দিল্লিতে সরকার বদলে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৪
নয়াদিল্লীতে সরকার পরিবর্তন হলেও ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কে কোন প্রভাব পড়বে না। বাংলাদেশের প্রতি ভারতের নীতি ও স্বার্থ অক্ষুণ্ন থাকবে। কারণ প্রতিবেশী হিসাবে আমাদের একসঙ্গে টিকে থাকতে ও অগ্রগতি অর্জন করতে হবে। কথাগুলো বললেন বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। গতকাল সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্ক বিষয়ে এক লেকচার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস্) এই লেকচারের আয়োজন করে। বিস-এর বোর্ড অব গভর্নরস-এর চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের মুক্ত আলোচনায় কূটনীতিক, গবেষক, লেখক, নীতি নির্ধারকরা অংশ নেন। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সময়ের পরিবর্তন হলেও কোন দেশের স্বার্থ ও নীতির বদল হয় না। বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি খুবই দৃঢ় ও শক্তিশালী স্বার্থ ও নীতির আলোকে কি করণীয় তা নির্দিষ্ট করা আছে। কেবল ভারতেই সরকার পরিবর্তন নয়, বাংলাদেশে কোন্ সরকার আছে, তা বিবেচ্য নয়। ভারতের নীতি অক্ষুণ্ন থাকবে। পঙ্কজ শরণ ঝুলে থাকা তিস্তা নদীর পানি চুক্তি ও সীমান্ত প্রটোকল ইস্যু প্রসঙ্গে বলেন, এদুটি বিষয়ে বাংলাদেশে নেতিবাচক মনোভাব বিরাজ করছে। কিন্তু এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় আমরা মর্মাহত। আর সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন না হওয়া দুঃখজনক। তবে ভারতের পার্লামেন্টে এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারকে নিয়ে নতুন অর্থনৈতিক করিডোর বিষয়ে ভারত খুবই আন্তরিক। ভারত সবদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ইস্যুতে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যতা থাকলেও বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। বাংলাদেশের রপ্তানি কম হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেশি হচ্ছে। তাই রপ্তানি বাড়াতে হবে। এজন্য ভারত সহায়তা দিবে। তিনি আরো বলেন, সরকারি ও রাজনৈতিক সম্পর্কের বাইরে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সংযোগ ও সম্পর্ক আরো বাড়ানো এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। একে অপরকে জানা ও বোঝা দরকার। ভারত চায় একটি শক্তিশীলী, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এটা কেবল বাংলাদেশের স্বার্থে নয়, ভারত ও এ অঞ্চলের স্বার্থেও প্রয়োজন। নিরাপত্তা ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়লে সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয় না। এটা সার্বিক স্বার্থে প্রয়োজন।