া যেতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে এটি হচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নটি নিয়ে ব্যাপৃত হলে দীর্ঘ কাহিনীর জন্ম দিবে। তবে এখন শুধু এটুকুই বলা উচিত যে, এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে একটি কৃত্রিম বা কৌশলগত বিতর্কের জন্ম দেয়ার চেষ্টা। এই চেষ্টার সাথে যে পাকিস্তানের গর্ভ থেকে বাংলাদেশের রক্তাক্ত অভ্যুদয় ঘটেছে সেই ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রটির কৌশলগত মতাদর্শের একটি মিল খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। পাকিস্তানের ইতিহাসের তিন ধরনের প্রধান দাবি লক্ষ্য করা যায়। (১) ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব যার ভিত্তিতে দ্বিজাতি তত্ত্ব তথা ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের জন্ম। (২) পাকিস্তান সৃষ্টির পর জিন্নাহ্ কর্তৃক ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার তথা ধর্মনিরপেক্ষ ধরনের রাষ্ট্রের আহ্বান। (৩) জিন্নাহ্, তার একান্ত সচিব ও তার টাইপ মেশিন দ্বারা সৃষ্ট পাকিস্তান। অবশ্য ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের একজন বাংলাদেশি সমর্থক পাকিস্তান সৃষ্টিকে একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বাংলাদেশের রক্তাক্ত অভ্যুদয়কে সেই বিশ্বাসঘাতকতার সমাপ্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রসঙ্গক্রমে পাকিস্তান সৃষ্টির দাবিদার সম্পর্কে কায়দে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। কে এইচ খুরশিদ এবং খালিদ হাসান তাদের “Memories of Jinnah” শীর্ষক গ্রন্থে এ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছেন, জিন্নাহকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, “Who else contributed to the realization of Pakistan?” এর উত্তরে জিন্নাহ বলেছেন, “I will tell you who made Pakistan: Myself, my secretary and his typewriter.” জিন্নাহ্র এই বক্তব্য সম্পর্কে খুরশিদ এবং খালিদ বলছেন, ‘এটি সত্যের কোন অপলাপ ছিল না!’ পাকিস্তানের এই ধর্মীয়-সামপ্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ ও কৌশলগত মতাদর্শগত অবস্থানের বিপরীতে বাংলাদেশের রক্তাক্ত অভ্যুদয়ের মতাদর্শ ছিল অসামপ্রদায়িক ন্যায়ভিত্তিক দেশ গড়া। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে যে সংবিধান তৈরি করা হয় সেখানে “গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ” এই চার মূলনীতি স্বাধীন বাংলাদেশের মতাদর্শ হিসেবে গণ্য হওয়া ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপুষ্ট হয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস। যারা এই মতাদর্শের পাল্টা মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে প্রচেষ্টারত তাদের অনেক ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে হয়। যেসব কৌশল কেবল প্রাচীন গ্রীক নগর রাষ্ট্রের ডেলিফ দেবীর মন্দিরের পুরোহিত হার্মেসের কৌশলকেই স্মরণ করিয়ে দেয়! লেখক: অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং পরিচালক, সাউথ এশিয়ান স্টাডি সার্কেল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়