এমপি হিরনের অবস্থার কিছুটা উন্নতি

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৬
রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালের তৃতীয় তলায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দে র (আইসিইউ) সামনে একটি চেয়ারে গতকাল মলিন মুখে বসে ছিলেন আলতাফ হোসেন। তিনি বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় নেতা শওকত হোসেন হিরনের বড় ভাই। কিছুক্ষণ পর পর আইসিইউতে থাকা ছোট ভাইয়ের খোঁজ-খবর নেয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়া আর কিই বা আমাদের করার আছে। আপনারা সবাই আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া করুন। আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু শনিবার বিকাল থেকে আবার আশার আলো দেখতে পারছি। ডায়ালাইসিস করার পর এখন একটু ভালো। ইউরিন হয়েছে। তিনি জানালেন, সকাল ১০ টায় হাসপাতালে এসেছেন। দুপুরের খাবারের সময় ছাড়া পুরো সময়টাই বসে কাটাচ্ছেন সেখানে। রাতে শুধু ঘুমানোর জন্য শান্তিনগরের বাসায় ফিরবেন। আবার সকালে হাসপাতালে আসবেন। গতকাল দুপুরে হাসপাতালে এসেছিলেন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. রঞ্জিত খা। তিনি হিরনকে দেখে দায়িত্বরত ডাক্তার নিউরোসার্জন ডা. ম্যাথিও চান্ডির সাথে কথা বলে খোঁজ-খবর নেন। ডা. রঞ্জিত খা এই প্রতিবেদককে জানান, শুক্রবার হিরনের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। শনিবার ডায়ালাইসিস করা হয়েছে। এর পরে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। আগে কিডনি কাজ করছিল না। এখন কিডনি কাজ করছে। প্রসার ঠিক আছে। কখনো নিজে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে। কখনো সাপোর্ট নিতে হয়। এ কারণে কোন সাপোর্ট খোলা হয়নি। শরীরের তাপমাত্রাও ঠিক আছে। তবে ব্রেইন আগের মতোই আছে। কোন উন্নতি হয়নি। কিছু কিছু নার্ভ কাজ করছে। যা ভালো লক্ষণ। কতদিনে ভালো হবে এটা বলা মুশকিল। শওকত হোসেন হিরনের স্ত্রী জেবুন্নেছা আফরোজ। পুরো সময়টাই তিনি কাছাকাছি থাকছেন। থাকছেন হাসপাতালের একটি ক্যাবিনে। কাঁদতে কাঁদতে চোখ দু’টি যেন পাথর হয়ে গেছে। রাজনীতিবিদ স্বামী শওকত হোসেন হিরনের এমন আকস্মিক গুরুতর অসুস্থতা যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। ২২ মার্চ ঢাকায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মত খবর আসে তার কানে। হাস্যোজ্জ্বল জীবন সঙ্গী হিরন অসুস্থ হয়ে শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপর রাতের অন্ধকার যেন আরো ঘন হয়ে রাজত্ব গেড়ে বসে তার দু’ চোখে। একের পর এক ফোনে শুধুই দুঃসংবাদ আসে ‘ ভাবি হিরন ভাই’র অবস্থা ভাল নয়’। জেবুন্নেছা আফরোজ জানান, বিপদ যখন আসে তখন চারদিক থেকেই আসে। সেই রাতে আকাশের অবস্থা ভাল না থাকায় জরুরিভাবে হিরনকে ঢাকায় আনা সম্ভব হয়নি। সড়ক পথে যখন তাকে নিয়ে এ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় তখন থেকেই চরম উত্কণ্ঠার সময় পার হতে থাকে। ভোর রাতে যখন প্রিয় স্বামীর মুখ দেখার সুযোগ হলো তখন আর সে কথা বলছে না। অচেতন স্বামীর এমন দর্শনে চোখের জল ঝরতে শুরু করেছে জেবুন্নেচ্ছা আফরোজের। সেই থেকে অসুস্থ স্বামীর শয্যা পাশেই তার দিন রাত কেটেছে। এছাড়া মেয়ে, জামাই, ভাই বোন দিনের অধিকাংশ সময়ই কাটাচ্ছেন আইসিইউর সামনে। দেখার সুযোগ না হলেও কাছের মানুষটির কাছাকাছি থাকছেন। প্রতিমুহূর্তের খোঁজ-খবর নিতে পারছেন। হাসপাতালে নিয়মিত হিরনের পাশে থাকছেন তার পরিবারের বাইরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু। তারাই পরিবার ও চিকিত্সকদের সাথে হিরনের চিকিত্সা নিয়ে সমন্বয় করছেন। বলরাম পোদ্দার ও সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, শরীরের কয়েকটি অঙ্গ সতেজ হয়ে উঠায় আমরা আশাবাদী হয়ে উঠেছি। এর আগে দিনে দিনে তার অবস্থার অবনতি দেখে চরম হতাশ হয়েছি। এখন আল্লাহই একমাত্র ভরসা। গত ২২ মার্চ রাতে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে শওকত হোসেন হিরনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে রাতেই তাকে ঢাকায় এনে এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অপারেশন করা হলেও তার অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। ২৪ মার্চ তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। ডাক্তারের পরামর্শে সেখান থেকে ৩ মার্চ আবার ঢাকা এনে এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।