খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে মার্চ মাসে বেড়ে গেছে সার্বিক মূল্যস্ফীতি। পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে মার্চে খাদ্য পণ্যে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯৬ ভাগ। আর সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
এ উপলক্ষে গতকাল রবিবার বিবিএস ভবনে নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিবিএস মহাসচিব গোলাম মোস্তফা কামাল জানান, ব্যবসায়ীদের কারণেই মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। ইতিপূর্বে ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সেটি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তবে মূল্যস্ফীতির বর্তমান হারকে নগণ্য মন্তব্য করে তিনি বলেন, এতে জনজীবনে কোনো প্রভাব পড়বে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে চাল, ডাল, তেল, আটা, শাক-সবজি, ফল, মসলা, দুধ ও অন্যান্য খাদ্য দ্রব্যের দাম বেড়েছে। এ কারণে ফেব্রুয়ারি মাসের চেয়ে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে দশমিক ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে পরিধেয় বস্ত্র, বাড়ি ভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, চিকিত্সা সেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ ও অন্যন্য সেবার দাম ফেব্রুয়ারির তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। সবকিছু মিলে মার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশে। গত বছরের মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হার হিসেব করা হয়। ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতির অর্থ হলো এক বছরে পণ্যমূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৪৮ ভাগ। এক বছর আগে ১০০ টাকায় যে পণ্য পাওয়া যেতো এখন তা কিনতে ১০৭ টাকা ৪৮ পয়সা লাগবে।
বিবিএস জানায়, মার্চ মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশে। ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্যমূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৮৪। আর জানুয়ারি মাসে ছিল ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে এর হার ছিল ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আর জানুয়ারি মাসে ছিল ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, পল্লী অঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২১ শতাংশে। আগের মাসে এর হার ছিল ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। গ্রামে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশে। আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
শহরের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীেতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
