অর্থ সংকটে পড়েছে পাবনা সুগার মিলস লিমিটেড। উত্পাদিত ১৩ হাজার টন চিনি বিক্রি না হওয়ায় মিলটি চরম অর্থ সংকটে পড়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫৫ কোটি টাকা। এছাড়া মিলটিতে শুধু কৃষকের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি টাকা।
অপরদিকে মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুই মাসের বেতন বাবদ আরো প্রায় দেড় কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বলে মিল সূত্রে জানা গেছে। এদিকে সময় মতো বিল না পাওয়ায় আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকেরা। গতকাল রবিবার সরেজমিনে মিল এলাকা ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, গত ২০ ডিসেম্বর ১২৫ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে পাবনা সুগার মিল লিমিটেড চলতি মৌসুমে মাড়াই মৌসুম শুরু করে ।
মিল সূত্রে আরো জানা যায়, প্রতি টন ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৪০ হাজার টাকা দাম নির্ধারণ করা হলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। মিলে উত্পাদিত চিনির চেয়ে খোলা বাজারের চিনির দাম অনেক কম বলেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকদের কেউ কেউ জানান, টাকার অভাবে তারা মাঠের মুড়ি আখের পরিচর্যা করতে পারছে না এবং শ্রমিকদের হাজিরা বকেয়া রয়েছে। এসব কারণে কৃষকেরা আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। কৃষকরা অনেকেই ১০ থেকে ১৫ ভাগ কমিশনে তাদের বিল মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
এব্যাপারে বাংলাদেশ আখ চাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব শাহজাহান আলী পেঁপে বাদশা বলেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে কৃষকেরা আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। আর্থিক সংকটের কথা স্বীকার করে পাবনা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমল কান্তি সরকার বলেন, মিলে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। মূলত চিনি বিক্রি না হওয়ার জন্যই চাষিদের পাওনা টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। চাষিদের পাওনা টাকা পরিশোধ করার জন্য কর্পোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আশা করি খুব শ্রীঘ্রই একটি ভাল সমাধান দিতে পারবো।
