আগামী মে মাস নাগাদ আন্তর্জাতিক মুদ্রাতহবিলের (আইএমএফ) বর্ধিত ঋণ সুবিধার (ইসিএফ) চতুর্থ কিস্তির অর্থ পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আইএমএফ এর বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মার্চের ১৯ থেকে ২ এপ্রিল আইএমএফ এর প্রতিনিধি রডরিগো কুবেরা’র নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেন। এসময় তারা অর্থমন্ত্রী, গভর্নরসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। সফরশেষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আইএমএফ গতকাল এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে, গত জানুয়ারি মাসে নির্বাচনকে ঘিরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিলো তার প্রভাবে আমদানি, রেমিটেন্স, কর আদায়সহ ব্যাংক ঋণ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রবৃদ্ধির হার চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ ৬ শতাংশের নিচে নেমে যাবে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে দেশের প্রবৃদ্ধির হার ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পুনরায় ৬ শতাংশের উপরে উঠে আসবে বলে আইএমএফ আশা করছে।
আইএমএফ উল্লেখ করেছে, সমপ্রতি অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ভালো ছিলো। সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো সঠিক পথেই এগিয়েছে। সেইসাথে বিভিন্ন কাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে। ফলে আইএমএফ বর্ধিত ঋণ সুবিধার (ইসিএফ) কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। আইএমএফ আশা করছে আগামী মে মাস নাগাদ ৯ কোটি ১৪ লাখ এসডিআর বা ১৪ কোটি ৫ লাখ ডলারের সমপরিমাণ সহায়তা বাংলাদেশের অনুকূলে ছাড় করা হবে। এর আগে তিন কিস্তিতে ৪০ কোটি ৯৭ লাখ ডলার ছাড় করে সংস্থাটি। সবমিলিয়ে ৭ কিস্তিতে বাংলাদেশকে বর্ধিত ঋণ সহায়তার আওতায় ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের সমপরিমাণ সহায়তা দেবে সংস্থাটি। সুদ মুক্ত এ ঋণ দশ বছরে বাংলাদেশেকে পরিশোধ করতে হবে। অবশ্য এর জন্য চার খাত সংস্কারে ন্যূনতম ১৭টি কঠিন শর্ত বেঁধে দিয়েছে সংস্থাটি। সরকার পর্যায়ক্রমে শর্তগুলো পূরণ করছে।
গতকাল আইএমএফ এর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার চলতি এবং আগামী অর্থবছরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরো শক্তিশালী করতে অঙ্গিকারাবদ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে, কর অব্যাহতির সুযোগ কমিয়ে আনা, কর ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণসহ নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া যে সব প্রকল্পে সর্বোচ্চ সামাজিক প্রতিদান পাওয়া যাবে, সে প্রকল্পগুলোর ব্যয়ে অগ্রাধিকার প্রদান করবে। সরকারের কঠিন শর্তের ঋণ গ্রহণের বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীক পরিবেশের উন্নতি হচ্ছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নতির জন্য উন্নয়ন সহযোগী, ব্যবসায়ীসহ বায়ারদের সাথে একযোগে কাজ করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
